🕓 সংবাদ শিরোনাম

অন্যের পাসপোর্টে ভ্যাকসিন, মালয়েশিয়ায় বাংলাদেশি যুবকের ৯ মাস কারাদণ্ডরংপুরে আসামির ছুরিকাঘাতে এএসআই নিহতআফগানিস্তানে অপরাধীদের হাত-পা কেটে দেওয়ার শাস্তি ফিরছে: তালিবান নেতাহুয়াওয়ে মালিকের মেয়েকে মুক্তির বদলে দুই কানাডিয়ানকে ছেড়ে দিলো চীনজাতিসংঘে বঙ্গবন্ধুর ঐতিহাসিক ভাষণের দিন আজইলিশ রফতানি: বাংলাদেশের নতুন শর্তে আশাভঙ্গের শঙ্কায় ভারতনোয়াখালীতে মুরগি নিয়ে মারামারিতে প্রাণ গেল বৃদ্ধের, গ্রেফতার ২জরুরি ভিত্তিতে টিকা নিয়ে বৈষম্য দূর করতে হবে: জাতিসংঘে ভাষণে প্রধানমন্ত্রীফটিকছড়িতে ফুটবল টুর্নামেন্টের ফাইনাল খেলা অনুষ্ঠিতবেদে পল্লীর শিশুদের হাতে নতুন বই, পড়াবেন তরুন শিক্ষার্থীরা !

  • আজ শনিবার, ১০ আশ্বিন, ১৪২৮ ৷ ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২১ ৷

মানিকগঞ্জে করোনায় মৃতদের দাফনে জমি দিলেন পুলিশ কর্মকর্তা


❏ শুক্রবার, এপ্রিল ১৭, ২০২০ আলোচিত

দেওয়ান আবুল বাশার, মানিকগঞ্জ প্রতিনিধি: করোনায় মৃতদের লাশ দাফনে বাধা দেয়া হচ্ছে অনেক স্থানে। সংক্রমণের গুজবে কোথাও করোনা বা উপসর্গ নিয়ে কেউ মারা গেলে স্বজনরাও জানাজায় হাজির হচ্ছেন না।

মারা যাওয়া ব্যক্তিকে বহন করতে খাটিয়া দেয়া হচ্ছে না এমন খবরও আসছে গণমাধ্যমে। এমন পরিস্থিতিতে করোনায় মৃতদের দাফনের জন্য জমি দিলেন মানিকগঞ্জের সন্তান সিআইডির সিনিয়র এএসপি এনায়েত করিম রাসেল।

জমিটি তিনি বেওয়ারিশ লাশ আর গ্রামের মৃত ব্যক্তিদের দাফনের জন্যই এই জমি কিনেছিলেন। কিন্তু বর্তমানে করোনা উপসর্গ নিয়ে কেউ মারা গেলে বিভিন্ন স্থানে লাশ দাফনে বাধা দেয়ার ঘটনা দেখে রাসেল এই সিদ্ধান্ত নেন। দেশের যেকোনো জায়গা থেকে আনা লাশ এই কবরস্থানে দাফনের জন্য উন্মুক্ত করে দিয়েছেন তিনি। একজন পুলিশ কর্মকর্তার এমন উদ্যোগ মানবিকতার বড় উদাহরণ হিসেবে দেখছেন স্থানীয়রা।

করোনায় মারা যাওয়া মানুষের লাশ দাফনের এই উদ্যোগের ঘোষণা রাসেল তার ফেসবুকের মাধ্যমে জানিয়েছেন। নিজের ফেসবুক পোস্টে রাসেল লিখেছেন, ‘মানিকগঞ্জে বাসা/মানিকগঞ্জে বাসা কিন্তু বসবাস অন্য জায়গায় বা বাংলাদেশের যে কেউ আল্লাহ না করুক করোনা উপসর্গ নিয়ে মারা গেলে বিনা সংকোচে নিয়ে আসুন। গংগাধরপট্টি চকে উত্তর-পুর্বকোণে (নওখন্ডা) আমাদের কবরস্থানে তাকে দাফন করা যাবে। আশপাশে কোনো জনবসতিও নেই। প্রশাসনের অনুমতি নিয়ে এখানে কবর দেয়া সবার জন্য উন্মুক্ত।’

