করোনাঃ ইউএনও’র ত্রাণ তহবিলে ভিক্ষুকের ১০ হাজার টাকা দান

vikkkhuk
❏ বুধবার, এপ্রিল ২২, ২০২০ ময়মনসিংহ

সময়ের কণ্ঠস্বর, ময়মনসিংহঃ করোনাভাইরাস আতঙ্কে কাঁপছে দেশ। ঘরবন্দি মানুষ। আয়-উপার্জন বন্ধ খেটে খাওয়া মানুষদের। আর এই সংকট মোকাবিলায় যে যতটুকু পারছে ত্রাণ তহবিলে সাহায্য করে যাচ্ছে। এই সাহায্যে এগিয়ে আসলেন এক ভিক্ষুক। তিনি ইউএনওর করোনা তহবিলে ১০ হাজার টাকা দান করেছেন।

মঙ্গলবার (২০ এপ্রিল) শেরপুরের ঝিনাইগাতী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রুবেল মাহমুদের হাতে টাকা তুলে দেন ভিক্ষুক মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন।

জানা গেছে, প্রাণঘাতী করোনাভাইরাস সংক্রমণ রোধে ঘরবন্দি হয়ে পড়া কর্মহীন হতদরিদ্র মানুষদের সরকারি ও বেসরকারিভাবে খাদ্য সহায়তা দেয়া হচ্ছে। গেল রবিবার ইউএনও রুবেল মামুদের নির্দেশে খাদ্য সহায়তার জন্য স্থানীয় স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন দি প্যাসিফিক ক্লাবের সদস্য ও স্থানীয় ইউপি সদস্যরা কর্মহীন অসহায় দরিদ্র মানুষদের তালিকা প্রণয়নে গান্ধীগাঁও গ্রামে যান। এ সময় ভিক্ষুক নজিমুদ্দিনের বাড়িতে গিয়ে তাকে ইউএনর পক্ষ থেকে খাদ্যসামগ্রী দেয়া হবে বলে জানানো হয়। পরে তার জাতীয় পরিচয়পত্র দেখতে চান তারা। ভিক্ষুক নজিমুদ্দিন ওই তালিকায় তার নাম না ওঠানোর জন্য অনুরোধ করেন। বলেন, নিজের বসতঘর মেরামত করার জন্য গত দুই বছরে ভিক্ষা করে জমিয়েছেন ১০ হাজার টাকা। এ টাকা স্বেচ্ছায় বর্তমান পরিস্থিতিতে অসহায়দের খাদ্য সহায়তার জন্য উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার ত্রাণ তহবিলে দান করতে চান তিনি। পরে আজ ওই ক্লাবের সদস্য ও স্থানীয় ইউপি সদস্যদের উপস্থিতিতে ইউএনওর হাতে ১০ হাজার টাকা তুলে দেন নজিমুদ্দিন।

এ বিষয়ে ভিক্ষুক নজিমুদ্দিন বলেন, ভিক্ষা করে খাইয়ে-খুইচরে (খরচ করে) গত দুই বছরে এ টেহা (টাকা) জড়ো করছি। আমার ঘরডা ভাঙে গেছে গ্যা। এহন আর ঘর-দরজা দিলাম না। দশে এহন কষ্ট করতাছে, আমি এ টেহ্যা ইউএনও সাহেবের হাতে দিলাম। দশেরে দিয়ে দিখ, খাইয়ে বাঁচুক।

ইউএনও রুবেল মাহমুদ বলেন, একজন ভিক্ষুক অনেক কষ্ট করে ঘর তৈরি করার জন্য ১০ হাজার টাকা সঞ্চয় করেছিলেন। সেই টাকা তিনি দরিদ্রদের হাতে তুলে দেওয়ার জন্য আমার তহবিলে দান করলেন। অথচ আমি আজ এ ইউনিয়নে এসে মিনারা বেগম নামে সংরক্ষিত ওয়ার্ডের একজন নারী মেম্বারের বাড়ি থেকে হতদরিদ্রদের মধ্যে বিতরণ করার জন্য ২৫ কেজি চাল ও ২৭টি সরকারি ব্যাগ উদ্ধার করলাম। তাকে আটক করা হয়েছে।