• আজ রবিবার, ১৭ শ্রাবণ, ১৪২৮ ৷ ১ আগস্ট, ২০২১ ৷

ফেলে গেল পরিবার, এগিয়ে এলো মানবিক পুলিশ


❏ বৃহস্পতিবার, এপ্রিল ১৬, ২০২০ স্পট লাইট

সময়ের কন্ঠস্বর ডেস্ক: স্ত্রী ও সন্তানেরা নিষ্ঠুরের মতো ভাড়া বাসায় ফেলে রেখে চলে গেছেন । দীর্ঘ ২৫ দিন পর প্রতিবেশীদের সহযোগিতায় গ্রামে ফিরলেও বাড়িতে উঠতে দেননি চাচাতো ভাইয়েরা। তাড়িয়ে দিয়েছেন চেয়ারম্যান মামাও। অবশেষে ৬৫ বছর বয়সী প্রতিবন্ধী আশরাফুজ্জামানের দায়িত্ব গ্রহণ করছে ঝিনাইদহ জেলা পুলিশ।

ঝিনাইদহ সদর থানার ওসি মিজানুর রহমান এ প্রতিবেদককে জানান, সাভারে একটি বাসায় স্ত্রী ও সন্তানকে নিয়ে দীর্ঘ ২০ বছর বসবাস করে আসছিলেন ঝিনাইদহের শৈলকূপা উপজেলার উমেদপুর গ্রামের ব্যবসায়ী আশরাফুজ্জামান। ২ বছর আগে বাথরুমে পড়ে গিয়ে চলার শক্তি হারান আশরাফুল। হুইল চেয়ারে কোনোমতে চলাফেরা করেন।

আয়-রোজগার কমে যাওয়া আর করোনা আতঙ্কে স্ত্রী নাসিমা জামান ও ছেলে মনিরুজ্জামান ওই ভাড়া বাসায় ফেলে রেখে চলে যান। সেখানেই গত ২৫ দিন একা থাকার পর প্রতিবেশীদের সহযোগিতায় একটি পিকআপে করে ঝিনাইদহে আসেন আশরাফুজ্জামান।

গ্রামের বাড়ি শৈলকুপার উমেদপুরে গেলে বাড়িতে উঠতে দেয়নি চাচাতো ভাইয়েরা ও তাদের ছেলেরা। এমনকি গাড়ি থেকে নামতেও দেননি। উপায় না পেয়ে মামা ঝিনাইদহ সদর উপজেলার প্রভাবশালী এক ইউপি চেয়ারম্যান ও উপজেলা আওয়ামী লীগ নেতার বাড়িতে গেলেও সেখান থেকে তাড়িয়ে দেয় ওই জনপ্রতিনিধি। উপায় না পেয়ে পিকআপ চালকরা গতকাল রাতে ঝিনাইদহ-মাগুরা মহাসড়কের গোয়ালপাড়া বাজার এলাকার রাস্তার পাশে আশরাফুলকে ফেলে রাখে। সারারাত সেখানেই কাটে তার।

সকালে খবর পেয়ে ঝিনাইদহ সদর থানা পুলিশ তাকে উদ্ধার করে প্রথমে থানায় নিয়ে আসে। এরপর পুলিশের পক্ষ থেকে সদরের ওই জন প্রতিনিধি ও শৈলকূপায় আত্মীয়দের সাথে যোগাযোগ করলে কেউ তাকে গ্রহণ করতে চায়নি।

পরে পুলিশ সুপার মো. হাসানুজ্জামান তার চিকিৎসার সব দায়ভার গ্রহণ করেন। থানা থেকে তাকে ঝিনাইদহ সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

ঝিনাইদহ সদর হাসপাতালের জরুরি বিভাগে কর্মরত চিকিৎসক ডা. মিলিথা পারভীন এ প্রতিবেদককে বলেন, আশরাফুজ্জামানের করোনার কোনো উপসর্গ নেই। তিনি শারীরিক প্রতিবন্ধী। আশরাফুজ্জামান যেহেতু ঢাকা থেকে এসেছেন। এজন্য তাকে প্রাতিষ্ঠানিক কোয়ারেন্টাইনে রাখা হয়েছে।

এ ব্যাপারে পুলিশ সুপার মো. হাসানুজ্জামান বলেন, কেউ যখন আশরাফুজ্জামানকে গ্রহণ করেনি। জেলা পুলিশের পক্ষ থেকে তার সব দায়ভার গ্রহণ করেছি। যতদিন তার অভিভাবক না পাওয়া যায় ততদিন আমরা তার পাশে থাকব।

আপনার জেলার সর্বশেষ সংবাদ জানুন