🕓 সংবাদ শিরোনাম

সেচের অভাবে ত্রিশালে আমন চারা রোপণে দুশ্চিন্তায় কৃষকরাবিশ্ব ঐতিহ্য সুন্দরবনে ২৭৬ টি রয়েল বেঙ্গল টাইগারের হদিস নেই!শেরপুরে ব্রক্ষপুত্র নদীর ভাঙ্গন, বিলীন হচ্ছে ফসলি জমিব্ল্যাক ফাঙ্গাসে আক্রান্ত মাকে বাঁচাতে ছেলে ইনজেকশন খুঁজে হয়রান!ফরিদপুরে গায়ে পচনধরা রোগীকে বাঁশ ঝাড়ে ফেলে দিলো স্বজনরা, উদ্ধারে পুলিশলকডাউনে বিয়ের আয়োজন করায় বর ও কনের পরিবারকে জরিমানাশাহজাদপুরে বইয়ের ভেতরে ৯০০ পিস ইয়াবা ও টাকাসহ মাদক ব্যবসায়ী গ্রেফতারত্রিশালে ভ্রাম্যমান আদালতের মোবাইল কোর্ট পরিচালনাঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের সংস্কার কাজে মাটির ব্যবহার! কক্সবাজারে টানা দুই দিনের ভারি বর্ষণে বন্যা ও পাহাড় ধসে ১৭ জনের মৃত্যু

