সেই ভিক্ষুককে ঘর তুলে দেবেন প্রধানমন্ত্রী

❏ বুধবার, এপ্রিল ২২, ২০২০ আলোচিত বাংলাদেশ

সময়ের কণ্ঠস্বর ডেস্ক- নিজের বাড়ি মেরামতের জন্য দুই বছরে ভিক্ষা করে জমিয়েছিলেন ১০ হাজার টাকা। কিন্তু সেই টাকা বাড়ি মেরামতের কাজে লাগাননি ভিক্ষুক নজিমুদ্দিন (৮০)। বরং প্রাণঘাতী করোনাভাইরাসে ঘরবন্দী হওয়া কর্মহীনদের খাদ্য সহায়তায় দান করেছেন সেই অর্থ।

এ ঘটনায় গতকাল মঙ্গলবার সন্ধ্যায় তাকে নিয়ে প্রচারিত সংবাদটি প্রধানমন্ত্রীর নজরে আসে। এরপরই ওই ভিক্ষুককে ঘর তুলে দেওয়ার জন্য প্রয়োজনীয় সব নির্দেশ দেন শেখ হাসিনা।

এ বিষয়ে শেরপুর জেলার ঝিনাইগাতি উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রুবেল মাহমুদকে ফোন দেন প্রধানমন্ত্রীর ব্যক্তিগত সচিব। সেই নির্দেশ অনুযায়ী, রাতেই ভিক্ষুক নজিমুদ্দিনের বাড়ি যান উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা।

ভিক্ষুকের ঘরের বর্ণনা দিয়ে রুবেল মাহমুদ বলেন, জীর্ণ ভাঙ্গা ঘর তার। এখনো কুপি বাতি দিয়ে চলে।

রাতের মধ্যেই ঘর তৈরির বিষয়ে সম্ভাব্য সব তথ্য তৈরি করে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠানো হয়েছে বলে জানান উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা। তিনি বলেন, সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনীর আওতায় সরকার প্রয়োজনীয় সহযোগিতা দেবে।

জানা গেছে, ঝিনাইগাতীর কাংশা ইউনিয়নের গান্ধীগাঁও গ্রামের মৃত ইয়ার উদ্দিনের ছেলে মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন (৮০)। ছয় সন্তানের জনক নাজিম উদ্দিনের জীবন চলে ভিক্ষা করে। ছাউনির মতো একটি ঘরে বসবাস করলেও তিনি দু’বছর ধরে মানুষের কাছে হাত পেতে ৫-১০ টাকা করে নিয়ে ১০ হাজার টাকা সঞ্চয় করেছেন। এবার বর্ষার আগেই ঘর ঠিক করার জন্যই এ সঞ্চয়। কিন্তু করোনা পরিস্থিতিতে আশপাশে মানুষের আর্থিক দুরাবস্থা দেখে সিদ্ধান্ত বদল করেন।

খোঁজ নিয়ে জানতে পারেন ঝিনাইগাতীর ইউএনও রুবেল মাহমুদ ত্রাণ তহবিল গঠন করেছেন। তার মাধ্যমে গরিব মানুষ সহযোগিতা পাচ্ছেন। পরে নিজের জমানো ১০ হাজার টাকা স্বেচ্ছায় বর্তমান পরিস্থিতিতে অসহায়দের খাদ্য দেওয়ার জন্য দান করতে ইচ্ছুক হন তিনি।

সেই সিদ্ধান্তের পরিপ্রেক্ষিতে মঙ্গলবার তিনি জানতে পারেন ইউএনও মালিঝিকান্দা ইউনিয়নের খাটুয়াপাড়া গেছেন চুরি করা চাল উদ্ধার করতে। সেখানেই ছুটলেন তিনি। পরে ইউএনওকে পেয়ে তার হাতে ১০ হাজার টাকা তুলে দেন ওই ভিক্ষুক।

এ সময় ভিক্ষুক নজিমুদ্দিন গণমাধ্যমকর্মীদের কাছে বলেন, ‘আমি ভিক্ষা করে খাইয়ে-খুইয়ে দুই বছরে এ টেহা জড়ো করছি। আমার ঘরডা ভাঙে গেছে গ্যা। এহন আর ঘর-দরজা দিলাম না। দশে এহন (মানুষ) কষ্ট করতাছে, আমি এ টেহ্যা ইউএনও সাহেবের হাতে দিলাম। দশেরে দিয়ে দেখ, খাইয়ে বাঁচুক।’

বিষয়টি হতবাক করে তোলে ইউএনও, স্বেচ্ছাসেবক দলসহ উপস্থিত সবাইকে। পরে এ নিয়ে দেশের বিভিন্ন সংবাদমাধ্যম খবর প্রচার করলে বিষয়টি প্রধানমন্ত্রীর নজরে আসে। এরপরই ওই ভিক্ষুককে ঘর তুলে দেওয়ার জন্য প্রয়োজনীয় সব নির্দেশ দেন তিনি।