• আজ ২৬শে বৈশাখ, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ

ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ থেকে রংপুরে আসছে অসংখ্য মানুষ, বাড়ছে করোনার ঝুঁকি

❏ সোমবার, এপ্রিল ১৩, ২০২০ দেশের খবর, রংপুর

সাইফুল ইসলাম মুকুল, রংপুর প্রতিনিধি- সরকারি নিষেধাজ্ঞা অমান্য ও রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশ ট্রাফিকের উদাসীনতায় ট্রাকে করে রংপুরে আসছে করোনা আক্রান্ত জেলা নারায়ণগঞ্জ, ঢাকাসহ বিভিন্ন জেলার অসংখ্য মানুষ।

ঢাকা ও নারায়ণগঞ্জে করোনা ভাইরাস ছড়িয়ে পড়ায় সেখানে বিভিন্ন গার্মেন্টস ফ্যাক্টরিসহ বিভিন্ন স্থানে কর্মরত ছিলেন তারা। এ অঞ্চলের নারী-পুরুষ গোপনে মালবাহী ট্রাক, অ্যাম্বুলেন্স মাইক্রোবাস, কাভার্ডভ্যানসহ বিভিন্নভাবে তাদের বাড়িতে আসছেন।

রংপুরের মিঠাপুকুর, কাউনিয়া, গঙ্গাচড়া, পীরগঞ্জ, পীরগাছা ও রংপুর নগরীতে গত কয়েকদিনে সহস্রাধিক মানুষ ওই সব এলাকা থেকে এসেছে বলে এলাকাবাসী ও প্রশাসনের বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে। যারা আসছেন তারা হোম কোয়ারেন্টিনে না থেকে অবাধে ঘোরাফেরা করছেন। তাই রংপুর ও এর পাশের জেলাগুলোতে করোনা আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। বিশেষ করে গ্রামাঞ্চলে করোনা মহামারী আকারে ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা করছেন চিকিৎসক ও এলাকাবাসী।

জানা গেছে, ৯ এপ্রিল বৃহস্পতিবার রাত ৮ টার দিকে ঢাকা নারায়নগঞ্জ থেকে ছেড়ে আসা একটি ট্রাকে (ঢাকা মেট্রা-ট ১৪-২২২২) করে ৪৬ জন ব্যক্তি লালমনিরহাটের হাতিবান্ধা থানার গুড্ডিমারী গ্রাম, চেংমাড়ী গ্রামের লোকজন ট্রাকে করে রংপুর নগরীর শাপলা চত্বর পুলিশ চেকপোষ্ট দিয়ে যাচ্ছিলো। ট্রাক টিকে দায়িত্বে থাকা কয়েকন ট্রাফিক সদস্য আটক করলেও জিজ্ঞাসাবাদ ও কাগজ পত্র দেখে অজ্ঞাত কারণে ছেড়ে দেয়া হয়। বিষয়টি নিয়ে নগরবাসীর মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে।

এ ব্যাপারে মেট্রোপলিটন পুলিশের ট্রাফিক বিভাগের সহকারী কমিশনার ইমরান হোসেনের কাছে জানতে চাইলে তিনি কোন কথা বলতে রাজি হননি। উল্টো তিনি সাংবাদিকদের কাছে এ ব্যাপারে কি তথ্য আছে তা জানতে চান?

এ ব্যাপারে রংপুর মহানগর কমিউনিটি পুলিশের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক নজরুল ইসলাম রাজু, যে হারে করোনা আক্রান্ত এলাকা থেকে মানুষজন আসছে এটা বন্ধ করা না গেলে ভয়াবহ বিপদে পড়তে হবে। যারা চলেই আসছে তাদের বাসার মধ্যে থাকতে অনুরোধ করা হচ্ছে।

রংপুরের সিভিল সার্জন ডা. হিরম্ব কুমার রায় বিষয়টি স্বীকার করে বলেন, আমরাও খবর পাচ্ছি করোনা আক্রান্ত নারায়ণগঞ্জ ও ঢাকা থেকে বেশ কিছু মানুষ তাদের বাড়িতে এসেছেন। এটা চরম উদ্বেগের বিষয়। কারণ তাদের অনেকেই হোম কোয়ারেন্টিনে থাকতে চাইছেন না। তবে পুলিশ এলাকাবাসী উপজেলা প্রশাসন সজাগ দৃষ্টি রাখছে। আমাদের স্বাস্থ্যকর্মীরাও বাড়িতে গিয়ে তাদের বাসায় বাইরে বের না হবার আহ্বান জানাচ্ছেন।

অপরদিকে জেলা প্রশাসক আসিব আহসান বলেন, গত দুদিনে রংপুরে হোম কোয়ারেন্টিনে দুই শ’রও বেশি মানুষ অবস্থান নিয়েছেন। তাদের বেশির ভাগই ঢাকা ও নারায়ণগঞ্জ থেকে এসেছেন। এর বাইরেও অনেকে এসেছেন। তাদের আমরা সন্ধান করছি। এলাকাবাসীও আমাদের সহযোগিতা করছেন। আশা করি সবাইকেই আমরা হোম কোয়ারেন্টিনের আওতায় আনবো।