  • আজ বৃহস্পতিবার, ১৪ শ্রাবণ, ১৪২৮ ৷ ২৯ জুলাই, ২০২১ ৷

চৌহালীতে লকডাউনেও চলছে বালু উত্তোলনের মহোৎসব

Sirajgonj
❏ শুক্রবার, এপ্রিল ১৭, ২০২০ রাজশাহী
দেওয়ান আবুল বাশার, স্টাফ রিপোর্টার: বৈশ্বিক মহামারী করোনাভাইরাস আতঙ্কে থমকে আছে গোটা বিশ্ব। এই মহামারী থেকে রক্ষা পেতে প্রস্তুতির কমতি নেই বাংলাদেশে। বিশ্বের অন্যান্য দেশের ন্যায় প্রাণঘাতী এই ভাইরাসের বিস্তার ঠেকাতে প্রাণপণ লড়াই করে যাচ্ছে সরকার। করোনার প্রাদুর্ভাবে সারাদেশ যখন কার্যত স্থবির এবং কোন কোন এলাকায় চলছে লকডাউন, করোনার প্রাদুর্ভাব ঠেকাতে চৌহালীর ৩টি ইউনিয়নও লকডাউন রয়েছে। এমন পরিস্থিতিতেও থেমে নেই বালু খেকোরা।
সিরাজগঞ্জের চৌহালী উপজেলায় একশ্রেনীর অসাধু বালু ব্যাবসায়ীরা কালো টাকার পাহাড় গড়তে অবৈধ ভাবে ড্রেজার ও ভেকু দিয়ে বালু উত্তোলন করছে। প্রশাসনের নজর আছে বালু উত্তলনে অথচ প্রতিরোধে কার্য্যকর কোন ব্যবস্থা নেই। কড়ালগ্রাসী যমুনার ভাঙন ও বালু মহলের তান্ডবলীলায় সিরাজগঞ্জের চৌহালী উপজেলার বিভিন্ন স্পট থেকে মাটি কাটায় যমুনার পাড় ঘেঁষা গ্রামগুলো এখন হুমকির সম্মুক্ষিন।
অবৈধ বালুব্যাবসায় আঙুল ফুলে কলাগাছ হয়েছে অনেকের। কিছুদিন আগেও যাদের ঠিকমত তিন বেলা খাবার জুটতো না, সেই তারাই এখন দাপটের সাথে দুইজন ম্যানেজার নিয়ে চলাফেরা করছে।যমুনায় পাল্লা দিয়ে চলছে বালু উত্তোলন, বালুদস্যুরা বিভিন্ন অজুহাত দেখিয়ে বার বার পার পেয়ে যাচ্ছে। বিশেষ করে উপজেলার উত্তর ও দক্ষিনাঞ্চলের যমুনা নদীর পার বালু ব্যাবসায়ীদের দখলে রয়েছে। গত বর্ষা মৌসুমে অর্ধশতাধিক ঘরবাড়ি ও বিস্তৃীর্ন ফসলি জমি নদী গর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। চরম ভাঙ্গন হুমকিতে রয়েছে এসব এলাকার জনগন। এখনই বালু উত্তোল রোধে দ্রুত ব্যবস্থা নেয়া না হলে ১৫টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, ৬টি হাট বাজার, তাঁতীপাড়া, পাকা সড়ক, ব্রীজ, আবাদী জমি বহু ঘরবাড়ি ও কবরস্থান নদীতে বিলীন হবার আশংঙ্কা করছেন স্থানীয়রা।
গতকাল বৃহস্পতিবার সরেজমিনে উপজেলার দক্ষিনাঞ্চলের বাঘুটিয়ায় রফিক, বিনানই পুর্বপাড়ায় মোঃ মনছুর, হাপানিয়া চরের আবু সাইদ ও উত্তরাঞ্চলের খাষ কাউলিয়ার জাহাঙ্গীর ফকির, শুকুর আলীসহ অনেককেই দাপটের সাথে এসব এলাকায় ভেকু ও জ্রেজার দিয়ে অবাধে বালু উত্তোলন করতে দেখা গেছে।
ভুক্তভোগীরা জানান, প্রশাসনকে ম্যানেজ করে ও প্রভাবশালী মহলের ছত্রছায়ায় থেকে অবৈধভাবে বালু তুলে এলাকার বিভিন্ন বাড়িসহ নাগরপুরে বালু বিক্রি করছে বালুখেকোরা। ওরা কালো টাকার পাহাড় গড়তে মরিয়া হয়ে উঠেছে। এবিষয়ে চৌহালী উপজেলা প্রশাসনের নিরাবতায় জনমনে প্রশ্ন উঠেছে। সরকারের ভিশন গ্রাম হবে শহর বাস্তবায়নে প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ নজর রয়েছে অথচ, অবৈধ বালু বানিজ্যের কারনে গ্রামগুলো এখন নদীগর্ভে বিলিন হয়ে যাচ্ছে।
জানা যায়, উপজেলার চরাঞ্চলসহ নদীর পুর্ব পাড়ের খাষকাউলিয়া, ঘোরজান, বাঘুটিয়া, বিনানই, চরসলিমাবাদ ভুতের মোড় পর্যন্ত নদীতে অবাধে চলছে বালু উত্তোলন। বালু উত্তোলনের কারণে প্রতিনিয়তই নদীর পেটে যাচ্ছে বসত বাড়ি, শিক্ষা ও ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান, দোকানপাট, কাঁচা-পাকা সড়ক, ফসলী জমি, ব্রীজ, কবরস্থান সহ বিভিন্ন স্থাপনা। একদিকে বালু তোলা অপরদিকে ভাঙ্গন হুমকিতে দিশেহারা এসব এলাকার সাধারণ মানুষ। এলাকার ভুক্তভোগি শিক্ষার্থীরা বলেন, উপজেলার দক্ষিনাঞ্চলে যমুনার ভাঙন আর বালু উত্তোলনে এলাকায় ভয়াবহ রুপ ধারন করেছে। এখনই বালু উত্তোলন ঠেকানো না গেলে চৌহালীর বাকি অংশ মানচিত্রে থেকে চিরতরে মুছে যাবে।
এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী অফিসার দেওয়ান মওদুদ আহমেদের কাছে জানতে চাইলে তিনি জানান, প্রশাসন করোনা নিয়ে ব্যাস্ত থাকার সুযোগ নিয়ে কিছু অসাধু বালুব্যবসায়ীরা এই সুযোগে ড্রেজার কার্যক্রম চালাচ্ছে জানতে পেরেছি । অতিশীঘ্র এদের বিরুদ্ধে মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করা হবে।
পাড় বাসি মানুষের বক্তব্য, আমরা ওদের কাছে জিম্মি। “সরকারের কাছে সাহায্য চাই না, ভাঙ্গন রোধ চাই’’ অবিলম্বে ড্রেজার ও ভেকু বন্ধ চাই, আমরা বাঁচতে চাই।

আপনার জেলার সর্বশেষ সংবাদ জানুন