বগুড়ায় এন-৯৫ মাস্ক সংকটে পিছিয়ে গেল করোনা পরীক্ষা


❏ শনিবার, এপ্রিল ১৮, ২০২০ দেশের খবর, রাজশাহী

সাখাওয়াত হোসেন জুম্মা, বগুড়া প্রতিনিধি: বগুড়ায় শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজে (শজিমেক) সবকিছু চূড়ান্ত হলেও শুধুমাত্র বিশেষ ধরনের এন-৯৫ মাস্কের অভাবে করোনাভাইরাস শনাক্ত করণ পরীক্ষা শুরু করা গেল না।

শজিমেকের অধ্যক্ষ প্রফেসর ডা. রেজাউল আলম জুয়েল জানিয়েছেন, ‘এন নাইনটি ফাইভ (এন-৯৫)’ নামে পরিচিত বিশেষ ধরনের ওই মাস্ক না থাকায় শনিবার পূর্ব ঘোষণা অনুযায়ী কলেজে করোনাভাইরাস শনাক্ত করণের কাজ শুরু করা যায়নি।

তবে মাস্ক আনতে শজিমেকের একটি বিশেষ টিম ঢাকায় গেছে জানিয়ে তিনি বলেন, ‘মাস্ক আনতে শনিবারই শজিমেকের একটি টিমকে ঢাকায় কেন্দ্রীয় ঔষধ সংরক্ষণাগারে (সিএমএসডি) পাঠানো হয়েছে। রোববার নাগাদ মাস্কগুলো বগুড়ায় এসে পৌঁছুবে এবং পরদিন ২০ এপ্রিল সোমবার থেকে এখানে (শজিমেক) করোনাভাইরাস শনাক্তকরণের কাজ শুরু হবে।’

গত ৮ মার্চ নভেল করোনাভাইরাস নামে প্রাণঘাতী ভাইরাসটির অস্তিত্ব বাংলাদেশে প্রথম ধরা পড়ে। তারপর থেকেই ওই ভাইরাসে আক্রান্ত এবং মৃত্যুর ঘটনা বেড়েই চলেছে।

প্রথমে শুধুমাত্র ঢাকার একটি স্থানেই করোনাভাইরাস শনাক্তকরণের ব্যবস্থা রাখা হলেও পরবর্তী সময়ে তা দেশের অন্য বিভাগীয় শহরের মেডিকেল কলেজগুলোতেও চালু করা হয়। রাজশাহী বিভাগের ৮ জেলার জন্য মার্চের শেষ সপ্তাহে রাজশাহী মেডিকেল কলেজের মাইক্রোবায়োলজি বিভাগে করোনাভাইরাস শনাক্তকরণ যন্ত্র পলিমার চেইন রি-অ্যাকশন (পিসিআর) স্থাপন করা হয়। বর্তমানে সেখানেই বগুড়ার নমুনাগুলো পরীক্ষার জন্য পাঠানো হচ্ছে।

তবে একাধিক জেলার নমুনা পরীক্ষার কারণে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ থেকে রিপোর্ট পেতে কমবেশি ৪৮ ঘণ্টা সময় লেগে যায়। এতে সন্দেহভাজন রোগী এবং তাদের স্বজনদের উৎকণ্ঠা বেড়ে যায়। চিকিৎসকরাও উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েন। এমন পরিস্থিতিতে বগুড়ায় শজিমেকের মাইক্রোবাইলোজি বিভাগে পিসিআর স্থাপনের দাবি উঠতে থাকে। তারপরই স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় থেকে উদ্যোগ নেওয়া হয়।

এপ্রিলের প্রথম দিকে শজিমেকের মাইক্রোবায়োলজি বিভাগে পিসিআর স্থাপনের কাজটি দ্রুততার সঙ্গে সম্পন্ন করার জন্য ওই বিভাগের একটি কক্ষকে নতুন করে প্রস্তুত করা হয়। সেখানে ৪টি এনক্লোজার, সিলিং এবং পাশাপাশি দুটি টয়লেটসহ অন্যান্য নির্মাণ কাজ সম্পন্ন করা হয়।

