ঘরে থাকবেন নাকি কবরে যাবেন, সিদ্ধান্ত আপনার: বেনজীর আহমেদ

৩:৫৪ অপরাহ্ন | সোমবার, এপ্রিল ১৩, ২০২০ জাতীয়

সময়ের কণ্ঠস্বর, ঢাকা- করোনার বিস্তার ঠেকাতে সরকারের পক্ষ থেকে বারবার শারীরিক দূরত্ব বজায় রাখার কথা বলা সত্ত্বেও অনেকেই তা লঙ্ঘন করছেন। এমন অবস্থায় সাধারণ মানুষকে ঘরের থাকার আহ্বান জানিয়ে কঠোর আইন প্রয়োগের হুঁশিয়ারি দিয়েছেন র‍্যাবের বিদায়ী মহাপরিচালক বেনজীর আহমেদ।

তিনি বলেছেন, ‘আপনারা সবাই ঘরে থাকুন, বাইরে বের হবেন না। নিজেরা সচেতন না হলে আমরা কঠোর আইন প্রয়োগ করব। এখন সিদ্ধান্ত আপনার; ঘরে থাকবেন নাকি জেলে যাবেন, নাকি কবরে যাবেন।’

সোমবার দুপুরে অনলাইনে র‌্যাব থেকে বিদায়ের আগে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন বেনজীর আহমেদ।

আগামী বৃহস্পতিবার তিনি পুলিশের নতুন মহাপরিদর্শক (আইজিপি) হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের কথা রয়েছে। এর আগে ৮ এপ্রিল তাকে আইজিপি হিসেবে নিয়োগ দেয় সরকার। দীর্ঘ পাঁচবছরের বেশি সময় সুনামের সঙ্গে র‌্যাব প্রধানের দায়িত্ব পালন করেন বেনজীর।

সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে বেনজীর আহমেদ বলেন, ‘আমরা সবসময় বুঝিয়ে মানুষকে ঘরে রাখতে পারব না। যদি নিজেরা সচেতন না হয়। আইনশৃঙ্খলাবাহিনী এলাকায় এলাকায় গেলে মানুষ ঘরে চলে যায়। আমরা চলে এলে রাস্তা, চায়ের দোকানে মানুষ আড্ডা দিতে থাকে। এটা ঠিক না। করোনা বিপদ আমাদের সবার। সরকার ছুটি দিয়েছে, ত্রাণ দিচ্ছে মানুষকে ঘরে থাকার জন্য। তাই সবাই আরো সচেতন হবো।’

যদি সরকার চায় তাহলে আমরা সাধারণ মানুষকে আইন প্রয়োগ করে জেলে দিতে বাধ্য হবো বলেন নতুন পুলিশ প্রধান।

তিনি বলেন, সবাই ঘরে থাকবেন আর কেউ কেউ বাইরে থাকবেন এটা হতে দেয়া হবে না। ন্যূনতম প্রয়োজনে বাইরে যাওয়া, আড্ডা দেয়া ও অনর্থক ঘোরাঘুরি না করতে সবাইকে অনুরোধ জানান তিনি।

বিদায়ী র‌্যাব মহাপরিচালক বলেন, বৈশ্বিক মহামারি করোনাভাইরাসের হুমকি ধনী-গরিব সবার জন্য সমান। তাই সর্ব সাধারণের জন্য অনুরোধ থাকবে, এই ক্রাইসিসের (সংকটের) মধ্যে নিজের কথা ভাবুন, দেশের কথা ভাবুন, পরিবারের কথা ভাবুন, শারীরিক দূরত্ব বজায় রাখুন। এই দায়িত্ব কেবল একার নয়, সবার।

এসময় করোনার দুর্যোগে ত্রাণ-সামগ্রী সহায়তার নামে লুটপাটকারীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘অত্যন্ত দুঃখের সঙ্গে বলতে হচ্ছে, দেশ জাতি যখন করোনার মহামারিতে বিপর্যস্ত তখনও দেখা যাচ্ছে কেউ কেউ ত্রাণ-সামগ্রী লুটপাটের চেষ্টা করছে। তাদের উদ্দেশ্যে আমার স্পষ্ট বার্তা ত্রাণ নিয়ে নয়-ছয় বরদাস্ত করব না। কঠোরভাবে দমন করা হবে।’

র‍্যাবের ডিজি বলেন, আবার কেউ কেউ এক সের চাল দিতে গিয়ে ২০ জন মানুষকে একত্রিত করে। যাদের সাহায্যের প্রয়োজন তাদের বাড়ি বাড়ি গিয়েও দিয়ে আসা যায়। এতে শৃঙ্খলা থাকে। লোকসমাগম করার তো দরকার নাই।