সংবাদ শিরোনাম
  • আজ ২৫শে বৈশাখ, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ

‘হাওরে ধান কাটলেই ত্রাণ’

১২:২২ পূর্বাহ্ন | রবিবার, এপ্রিল ১২, ২০২০ সিলেট
dc

সুনামগঞ্জ প্রতিনিধিঃ করোনাভাইরাস আতঙ্কে জমিতে ধান কাটতে আগ্রহ নেই শ্রমিক। বাইরের শ্রমিকরাও গত দুই দশক আগ থেকেই আসছেন না। কিন্তু হাওরে পাকা ধানের এক অন্যরকম গন্ধ ছড়াচ্ছে। বছরের একমাত্র ফসলের এই অবস্থা প্রত্যক্ষ করে পাকা ধান নিয়ে চোখে অন্ধকার দেখছেন হাওরের তিন লাখ বোরো চাষী।

এই অবস্থা প্রত্যক্ষ করে সুনামগঞ্জ জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ আব্দুল আহাদ শুক্রবার রাতে ধানকাটা শ্রমিকদের উৎসাহিত করতে যারা হাওরে ধান কাটতে আসবেন তাদেরকে রিলিফের আওতায়ও আনা হবে বলে গণবিজ্ঞপ্তি প্রচার করেছেন।

এছাড়াও হাওরের স্থানীয় কৃষকদের ধান কাটতে স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদের নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিদের মাইকিং করার নির্দেশনা দিয়েছেন। এছাড়াও জেলার সকল বালু ও পাথর মহালে কাজ বন্ধ রেখে সেখানকার শ্রমিকসহ জেলার রিক্সাচালক, ভ্যান চালক, ঠেলাগাড়ি চালকসহ শ্রমজীবীদের ধান কাটায় পাঠানোর আহ্বান জানিয়েছেন।তিনি ইতোমধ্যে তিনি ধান কাটার সুবিধার্থে হাওরের সকল বিদ্যালয়কে সামাজিক দূরত্ব মেনে রাতে শ্রমিকদের থাকতে স্কুল ব্যবহারের অনুমতি দিয়েছেন।

জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ আব্দুল আহাদের এমন ঘোষণায় শ্রমিকরা ধান কাটতে উৎসাহিত হবে বলে মনে করছেন হাওরের কৃষক ও সুধীজন।

জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ আব্দুল আহাদ বলেন, এই জেলা এক ফসলি জেলা। ফসলের জন্য বড় বাজেট দিয়ে বাঁধের কাজও ভালোভাবে সম্পন্ন হয়েছে। এখন ফসল তোলার মওসুম। কিন্তু করোনার কারণে এক আতঙ্ক বিরাজ করছে। তাই শ্রমিক সংকট প্রকট হয়েছে। আমরা চাই কৃষকের শ্রমঘামের ফসল গোলায় উঠুক।

মাননীয় প্রধানমন্ত্রী হাওরের প্রতি ভীষণ আন্তরিক। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে এ ব্যাপারে নানা নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। এই অবস্থায় ধানকাটার শ্রমিকদের রাতে থাকার ব্যবস্থার জন্য স্কুল ব্যবহারের পাশাপাশি আমরা তাদেরকে ত্রাণ দেওয়ারও সিদ্ধান্ত নিয়েছি।

সুনামগঞ্জ কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে জেলায় এ বছর ছোট বড় মিলিয়ে প্রায় দেড় শতাধিক হাওরে ২ লাখ ১৯ হাজার ৪০০ হেক্টর বোরো লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। এর মধ্যে অর্জিত হয়েছে ২ লাখ ১৯ হাজার ৩০০ হেক্টর। বিআর ২৮, ২৯ সহ হ্ইাব্রীড, উফশীসহ কিছু স্থানীয় জাতের ধানও আবাদ হয়েছে।

এবার ৫২টি হাওরের ফসলরক্ষার জন্য ৬৪০ কি.মি ফসলরক্ষা বাধ নির্মাণ, সংস্কার করেছে পানি উন্নয়ন বোর্ড। সরকার প্রাথমিক ৬৯ কোটি টাকা বরাদ্দ দিলেও পানি উন্নয়ন বোর্ড ১৩২ কোটি টাকার মোট বাজেট চেয়েছে। এখন হাওরের ফসল কাটার মওসুম। আগামী ১৪ এপ্রিল থেকে প্রতিটি হাওরে একযোগে ধানকাটার ধুম পড়বে।