• আজ বৃহস্পতিবার, ৩০ বৈশাখ, ১৪২৮ ৷ ১৩ মে, ২০২১ ৷

লকডাউনের ফলে বিশ্বজুড়ে দুর্ভিক্ষ হতে পারে, জাতিসংঘের সতর্কবার্তা


❏ সোমবার, এপ্রিল ১৩, ২০২০ আন্তর্জাতিক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক- করোনাভাইরাস মহামারির কারণে বিশ্বজুড়ে শত শত কোটি মানুষ এখন কাজকর্ম ছেড়ে ঘরে বসে আছে। এর ফলে এই পৃথিবীর গতিবিধিও বদলে গেছে।

কারণ, মানুষ বাইরে যাচ্ছেনা বলে গাড়ি-ট্রেন চলছে খুবই কম, লাখ লাখ ভারি শিল্প-কারখানা এখন বন্ধ। আর এর ফলে, ভূ-পৃষ্টের ওপর চাপ কমে গেছে অনেক। ফলে পৃথিবী কাঁপছে কম। পৃথিবীর ওজন ছয় বিলিয়ন ট্রিলিয়ন টন। সেই বিবেচনায় এই পরিবর্তন বিস্ময়কর।

এমন পরিস্থিতিতে খাদ্য সংকটের কারণে বিশ্বজুড়ে দুর্ভিক্ষ দেখা দিতে পারে বলে আশঙ্কা করছে জাতিসংঘ। সংস্থাটি বলছে, করোনায় সৃষ্ট ভয়ংকর মহামারি রুখতে বিশ্বজুড়ে যেভাবে লকডাউন জারি করা হয়েছে, এর জেরেই অনভিপ্রেত খাদ্য সংকট তৈরি হতে পারে।

করোনা আতঙ্কের জেরে বিশ্বের বহু দেশে সম্পূর্ণরুপে লকডাউন চলছে। বন্ধ আন্তর্জাতিক সীমান্তও। আকাশপথ পুরোপুরি বন্ধ, ব্যবসা বাণিজ্যেও হাড়ির হাল।

জাতিসংঘ বলছে, খাবারের অভাব এখনই তৈরি হয়নি। কিন্তু লকডাউনের জেরে যেভাবে ব্যবসা-বাণিজ্য, উৎপাদন এবং পরিবহণ বন্ধ হয়ে পড়েছে, তাতেই সংকট সৃষ্টির সম্ভাবনা।

এর জেরে বিশ্বজুড়ে খাদ্য সরবরাহ বিঘ্নিত হতে পারে বলে সংস্থাটির আশঙ্কা। জাতিসংঘ বলছে, ‘এর ফলে যে সমস্ত দেশে উপযুক্ত পরিমাণ খাদ্য উৎপাদন হয় না, যাদের খাদ্যের জন্য অন্য দেশের উপর নির্ভর করতে হয়, সেই সমস্ত দেশ চরম সমস্যায় পড়তে পারে।’

‘শুধু তাই নয়, যে সমস্ত দেশ উপযুক্ত পরিমাণ খাদ্য তৈরি করতে পারে, তাদেরও সমস্যায় পড়তে হতে পারে। আন্তঃরাজ্য সীমান্ত সিল করার দরুন সেই দেশগুলোতেও খাদ্য সরবরাহের শৃঙ্খল নষ্ট হতে পারে। এই দেশগুলোর কাছে আসল চ্যালেঞ্জ হলো, মজুত খাদ্য অভুক্তদের কাছে পৌঁছে দেওয়া’, বলছে সংস্থাটি।

এদিকে, বিশ্বব্যপী প্রায় ৮০ কোটি মানুষ ইতিমধ্যেই খাদ্য সংকটে ভুগছেন বলে একটি সমীক্ষায় বলা হয়েছে। জাতিসংঘের ধারণা, আগামী দিনে এই সংখ্যাটা আরও বাড়তে পারে।

খাদ্যের এই সংকটে গরিব ও প্রান্তিক শ্রেণির মানুষ সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত হবে আশঙ্কার কথা জানিয়ে জাতিসংঘের খাদ্য সুরক্ষা সংক্রান্ত কমিটি বলছে, এই উদ্ভূত সংকট থেকে রক্ষা পেতে দ্রুত বিশ্বজুড়ে খাদ্য পরিবহণের ব্যবস্থা করা উচিত।