চলমান লকডাউনে দেশের দৈনিক ক্ষতি ৩৩০০ কোটি টাকা

১২:১১ পূর্বাহ্ন | বুধবার, এপ্রিল ২২, ২০২০ অর্থনীতি
khoti

অর্থনীতি ডেস্কঃ করোনা ভাইরাসের প্রভাবে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে দেশের অর্থনীতি। করোনা সংক্রমণ ঠেকাতে সরকার ঘোষিত চলমান ছুটিতে দেশে প্রতিদিন অন্তত তিন হাজার তিনশ কোটি টাকা ক্ষতি হচ্ছে বলে মনে করছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের একদল গবেষক।

অতি সংক্রামক এই ভাইরাসের বিস্তার রোধে গত ২৬ মার্চ থেকে সাধারণ ছুটি ঘোষণা করে সবাইকে ঘরে থাকার পরামর্শ দিয়েছে সরকার। এ সময় সব ধরনের কল-কারখানাসহ বাইরের সব কাজকর্ম বন্ধ রয়েছে। আগামী ২৬ এপ্রিল পর্যন্ত এই ছুটি রয়েছে।

এই এক মাসে বাংলাদেশ কী পরিমাণ অর্থনৈতিক ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছে প্রাথমিকভাবে তার একটি ধারণা দেওয়ার চেষ্টা করেছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বাস্থ্য অর্থনীতি ইনস্টিটিউটের ওই গবেষক দল।

তাদের হিসাবে, এই এক মাসে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক ক্ষতি এক লাখ কোটি টাকা ছাড়িয়ে যাবে। এর পরে লকডাউন দীর্ঘায়িত হলে প্রতিদিনের ক্ষতির পরিমাণ বাড়বে।

মঙ্গলবার ‘অর্থনীতিতে করোনার প্রভাব’ শীর্ষক এক সমীক্ষা প্রতিবেদনে এই হিসাব দেন তারা।

পুরো মে মাস লকডাউন থাকলে ক্ষতির পরিমাণ দুই লাখ কোটি টাকা (গত অর্থবছরের জিডিপির প্রায় ৯ শতাংশ) ছাড়িয়ে যেতে পারে বলে মনে করছে এই গবেষক দল। বাংলাদেশের অর্থনীতির তিনটি বড় খাত- কৃষি, শিল্প ও সেবা খাত ধরে ক্ষতির অনুমিত হিসাব দেওয়া হয়েছে এই সমীক্ষা প্রতিবেদনে।

প্রতিবেদনে বলা হয়, কৃষির প্রধান উপখাতগুলো হল শস্য উৎপাদন, প্রাণি সম্পদ ও মৎস্য সম্পদ। স্বল্প মেয়াদে এই সব উপ খাতে উৎপাদন না কমলেও দেশি-বিদেশি অর্থনীতি অবরুদ্ধ থাকায় এ সব উপ-খাতের উৎপাদিত দ্রব্যের মূল্যের উপর নিম্নমুখী প্রভাব পড়তে শুরু করেছে। এর ফলে অর্থনীতিতে প্রতিদিন প্রায় ২০০ কোটি টাকার ক্ষতি হচ্ছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়, উৎপাদন ও নির্মাণ খাতে ক্ষতির মাত্রা প্রকট আকার ধারণ করেছে। এ খাতে প্রতি দিনের অনুমিত ক্ষতির পরিমাণ প্রায় ১ হাজার ১৩১ কোটি টাকা । অর্থনৈতিক ক্ষতি সবচেয়ে প্রকট আকার ধারণ করেছে সেবা খাতে। নিত্য প্রয়োজনীয় দ্রব্যসামগ্রী বেচা-কেনা এবং জরুরি সেবা ছাড়া এই খাত মূলত অবরুদ্ধ। সব ধরনের যোগাযোগ (সড়ক, রেল, নৌ ও আকাশ পথ), পর্যটন, হোটেল ও রেস্টুরেন্ট, রিয়েল এস্টেটসহ সব ধরনের সেবা একেবারেই বন্ধ। স্বাস্থ্য খাতের বেসরকারি অংশটিতেও এক প্রকার অচলাবস্থা বিরাজ করছে। সব মিলিয়ে সেবা খাতে প্রতি দিনের অনুমিত চলতি ক্ষতির পরিমাণ কমপক্ষে দুই হাজার কোটি টাকা।

এই ক্ষতি কাটিয়ে উঠার উপায়গুলো আগেভাগে খুঁজে বের করাসহ সরকার ঘোষিত প্রণোদনা প্যাকেজ প্যাকেজের সুষ্ঠু বাস্তবায়নের ওপর জোর দেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন ওই গবেষক দল।