🕓 সংবাদ শিরোনাম
  • আজ বুধবার, ২৯ বৈশাখ, ১৪২৮ ৷ ১২ মে, ২০২১ ৷

যে কৌশলে করোনা মোকাবেলায় সফল ভিয়েতনাম

❏ বুধবার, এপ্রিল ২২, ২০২০ আন্তর্জাতিক
viet

আন্তর্জাতিক ডেস্কঃ বিশ্বজুড়ে ঝড়োগতিতে ছড়িয়ে পড়ছে কোভিড-১৯ মহামারি। মোট আক্রান্তের সংখ্যা এখন ২৫ লাখ ৮৫ হাজার ৩৫৮ জন। এর মধ্যে প্রাণ হারিয়েছেন ১ লাখ ৭৯ হাজারের বেশি।

চীনে উৎপত্তি হওয়া এই ভাইরাস বিশ্বের দুই শতাধিক দেশে ছড়িয়েছে। উন্নয়নশীল দেশ ভিয়েতনামের বিশাল সীমান্তজুড়ে রয়েছে চীন। করোনার জন্মভূমি সেই চীন হলেও প্রায় দশকোটি জনসংখ্যা নিয়ে অনেকটাই নিরাপদে রয়েছে ভিয়েতনাম। দেশটিতে এ পর্যন্ত ২৬৮ জন করোনায় আক্রন্ত হলেও কোনো মৃত্যু নেই। এমনকি ইতিমধ্যে ১৪০ জন পুরোপুরি সুস্থও হয়ে উঠেছেন।

ভিয়েতনামের এই সাফল্যের পেছনের কারণ খুঁজতে গিয়ে বিশ্লেষকরা পেয়েছেন তিনটি গুরুত্বপূর্ন কৌশল। জানা গেছে, গত ফেব্রুয়ারি থেকে দেশটিতে দেহের তাপমাত্রা অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে স্ক্রিনিং বা পরীক্ষা করা হচ্ছে। বিমানবন্দরে এ পরীক্ষা থেকে বাদ যায়নি কেউ। একইসঙ্গে তাদের কয়েক মাসের স্বাস্থ্যগত তথ্যও যাচাই করা হতো। কেউ মিথ্যা তথ্য দিলে সঙ্গে সঙ্গে তার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা।

বর্তমানে দেশটির কোনো বড় শহর বা প্রদেশ, একইসঙ্গে কোনো প্রতিষ্ঠান ভবনে ঢুকতে হলে স্ক্রিনিং ও প্রয়োজনীয় পরীক্ষা সেরে ঢুকতে হয়। সব শহরেই করোনা পরীক্ষা বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। কারো করোনা ধরা পড়লে ওই এলাকা পুরোটাই লকডাউন করে দেয়া হচ্ছে।

ফেব্রুয়ারি থেকেই ভিয়েতনামে কোয়ারেন্টাইন ও লকডাউন মেনে চলা হচ্ছে। দেশটিতে গত ৫ মার্চ থেকে নিজেদের উদ্ভাবিত তিন ধরনের করোনার কিট পাওয়া যাচ্ছে। এগুলো জনসাধারণ যে কোনে স্থান থেকে ২৫ ডলারে কিনে নিয়ে নিজেরাই পরীক্ষা করতে পারে। ফলাফল পাওয়া যায় মাত্র ৯০ মিনিটে। এর ফলে দেশটিতে ব্যাপকভাবে করোনা পরীক্ষা সম্ভব হয় এবং সরকারও সে হিসেবে ব্যবস্থা নিতে পেরেছে।

সফলতার ক্ষেত্রে আরেকটি বড় ভূমিকা রেখেছে জনগণের সঙ্গে সরকারের যোগাযোগ। জানুয়ারি থেকেই ভিয়েতনাম সরকার জনগণের মাঝে করোনা নিয়ে প্রচারণা শুরু করে। জানিয়ে দেয়া হয় কীভাবে সচেতন থাকতে হবে। করোনা হলে কী করতে হবে এবং কীভাবে মোকাবিলা করতে হবে। সেই সঙ্গে কীভাবে একে অন্যের ক্ষতি না করে থাকা যায় সেটিও জনগণকে নিশ্চিত করতে বলা হয়।

কারো করোনা ধরা পড়লে তা প্রচার করে দেয়া হচ্ছে, যাতে অন্যরা সচেতন হতে পারে। একইসঙ্গে কেউ তথ্য গোপন করলে বা আইন লঙ্ঘন করলে তার বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে। দেশটির হাসপাতালগুলোতেও করোনা চিকিৎসার যথাযথ ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হয়েছে।

কোনো রোগী আসলে তার চিকিৎসায় দ্রুত ব্যবস্থা নেয়া হয়। মোটা দাগে তিনটি কৌশল অবলম্বন করেই করোনায় মৃত্যু শূন্য রাখতে পেরেছে দেশটি।

সূত্র: দ্যা কনভারসেশন