এরপর গত ৮ এপ্রিল পিসিআর আনা হয় এবং তা স্থাপনের কাজও শুরু হয়। এরপর ঢাকা থেকে আসা দু’জন অ্যাপ্লিকেশন ইঞ্জিনিয়ার পিসিআর যন্ত্রটির পরিচালনা পদ্ধতি ল্যাব টেকনিশিয়ানদের হাতে-কলমে শিখিয়ে দেন। এছাড়াও কলেজের মাইক্রোবায়োলজি, প্যাথলজি ও বায়োকেমিস্ট্রি বিভাগের শিক্ষক তথা চিকিৎসদেরও এব্যপারে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়।

শজিমেকের অধ্যক্ষ প্রফেসর ডা. রেজাউল আলম জুয়েল জানান, কলেজের ১১ জন ল্যাব টেকনিশিয়ান এবং ওই তিন বিভাগের ১৭ জন চিকিৎসককে প্রশিক্ষণ প্রদাানের কাজটি এরই মধ্যে সমাপ্ত হয়েছে। তবে করোনাভাইরাস শনাক্তকরণ পরীক্ষায় নিয়োজিত ল্যাব টেকনিশিয়ান ও চিকিৎসকদের জন্য এন-৯৫ নামের বিশেষ ধরনের মাস্ক না থাকায় কার্যক্রম শুরু করা যাচ্ছে না।

তিনি বলেন, ‘আমরা আশা করেছিলাম মাস্কগুলো শুক্রবারের মধ্যে এসে পৌঁছাবে। কিন্তু সেটা সম্ভব হয়নি। তবে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় থেকে বরাদ্দ দেওয়া ১০০ পিস এন-৯৫ মাস্ক আনার জন্য আমরা শনিবার ঢাকায় কেন্দ্রীয় ঔষধ সংরক্ষণাগারে লোক পাঠিয়েছি। আশা করছি রোববারের মধ্যে তারা পৌঁছে যাবে এবং ইনশাআল্লাহ্ সোমবার থেকে নমুনা পরীক্ষা শুরু করতে পারবো।’

অপর এক প্রশ্নের জবাবে অধ্যক্ষ প্রফেসর ডা. রেজাউল আলম জুয়েল বলেন, ‘শজিমেকের ল্যাবে প্রতিদিন ৯৬টি পরীক্ষা করা সম্ভব হবে। পরীক্ষার রির্পোট পেতে অন্তত ৪ ঘণ্টা লাগবে।’

বগুড়ায় নতুন করে দু’জন আইসোলেশনে

বগুড়ায় (কোভিড-১৯) করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত সন্দেহে এক নারী ও পুরুষকে আইসোলেশন ইউনিট হিসেবে গড়ে তোলা ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট মোহাম্মদ আলী হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

শনিবার বিকেলে বিষয়টি নিশ্চিত করেন বগুড়া মোহাম্মদ আলী হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসক (আরএমও) ডা. শফিক আমিন কাজল।

তিনি জানান, ১৭ এপ্রিল শুক্রবার রাতে এক পুরুষ ও এক নারীকে আইসোলেশন ইউনিটে ভর্তি করা হয়। তাদের দু’জনেরই জ্বর, কাশি ও শ্বাসকষ্টের সমস্যা রয়েছে।

হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, ১৭ এপ্রিল শুক্রবার রাতে ২৮ বছর বয়সী যে ব্যক্তিকে আইসোলেশন ইউনিটে নেওয়া হয়েছে, তার বাড়ি বগুড়া সদর উপজেলার সাবগ্রাম এলাকায় এবং ২৯ বছর বয়সী ওই নারীর বাড়ি শিবগঞ্জ উপজেলায়।

এদিকে শুক্রবার রাতে ২৯ বছর বয়সী যে নারী শ্বাসকষ্ট নিয়ে আইসোলেশনে ভর্তি হয়েছেন, তার আগে থেকেই এজমা রয়েছে বলে জানা গেছে।

ডা. শফিক আমিন কাজল জানিয়েছেন, জ্বর-কাশি বেড়ে যাওয়ায় তাদেরকে আইসোলেশনে নেওয়া হয়।