করোনোয় বিশ্বজুড়ে দুর্ভিক্ষের আশঙ্কা

❏ সোমবার, এপ্রিল ১৩, ২০২০ আন্তর্জাতিক

আন্তর্জাতিক ডেস্কঃ বিশ্বব্যাপী তাণ্ডব চালিয়ে যাচ্ছে করোনাভাইরাস। যার এখনো কোনো নির্দিষ্ট ওষুধ তৈরি হয়নি। এ কারণে অনেক দেশে চলছে লকডাউন। আর এ পরিপ্রেক্ষিতে বিশ্বজুড়ে খাদ্য সংকটের কারণে দুর্ভিক্ষ দেখা দিতে পারে। এমনটাই আশঙ্কা করছে জাতিসংঘ।

করোনায় সৃষ্ট ভয়ংকর মহামারী রুখতে বিশ্বজুড়ে যেভাবে লকডাউন জারি করা হয়েছে, এর জেরেই অনভিপ্রেত খাদ্য সংকট তৈরি হতে পারে বলে আশঙ্কা জাতিসংঘের।

জাতিসংঘ বলছে, খাবারের অভাব এখনই তৈরি হয়নি। কিন্তু লকডাউনের জেরে যেভাবে ব্যবসা-বাণিজ্য, উৎপাদন এবং পরিবহন বন্ধ হয়ে পড়েছে, তাতেই সংকট সৃষ্টির সম্ভাবনা। করোনা আতঙ্কের জেরে বিশ্বের বহু দেশে সম্পূর্ণরুপে লকডাউন চলছে।বন্ধ আন্তর্জাতিক সীমান্ত। আকাশপথ পুরোপুরি বন্ধ, ব্যবসা বাণিজ্যেও খারাপ যাচ্ছে।

জাতিসংঘের আশঙ্কা, এর জেরে বিশ্বজুড়ে খাদ্য সরবরাহ বিঘ্নিত হতে পারে। যার ফলে যে সমস্ত দেশে উপযুক্ত পরিমাণ খাদ্য উৎপাদন হয় না, যাদের খাদ্যের জন্য অন্য দেশের উপর নির্ভর করতে হয়, সেই সমস্ত দেশ চরম সমস্যায় পড়তে পারে। শুধু তাই নয়, যে সমস্ত দেশ উপযুক্ত পরিমাণ খাদ্য তৈরি করতে পারে, তাঁদেরও সমস্যায় পড়তে হতে পারে।

আন্তঃরাজ্য সীমান্ত সিল করার দরুন সেই দেশগুলিতেও খাদ্য সরবরাহের শৃঙ্খল নষ্ট হতে পারে।এই দেশগুলির কাছে আসল চ্যালেঞ্জ হল, মজুত খাদ্য অভুক্তদের কাছে পৌঁছে দেয়া।

একটি সমীক্ষা বলছে, বিশ্বব্যপী প্রায় ৮০ কোটি মানুষ ইতিমধ্যেই খাদ্য সংকটে ভুগছেন।

জাতিসংঘের ধারণা, আগামী দিনে এই সংখ্যাটা আরও বাড়তে পারে।

জাতিসংঘের খাদ্য সুরক্ষা সংক্রান্ত কমিটির আশঙ্কা, খাদ্যের এই সংকটে সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত হবে গরিব ও প্রান্তিক শ্রেণির মানুষ। এই উদ্ভুত সংকট থেকে রক্ষা পেতে দ্রুত বিশ্বজুড়ে খাদ্য পরিবহণের ব্যবস্থা করা উচিত বলে মনে করছে জাতিসংঘের ওই কমিটি।

বিশ্বব্যাপী করোনা ভাইরাসে এখন পর্যন্ত আক্রান্ত হয়েছেন ১৮ লাখ ৫৩ হাজার ১৫৫ জন। এতে আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন ১ লাখ ১৪ হাজার ২৪৫ জন।

এছাড়া ভাইরাসটিতে আক্রান্ত হওয়ার পর সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন ৪ লাখ ২৩ হাজার ৫৫৪ জন।

বর্তমানে অসুস্থ ১৩ লাখ ১৫ হাজার ৩৫৬ জন চিকিৎসা নিচ্ছেন। এদের মধ্যে ১২ লাখ ৬৪ হাজার ৫৯৯ জনের অবস্থা স্থিতিশীল ও ৫০ হাজার ৭৫৭ জনের অবস্থা গুরুতর।

ভাইরাসটিতে সবচেয়ে বেশি আক্রান্ত ও মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে যুক্তরাষ্ট্রে। দেশটিতে আক্রান্ত হয়েছেন ৫ লাখ ৬০ হাজার ৪৩৩ জন। এছাড়া সেখানে মারা গেছেন ২২ হাজার ১১৫ জন।