• আজ বৃহস্পতিবার, ৩০ বৈশাখ, ১৪২৮ ৷ ১৩ মে, ২০২১ ৷

ঠাকুরগাঁও মরিচের দর পতন, চাষীর মাথায় হাত


❏ মঙ্গলবার, এপ্রিল ১৪, ২০২০ অর্থনীতি, দেশের খবর, রংপুর

কামরুল হাসান, ঠাকুরগাঁও প্রতিনিধি- করোনা ভাইরাস বিপর্যয়ে ঠাকুগাঁয়ে আড়ৎদে মরিচের দাম কমে যাওয়ায় মরিচ চাষীদের এখন মাথায় হাত। এক মণ মরিচ বিক্রি করছেন ৪০০ টাকা দরে। অথচ কয়েক সপ্তাহ আগেও মরিচের মণ ছিল ৮’শ থেকে ১ হাজার টাকা। ঠাকুরগাঁও কৃষকদের দাবি অত্র অঞ্চলে মরিচ সংরক্ষণের জন্য হিমাগার স্থাপনের।

ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলার২১টি ইউনিয়নে এবং গ্রামের চরাঞ্চলে উৎপাদিত মরিচ স্থানীয় চাহিদা পূরণ করে রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানের বাজারে যায়। এবারে আবহাওয়া অনুকূল মরিচের বাম্পার ফলন হলেও করোনা দূর্যোগে দাম না থাকায় দিশেহারা হয়ে পড়েছে প্রান্তিক মরিচ চাষীরা।

উপজেলা কৃষি বিভাগের সূত্রমতে, গত বছরের চেয়ে এ বছর কয়েক হেক্টর বেশি জমিতে মরিচের আবাদ হয়েছে।

উপজেলার ঢোলার হাট এলাকার মরিচ চাষী সমেস চন্দ্র জানান, এ বছর ভাদ্র-আশ্বিন মাসে তিন একর জমিতে ফরিদপুরী জাতের মরিচ চাষ করেছি। প্রয়োজনীয় সার, কীটনাশক ও পরিচর্যার কারণে ফলনও ভাল হয়েছে। কিন্তু বাজারে ক্রেতা না থাকায় বাধ্য হয়ে প্রতি মণ মরিচ ৪০০ টাকা দরে বিক্রি করতে হচ্ছে। একই কথা জানালেন বল্লভবিষু রুহিয়া ইউনিয়ন চাষী আব্দুল মালেক ও জগদীশ চন্দ্র।

এদিকে স্থানীয়দের দাবী, ঠাকুরগাঁও অঞ্চলে মরিচ সংরক্ষনের জন্য সরকারী বা বেসরকারিভাবে কোন হিমাগার না থাকায় প্রান্তিক চাষীরা বাধ্য হয়েও কম দামে মরিচ বিক্রি করতে হয়।

ঠাকুরগাঁও আড়ৎদে মরিচ কেনাবেচার সাথে সম্পৃক্ত রবি ইসলাম বলেন, ক্ষেত থেকে মরিচ ফরিয়া এবং আড়ৎদারের হাত বদল হয়ে দেশের বিভিন্ন স্থানে যায়। সম্প্রতি করোনা প্রতিরোধে প্রশাসনের কঠোর নির্দেশনায় মোকামে স্বল্প সময় দোকানে বেচাকেনা ও পরিবহন সংকটের ফলে মরিচের চাহিদা কমে গেছে।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা জানান, আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় এবং পরিশোধীত বীজ, প্রয়োজনীয় সার-কীটনাশক পাওয়ায় চলতি মৌসুমে মরিচের বাম্পার ফলন হয়েছে।