নারায়ণগঞ্জের সিভিল সার্জনসহ তিন চিকিৎসক করোনায় আক্রান্ত


❏ শনিবার, এপ্রিল ১১, ২০২০ আলোচিত বাংলাদেশ

সময়ের কণ্ঠস্বর, নারায়ণগঞ্জ- নারায়ণগঞ্জ সিভিল সার্জন ডা. মুহাম্মদ ইমতিয়াজ করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে আইসোলেশনে রয়েছেন। আজ শনিবার দুপুরে আইইডিসিআর থেকে পাঠানো তার নমুনা পরীক্ষার রিপোর্টে করোনাভাইরাস পজেটিভ জানানো হয়।

ডা. মুহাম্মদ ইমতিয়াজ জেলা করোনাভাইরাস প্রতিরোধ কমিটির সদস্য সচিব। রিপোর্ট আসার আগে থেকেই তিনি শারীরিক অসুস্থতাবোধ করে হোম কোয়ারেন্টিনে ছিলেন।

এদিকে সিভিল সার্জন ছাড়াও একইদিন করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন শহরের খানপুরে অবস্থিত ৩০০ শয্যার নারায়ণগঞ্জ হাসপাতালের এক চিকিৎসক ও বেসরকারি একটি হাসপাতালের এক চিকিৎসকও।

এর আগে করোনায় আক্রান্ত হন জেলা করোনাবিষয়ক ফোকাল পারসনের দায়িত্বে থাকা নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা জাহিদুল ইসলাম। তিনি নিজের বাড়িতে আইসোলেশনে আছেন।

জেলা সিভিল সার্জন অফিস সূত্রে জানা গেছে, বৃহস্পতিবার থেকে জেলা সিভিল সার্জন ইমতিয়াজ বাড়িতে কোয়ারেন্টিনে রয়েছেন। তিনি টেলিফোনে বিভিন্ন দিকনির্দেশনা দিচ্ছেন। শুক্রবার পরীক্ষায় তাঁর করোনা ‘পজিটিভ’ আসে।

জেলা সিভিল সার্জন ইমতিয়াজ করোনায় আক্রান্ত হওয়ায় ভারপ্রাপ্ত হিসেবে এই দায়িত্ব পালন করবেন নারায়ণগঞ্জ শহরের মণ্ডলপাড়ায় অবস্থিত ১০০’ শয্যার নারায়ণগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা (আরএমও) আসাদুজ্জামান।

৩০০ শয্যার নারায়ণগঞ্জ হাসপাতালের আরএমও সামসুদ্দোহা সঞ্জয় বলেন, তাঁর হাসপাতালের ৪২ বছর বয়সী এক চিকিৎসক করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন। তিনি ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের চিকিৎসকদের তত্ত্বাবধানে বাড়িতে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। তাঁকে চিকিৎসকেরা কুর্মিটোলা হাসপাতালে নেওয়ার জন্য পরামর্শ দিয়েছেন। এ ছাড়া শহরের সিটি লাইফ হাসপাতালের একজন চিকিৎসক (৪৫) পরীক্ষায় করোনা ‘পজিটিভ’ হয়েছেন। তাঁকে অ্যাম্বুলেন্সযোগে কুয়েত মৈত্রী হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) নাহিদা বারিক বলেন, ‘ডা. মুহাম্মদ ইমতিয়াজ একজন দ্বায়িতশীল মানুষ। তার করোনার নমুনা পরীক্ষায় পজেটিভ এসেছে। যার জন্য তিনি আইসোলেশনে আছেন। এ নিয়ে ভয় পাওয়ার কিছু নেই। কারণ করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হলেই কেউ মারা যায় না। তবে তিনি ফোনে সব দিক নির্দেশনা ও কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন। তিনি অনেকটাই সুস্থ আছেন।’

এদিকে নারায়ণগঞ্জের জেলা প্রশাসক জসিম উদ্দিন তাঁর বাংলাতে কোয়ারেন্টিনে আছেন। তিনি জেলা করোনা প্রতিরোধ কমিটির সভাপতির দায়িত্বে আছেন।

জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, জেলা প্রশাসক জসিম উদ্দিন আগে থেকেই কোয়ারেন্টিনে আছেন। তিনি নিজের বাংলোতে অবস্থান করছেন। অফিসে আসছেন না। অবশ্য, তাঁর করোনা পরীক্ষার ফল ‘নেগেটিভ’ আসে বলে জানানো হয়।

প্রসঙ্গত, নারায়ণগঞ্জকে ক্লাস্টার এরিয়া, হটস্পট হিসেবে চিহ্নিত করেছে আইইডিসিআর। করোনার প্রকোপ বৃদ্ধি পাওয়ায় ৭ এপ্রিল নারায়ণগঞ্জ জেলাকে লকডাউন ঘোষণা করা হয়।