• আজ ২৬শে বৈশাখ, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ

পৃথিবী বদলে গেছে, বদলায়নি বাংলাদেশ সরকার: রিজভী

❏ বুধবার, এপ্রিল ২২, ২০২০ জাতীয়

সময়ের কণ্ঠস্বর, ঢাকা- করোনাভাইরাসের আক্রমণে পৃথিবী হঠাৎ করে বদলে গেলেও বাংলাদেশে সরকারের আচরণ বদলায়নি বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী আহমেদ।

বুধবার (২২ এপ্রিল) সকালে নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জ উপজেলার দাউদপুর ইউনিয়নে স্থানীয় বিএনপি ও অঙ্গ সংগঠনের উদ্যোগে থানা বিএনপির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক-সাবেক চেয়ারম্যান শরীফ আহমেদ টুটুলের ব্যবস্থাপনায় ইউনিয়নের অসহায়, কর্মহীন মানুষদের মধ্যে ত্রাণ বিতরণ করার সময় তিনি এ কথা বলেন।

এ সময় এক হাজার ২০০ জনকে খাদ্যসামগ্রীর (চাল, ডাল, আটা, মুড়ি, পেঁয়াজ ও আলু) প্যাকেট দেয়া হয়। সেখানে উপস্থিত ছিলেন যুবদলের কেন্দ্রীয় সহসাংগঠনিক সম্পাদক সাব্বির হোসেন দীপু, বিএনপি নেতা হিরোন মাস্টার, রূপগঞ্জ থানা ছাত্রদলের আবু মো. মাসুম, সুলতান মাহমুদ, নাদিম মাহমুদ, মাইনুল ইসলাম সুরুজ, নাসিম হোসেন প্রিন্স প্রমুখ।

ত্রাণ বিতরণ শেষে উপস্থিত নেতাকর্মী ও এলাকাবাসীর উদ্দেশ্যে রিজভী বলেন, করোনাভাইরাস নামক অদৃশ্য শত্রুর ছোবলে বিশ্বের অধিকাংশ গ্রাম আর নগর মৃত্যুপুরীতে পরিণত হয়েছে। দুনিয়াজুড়ে শিল্প-কলকারখানার চাকা বন্ধ হয়ে গেছে, শেয়ার বাজারে ধ্বস নেমেছে, অর্থনীতিতে চরম বিপর্যস্ত অবস্থা বিরাজ করছে। সমুদ্রগামী জাহাজ, বিমান, সড়ক পরিবহন একরকম বন্ধ হয়ে গেছে। খাদ্যের সংকটে চারদিকে হাহাকার শুরু হয়েছে। রাস্তাঘাট শূন্য, স্কুল-কলেজ বন্ধ। অর্থাৎ পৃথিবী হঠাৎ করেই বদলে গেছে। কিন্তু বদলায়নি বাংলাদেশ সরকার।

তিনি বলেন, ‘তারা বিরোধী দল দমন ও উচ্ছেদে স্বভাবসুলভ স্বৈরাচারী নীতি অব্যাহত রেখেছে। আর সেজন্যই নিরন্ন, ক্ষুধার্ত মানুষের অন্ন চাল, ডাল, তেল, আলু চলে যাচ্ছে ক্ষমতাসীন দলের ঘরে। বিএনপির ত্রাণ কার্যক্রমে বাধা দিয়ে, তাদের মিথ্যা মামলা জড়িয়ে, গ্রেফতার করে নিরন্ন মানুষের হাহাকার আরও বাড়িয়ে দিচ্ছে। আর সরকারি দলের নেতাকর্মীদের সরকারি ত্রাণ নিয়ে তেলেসমাতির মহাধুমধাম মহাসমারোহে চলছে।’

রিজভী বলেন, ‘ক্ষুধার্ত মানুষ ত্রাণের দাবিতে সড়ক অবরোধ করছে, বিক্ষোভ করছে। অথচ ইসলামপুর, সিরাজগঞ্জ, লালমনিরহাট, হাতিবান্ধা, বকশিগঞ্জ, জামালপুর, দিনাজপুরসহ দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে হাজার হাজার বস্তা চাল, আটা, ভোজ্য তেল উদ্ধার হচ্ছে। এই লুটপাটে সঙ্গে শাসক দলের লোকেরাই জড়িত। বিনাভোটে ক্ষমতায় থাকা, নানা ধরনের কালো আইন প্রণয়ন, বিরোধী দলকে নিশ্চিহ্ন করার এজেন্ডা বাস্তবায়ন এবং সমালোচকদের মুখ বন্ধ করতে রাষ্ট্রযন্ত্রকে ব্যাবহার করার কারণেই আত্মসাৎ, চুরি ও লুটের সংস্কৃতি প্রতিষ্ঠিত হয়েছে।’

‘এজন্যই করোনাভাইরাসের তীব্র আঘাত বাংলাদেশকে সইতে হচ্ছে। রাজধানীসহ জেলা পর্যায়ের অধিকাংশ হাসপাতালে করোনা রোগীদের জন্য একটি শয্যাও প্রস্তুত হয়নি। করোনা মোকাবিলায় মেডিক্যাল সরঞ্জামাদি ক্রয় নিয়েও চলছে নানা কেলেঙ্কারি,’— বলেন রুহুল কবির রিজভী।

তিনি বলেন, ‘যে ডাক্তার, স্বাস্থ্যকর্মী, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর লোকেরা করোনা মোকাবিলায় ফ্রন্টলাইনে লড়াই করছেন, তাদের পর্যাপ্ত নিরাপত্তার ব্যবস্থা না থাকায় এরই মধ্যে কয়েকজনের মৃত্যু হয়েছে এবং তাদের অনেকেই করোনায় আক্রান্ত হচ্ছেন।’

রিজভী বলেন, ‘সরকারের উদ্দেশ্যপ্রণোদিত অবহেলার কারণেই বাংলাদেশে এখন করোনা আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়ছে।’

করোনা পরিস্থিতি নিয়ে রুহুল কবীর রিজভী বলেন, বিএনপির দুঃসময়েও নেতাকর্মীরা অসহায় দরিদ্রদের পাশে রয়েছেন। অনেকেই স্বাধীনভাবে ত্রাণ বিতরণ করতে পারছেন না। আওয়ামী লীগের ক্যাডাররা বাধা দিচ্ছে। তবু মানুষের পাশে দাঁড়াচ্ছেন বিএনপির নেতৃবৃন্দ। সাধারণ মানুষের দুঃখকষ্টকে হাসিতে রূপান্তর করতেই আমাদের এ প্রচেষ্টা।