করোনার মধ্যেই পোশাক কারখানা খুলতে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে চিঠি


❏ বুধবার, এপ্রিল ২২, ২০২০ আলোচিত বাংলাদেশ

সময়ের কণ্ঠস্বর ডেস্ক- করোনা সংক্রমণের ঝুঁকির মধ্যেই বন্ধ থাকা পোশাক কারখানা খুলে দেওয়ার দাবি করেছে বাংলাদেশ গার্মেন্ট বায়িং হাউস অ্যাসোসিয়েশন (বিজিবিএ)। তারা বলছে, প্রতিযোগী দেশগুলো ক্রমশই ব্যবসা খুলে দিচ্ছে। তা ছাড়া বিশ্বব্যাপী কিছু পোশাকের চাহিদা বাড়ছে। কারখানা চালু করা না হলে এই ব্যবসা অন্যদেশে চলে যাবে।

পোশাক কারখানার খোলার দাবি জানিয়ে মঙ্গলবার (২১ এপ্রিল) প্রধানমন্ত্রী কার্যালয়ের মুখ্যসচিব বরাবর চিঠি দেন বিজিবিএর সভাপতি কাজী ইফতেখার হোসাইন।

এতে বলা হয়, বাংলাদেশ প্রধান রপ্তানি খাতের ব্যবসা ধরে রাখতে স্বাস্থ্যবিধি মেনে কিভাবে পোশাক খাতের কর্মকান্ড ও সংশ্লিষ্ট যানবাহন সীমিত আকারে চালু করা যায় তার পরিকল্পনা জরুরিভাবে নেওয়া উচিত।

বিজিবিএ বলেছে, করোনার কারণে প্রায় এক মাস ধরে লকডাউনের কারণে গার্মেন্ট বায়িং হাউস ও পোশাক কারখানার কাজ স্থবির হয়ে পড়ে। ফলে লাখ লাখ পোশাকশ্রমিক ও কর্মকর্তারা প্রায় বেকার। বায়িং হাউজ ও ট্রেডিং ব্যবসায়ীদের জীবন-জীবিকা অনিশ্চিয়তার মুখোমুখি।

সংগঠনটি দাবি করেছে, পোশাক খাতের প্রতিযোগী দেশগুলো ক্রমশ ব্যবসা খুলে দিচ্ছে। তা ছাড়া বিশ্বব্যাপী কিছু পোশাকের চাহিদা বাড়ছে। বর্তমানে উত্তর আমেরিকা ও ইউরোপের দেশগুলোর সঙ্গে বাংলাদেশের পোশাক খাতের যে সরবরাহ ব্যবস্থা গড়ে উঠেছে সেটি অব্যাহত না রাখা হলে হলে প্রতিযোগী দেশগুলোতে এই ব্যবসা স্থানান্তরের হুমকি রয়েছে। একবার সরবরাহ ব্যবস্থা ভেঙে পুনরায় তা প্রতিস্থাপন করা বাংলাদেশের জন্য চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াবে।

জানতে চাইলে বিজিবিএ সভাপতি ইফতেখার হোসাইন গণমাধ্যমকে বলেন, সীমিত আকারে কিভাবে গার্মেন্টস খোলা রাখা যায়, সে বিষয়ে দিকনির্দেশনা জানতে আমরা চিঠি দিয়েছি। সীমিত আকারে যদি গার্মেন্টস চালু রাখা সম্ভব হয়, তাহলেও আমরা প্রতিযোগিতায় কিছুটা টিকে থাকতে পারব। তা না হলে দীর্ঘ মেয়াদে গার্মেন্টস বন্ধ থাকলে দেশের অর্থনীতিতে বিরূপ প্রভাব পড়বে। আমরাও প্রতিযোগিতায় টিকে থাকতে পারব না। সে কারণেই চিঠি দেওয়া। তবে গার্মেন্টস খোলার সুনির্দিষ্ট কোনো তারিখের বিষয়টি চিঠিতে উল্লেখ করা হয়নি বলেও জানান বিজিবিএ সভাপতি।

এদিকে বন্ধ থাকা পোশাক কারখানা খুলে দেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে বলে জানিয়েছেন তৈরি পোশাকশিল্প মালিকদের সংগঠন বিজিএমইএ ও বিকেএমইএর নেতারা। তারা বলছেন, করোনা সংক্রমণের বিষয়টি পর্যবেক্ষণ করে ২৬ এপ্রিল থেকে ধাপে ধাপে কারখানা খুলে দেওয়া হতে পারে। শেষপর্যন্ত সেটি হলে ২ মে থেকে সব কারখানা খুলবে। তাতে পোশাকশিল্প মালিকদের সহায়তা করবে সরকার।