মানিকগঞ্জ জেলা প্রশাসক অথবা মেয়রের কাছ থেকে অনুমতি নিয়ে আসার জন্য অনুরাধ করেছেন তিনি। পাশাপাশি নিজের মোবাইল নম্বর (০১৭৩০৩৩৬২২৩) ও তিন বন্ধু ডিএফএম লোটাস (০১৭৭৭৩০৫০১৬), শুভ (০১৭১২২৯২৯২২) ও মোস্তফা (০১৭১২৫৫৭০৮৬) যে কারও সঙ্গে যোগাযোগ করার জন্য বলেছেন। তার এই উদ্যোগের বিষয়টি মানিকগঞ্জ জেলা প্রশাসক ও পৌর মেয়র এবং পুলিশ সুপারকেও জানিয়েছেন রাসেল।

এনায়েত করিম রাসেল মানিকগঞ্জের প্রয়াত সাংবাদিক লিয়াকত আলীর ছেলে। তার বাবা মো. লিয়াকত আলী বাংলাদেশ সাংবাদিক সমিতির জেলা শাখার সভাপতি ছিলেন। রাসেল বর্তমানে ঢাকায় সিআইডি পুলিশের সিনিয়র এএসপি হিসেবে কর্মরত।

নিজের এই উদ্যোগের প্রসঙ্গে এএসপি এনায়েত করিম রাসেল বলেন, নিজ গ্রাম মানিকগঞ্জ পৌরসভার নওখন্ডা এলাকায় গত বছর ১০ শতাংশ জমি কেনেন তিনি। উদ্দেশ্য গ্রামে একটি কবরস্থান তৈরি করা। যেখানে স্থানীয়দের মৃতদেহ দাফনের পাশাপাশি বেওয়ারিশদের লাশও দাফন করা হবে। কিন্তু প্রাণঘাতি করোনায় দেশ আক্রান্ত হওয়ার পর দেখা যাচ্ছে অনেক জায়গায় লাশ দাফনে বাধা দেয়া হচ্ছে। এমনকি লাশ বহনের জন্য খাটিয়াও দেয়া হচ্ছে না। এটা দেখে তার অনেক কষ্ট লাগে। পরে সিদ্ধান্ত নেন বেওয়ারিশ লাশ দাফনের পাশাপাশি এখানে করোনায় মৃতদের লাশও দাফনের ব্যবস্থা করা হবে। ইতোমধ্যে লাশ বহনের জন্য একটি খাটিয়ারও ব্যবস্থা করেছেন তিনি। তবে এই কবরস্থানে এখনও কোনো লাশ দাফন করা হয়নি।

রাসেল আরও জানান, ১০ শতাংশ জমিতে কবরস্থানের কার্যক্রম শুরু হলেও আশপাশের কয়েকজনের সঙ্গে কথা হয়েছে। আরও ২২ শতাংশ জমি কেনার প্রক্রিয়া চলছে। প্রয়োজন দেখা দিলে সেখানেও মরদেহ দাফনের ব্যবস্থা করা হবে বলে জানিয়েছেন পুলিশ কর্মকর্তা।

মানিকগঞ্জ জেলা প্রশাসক এস.এম ফেরদৌস জানান, পুলিশ অফিসার রাসেলের এই উদ্যোগ সত্যিই প্রশংসনীয়। যা মানবিকতার বড় উদাহরণ।

তিনি বলেন, মৃতদেহ থেকে করোনাভাইরাস ছড়ায় না এই বিষয়ে সবাইকে সচেতন হতে হবে। তারপরও কোথাও সমস্যা হলে এবং কেউ স্বেচ্ছায় দাফন করতে চাইলে এই জায়গায় দাফনের ব্যবস্থা করা হবে।

আপনার জেলার সর্বশেষ সংবাদ জানুন