🕓 সংবাদ শিরোনাম
  • আজ রবিবার, ২ জ্যৈষ্ঠ, ১৪২৮ ৷ ১৬ মে, ২০২১ ৷

পঞ্চগড়ে চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে চাল কালোবাজারির অভিযোগ, তদন্ত কমিটি গঠন

chal
❏ সোমবার, এপ্রিল ২০, ২০২০ রংপুর

নাজমুস সাকিব মুন, পঞ্চগড় প্রতিনিধিঃ পঞ্চগড়ের দেবীগঞ্জে ইউপি চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে কালবাজারে চাল বিক্রির অভিযোগ উঠেছে। চলমান করোনা পরিস্থিতি মোকাবেলায় সরকারের বরাদ্দকৃত ত্রাণের চাল চেয়ারম্যানের বাড়িতে মজুদ করে পরে কাল বাজারে বিক্রি করা হয় বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।

উপজেলার ০৯ নং দেবীডুবা ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান আব্দুর রাজ্জাকের বিরুদ্ধে ত্রাণের চাল কালবাজারে বিক্রির অভিযোগ এনে দেবীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা প্রত্যয় হাসানের নিকট লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন একই ইউনিয়নের ০১ নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য ও আওয়ামীলীগ সভাপতি কালীপদ রায়সহ আরো ০৭ জন।

লিখিত অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, দেবীডুবা ইউপি চেয়ারম্যান আব্দুর রাজ্জাক সরকারের বরাদ্দকৃত ত্রাণের ২ টন চাল ০৬ এপ্রিল উত্তোলন করে নিজ বাসায় মজুদ করেন। সেই চাল দরিদ্রদের মাঝে বিতরণ না করে একই ইউনিয়নের মহলদারপাড়া এলাকার শামসুল আলম সরকারের নিকট গোপনে বিক্রি করেন। শামসুল আলম ওই এলাকার মৃত মছির উদ্দিন সরকারের ছেলে। এরপর চাল বিক্রির পুরো অর্থ আত্মসাৎ করেন চেয়ারম্যান আব্দুর রাজ্জাক। এলাকায় জানাজানি হলে আব্দুর রাজ্জাক বিষয়টি ধামাচাপা দেয়ার চেষ্টা করেন।

কালীপদ রায় তার লিখিত অভিযোগে উল্লেখ করেন, শুক্রবার (১৭ এপ্রিল) বিকেল ৪ টায় লক্ষীরহাট সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে চেয়ারম্যানকে পেয়ে নিজ এলাকার (১ নং ওয়ার্ড) দরিদ্র মানুষের তলিকা প্রদান ও ত্রাণের চাল প্রদানের কথা বলেন। আব্দুর রাজ্জাক চাল উত্তোলনের বিষয়টি অস্বীকার করেন ও কালীপদের উপর উত্তেজিত হয়ে অকথ্য ভাষায় গালি দেয় ও মারতে উদ্যত হন।

দেবীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা প্রত্যয় হাসান লিখিত অভিযোগ পাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেন। তিনি বলেন, অভিযোগ তদন্তের জন্য উপজেলা সমবায় কর্মকর্তাকে আহ্বায়ক করে তিন সদস্যের কমিটি গঠন করা হয়েছে। আগামী তিন কার্য দিবসের মধ্যে কমিটিকে রিপোর্ট জমা দেয়ার ব্যাপারে নির্দেশ দিয়েছি। রিপোর্টে অভিযোগের সত্যতা প্রমাণিত হলে আব্দুর রাজ্জাকের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। অভিযোগ মিথ্যে হলে অভিযোগকারীর বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

অন্যদিকে, অভিযোগের প্রতিবাদে আজ (সোমবার) দেবীডুবা ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান আব্দুর রাজ্জাকসহ উপজেলার বাকী ৯ টি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানগণ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ের সামনে অবস্থান নেন।

এই সময় আব্দুর রাজ্জাক জানান, আমার বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা। অভিযোগকারীরা আমার নিকট থেকে কোন অবৈধ সুবিধা না পেয়ে একজোট হয়ে আমাকে হেয় প্রতিপন্ন করতে আমার বিরুদ্ধে ত্রাণের চাল আত্মসাতের মথ্যা অভিযোগ এনেছেন।

তিনি আরো জানান, এখন পর্যন্ত ৯ মেট্রিক টন চাল সরকারি বিধি মোতাবেক বিতরণ করেছি। যার মাস্টাররোল ইউএনও মহোদয়ের কার্যালয়ে জমা দেয়া হয়েছে।

কালীপদ রায়ের সাথে কথা বলতে তার মুঠো ফোনে বেশ কয়েকবার ফোন করলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।