🕓 সংবাদ শিরোনাম
  • আজ বুধবার, ২৯ বৈশাখ, ১৪২৮ ৷ ১২ মে, ২০২১ ৷

করোনা সংক্রমণ রোধে যেসব দিক নির্দেশনা দিলেন প্রধানমন্ত্রী

❏ রবিবার, এপ্রিল ১২, ২০২০ ফিচার
pmm

রাজু আহমেদ, ষ্টাফ রিপোর্টারঃ বৈশ্বিক এই মহাদুর্যোগ ও সংকটে নতুন করে করোনাভাইরাস সংক্রমণ রোধের লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় নানা ব্যবস্থা নিতে দিকনির্দেশনা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। ১২ এপ্রিল (রবিবার) গণভবনে থেকে করোনা পরিস্থিতি নিয়ে ভিডিও কনফারেন্সে বরিশাল ও খুলনা বিভাগের জেলা প্রশাসকদের সঙ্গে মতবিনিময়ের সময় প্রধানমন্ত্রী এই নির্দেশনা দেন।

বর্তমান পরিস্থিতিতে করোনাভাইরাস সংক্রমণ রুখতে বড় মাঠে দূরত্ব বজায় রেখে নিত্যপণ্য বিক্রির ব্যবস্থা করার জন্য সংশ্লিষ্টদের নির্দেশ দিয়েছেন তিনি। এসময় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীসহ সকলকে অনুরোধ করে তিনি বলেন, আমাদের আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী, আমাদের প্রশাসনের সঙ্গে যারা আছেন তারা এবং স্বাস্থ্যকর্মীরা যারা আছেন-সবাই মিলে পরিকল্পনা করে যদি সবকিছু করেন, তবে মানুষের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা পরিচালনা করা সহজ হবে। সেই ব্যবস্থাটা আপনারা নিতে পারেন।’

নিত্যপ্রয়োজনীয় (কাঁচা বাজার সংশ্লিষ্ট) পণ্যগুলো যথাযথ জায়গায় পৌঁছে বাজারজাত করার ব্যবস্থা করে দিতে সহায়তা করুন। ‘বাজারে যাওয়ার সময় অবশ্যই দূরত্বটা বজায় রাখতে হবে। যেখানে হাট হয় সেই হাট-বাজার সম্পূর্ণ বন্ধ না রেখে কোনো বড় মাঠ দেখে সুনির্দিষ্ট জায়গা চিহ্নিত করে দূরত্ব বজায় রেখে সপ্তাহে অন্তত একদিন কেনাবেচার সুযোগ করে দিতে হবে।’

শেখ হাসিনা আরো বলেন, ‘একটা খোলা মাঠে দূরত্বটা বজায় রেখে যার যার পণ্য নিয়ে বসবে। সবাই সেখান থেকে কিনে নিয়ে চলে যাবে। অনেক মানুষের ভিড় যেন না হয়। সেই বিষয়ে আপনারা বিশেষভাবে দৃষ্টি দেবেন, সেটি আমি অনুরোধ জানাচ্ছি।’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘কোভিড-১৯-এর চিকিৎসায় ব্যবহৃত পিপিই, মাস্ক বা যেসব চিকিৎসা সরঞ্জাম ব্যবহার করা হয়, সেগুলো জীবাণুমুক্ত রাখা এবং এই বর্জ্য ব্যবস্থাপনার জন্য বিশেষ পদক্ষেপ নিতে হবে। প্রশাসনের সকল কর্মকর্তা, স্বাস্থ্য অধিদফতর বা স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের যারা কর্মরত আছেন ও স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় এ ব্যাপারে যথাযথ ব্যবস্থা নেবে। বর্জ্য ব্যবস্থাপনার জন্য বিশেষ উদ্যোগ নিতে হবে। যাতে এটা থেকে কোনো রকম এ রোগের প্রাদুর্ভাব না ছড়াতে পারে। সেদিকে লক্ষ্য রাখতে হবে।’

বর্তমানে আমরা দেখছি, অনেকে সরকারি নির্দেশনা অমান্য করে করোনাভাইরাসের সংক্রমণ নিয়ে এক স্থান থেকে অন্য স্থানে গিয়ে ভাইরাসের সংক্রমণ ছড়াচ্ছেন। এর ফলে সে স্থানে এটি ছড়িয়ে পড়ছে, মানুষ এর মাধ্যমে আক্রান্ত হচ্ছেন। এটি আপাতত বন্ধ রাখতে এক জেলা থেকে অন্য জেলায় যাওয়া বন্ধ রাখতে হবে। সংকটময় সময়টি নিজের বাড়িতে থেকে পরিবারের সঙ্গে সময় দেন।

শেখ হাসিনা বলেন, চলমান পরিস্থিতিতে কেউ শ্বশুরবাড়ি বা আত্মীয়ের বাড়িতে যাওয়া আপাতত বন্ধ রাখতে হবে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে তারপর যেতে পারবেন। বর্তমানে স্থানান্তর হওয়া যাবে না। এজন্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে আরও কঠোরভাবে পর্যবেক্ষণ করতে হবে।

যেউ যাতে এক স্থান থেকে অন্য স্থানে না যেতে পারে, সে বিষয়টি কঠোরভাবে নজরদারিতে রাখার নির্দেশ দেন প্রধানমন্ত্রী।

তিনি বলেন, বাইরের সব অনুষ্ঠান বন্ধ করতে হবে। আপনারা ঘরে বসে উৎসব করুন, রেডিও টেলিভিশন ও সোশ্যাল মিডিয়ার মাধ্যমে করেন বা নিজেদের পরিবার নিয়ে উৎসব করেন। কিন্তু কোনোভাবেই কোনো ধরনের লোকসমাগম করবেন না। পহেলা বৈশাখের সব অনুষ্ঠান বন্ধ থাকবে।