মির্জাপুরে আইসোলেশনে থাকা অন্তঃসত্ত্বা নারীর মৃত্যু


❏ রবিবার, এপ্রিল ১৯, ২০২০ ঢাকা, দেশের খবর

মো. সানোয়ার হোসেন, মির্জাপুর (টাঙ্গাইল) প্রতিনিধি- টাঙ্গাইলের মির্জাপুরের কুমুদিনী হাসপাতালে আইসোলেশন ওয়ার্ডে থাকা এক অন্তঃসত্ত্বা নারীর মৃত্যু হয়েছে।

শনিবার বেলা ১২ টার দিকে হাসপাতালের আইসোলেশন ওয়ার্ডে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। সে টাঙ্গাইল জেলার বাসাইল উপজেলার কাঞ্চনপুর গ্রামের মোশারফ হোসেনের স্ত্রী কণা বেগম (৩৫) বলে জানা গেছে। এদিকে মৃত্যুর পূর্বেই স্থানীয় স্বাস্থ্য বিভাগ থেকে ঐ নারীর শরীর থেকে নমুনা সংগ্রহ করা হয়।

হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানায়, গত বুধবার (১৫ এপ্রিল) ছয় সপ্তাহের অন্তঃস্বত্ত্বা নারী (একটপিক প্রেগন্যান্সি) গর্ভধারণ সংক্রান্ত জটিলতা নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হন। ঐ দিনই তার জীবনটাকে রক্ষার জন্য অপারেশন করা হয়। অপারেশন সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন হয়। পরবর্তী দুদিন সুস্থ্য ছিলেন ঐ নারী। কিন্তু ১৭ তারিখ সন্ধ্যায় হঠাৎ শ্বাসকষ্ট হয়। তাৎক্ষণিক বেশকিছু পরীক্ষা নিরীক্ষা করার পর এক্সরে রিপোর্ট দেখে গর্ভধারণ সংক্রান্ত জটিলতা কিংবা করোনার উপসর্গ থাকতে পারে এমনটি ধারণা করে তাকে আইসোলেশন ওয়ার্ডে স্থানান্তর করা হয়।

খবর পেয়ে শনিবার (১৮ এপ্রিল) সকালেই স্থানীয় স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স কর্তৃপক্ষ ঐ নারীর নমুনা সংগ্রহ করে নিয়ে যায়। এদিকে বেলা ১২ টার দিকে তিনি চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান।

স্ত্রী রোগ বিশেষজ্ঞ ডা. মিতু আক্তারের সাথে কথা হলে তিনি জানান, একটপিক প্রেগন্যান্সি বিপদজনক। এটির সঠিক সময়ে চিকিৎসা (সঠিক সার্জিক্যাল ট্রিটমেন্ট) না হলে রক্তক্ষরণ হয়ে অনাকাঙ্খিত কোনো ঘটনা ঘটার সম্ভাবনাটাই বেশি থাকে। তার ধারণা একটপিক প্রেগন্যান্সির প্রভাবেই তার মৃত্যু হতে পারে।

কুমুদিনী হাসপাতালের সহকারি পরিচালক ও অধ্যাপক ডা. এবিএম আলী হাসান বলেন, ভর্তির পরই তার জীবন রক্ষার্থে আমরা দ্রুত অপারেশন করি এবং সেটি ভালোভাবে সম্পন্ন হয়। দুদিন সুস্থ্য থাকার পর ১৭ তারিখ সন্ধ্যায় হঠাৎ তার শ্বাসকষ্ট হয়। পরে তাৎক্ষণিক বেশকিছু পরীক্ষা-নিরীক্ষা করা হয়। এক্সরে রিপোর্ট দেখে আমরা সন্দেহ করি। সন্দেহ হওয়ার পরই তাকে হাসপাতালের আইসোলেশন ওয়ার্ডে স্থানান্তর করা হয়।

এদিকে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মাকসুদা খানমের সাথে কথা হলে তিনি জানান, গত ১৫ তারিখে তার অপারেশন হয়েছে। একটপিক প্রেগন্যান্সির কারণে রোগীর শ্বাস কষ্ট হতে পারে। আমরা ধারণা করছি এই রোগীর একটপিক প্রেগন্যান্সির প্রভাবেই তিনি মারা গেছেন। কারণ করোনার জন্য যে লক্ষণ থাকে তা দুদিনেই কোনো রোগীর অবস্থা এরকম হয়না।

করোনায় আক্রান্ত হলে প্রথম ৫ দিন স্বাভাবিক জ্বর থাকবে, ৬-৭ দিনের বেলায় তার তীব্র জ্বর হবে এবং ৯-১০ দিনে তার নিউমোনিয়ায়/এআরডিএস পরিণত হবে। কাজেই এই রোগেীর যেহেতু কোনো জ্বর নেই, শুধু ভর্তি হলো আর সেইদিনই তার অপারেশন করা হলো, দুদিন পর সে মারা গেল সেটি কখনোই করোনার উপসর্গ হতে পারেনা। আমরা ধারণা করছি ঐ নারীর করোনা উপসর্গ নিয়ে নয় একটপিক প্রেগন্যান্সির কারণেই তার মৃত্যু হয়েছে।

আপনার জেলার সর্বশেষ সংবাদ জানুন