টাঙ্গাইলে ‘এক মিনিটের কালবৈশাখী ঝড়ে’ গ্রাম লন্ডভন্ড, ফসলের ব্যাপক ক্ষতি


❏ বুধবার, এপ্রিল ২২, ২০২০ ঢাকা, দেশের খবর

মোল্লা তোফাজ্জল, টাঙ্গাইল প্রতিনিধি- টাঙ্গাইলের কালিহাতীতে কালবৈশাখী ঝড়ে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির ঘটনা ঘটেছে। বুধবার (২২ এপ্রিল) বিকেল ৪টার দিকে উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় এই ঝড় আঘাত হানে। এতে কমপক্ষে অর্ধশত ঘর-বাড়ি লন্ডভন্ডসহ কয়েকশ একর ফসলি জমির ধান ক্ষতিগ্রস্ত হয়।

স্থানীয়রা বলছেন, ‘মাত্র এক মিনিটের মধ্যে গাছপালাসহ বাড়িঘর ভেঙে যায়।’ এছাড়া শিলাবৃষ্টি ও গাছ চাপায় বেশ কয়েকজন আহত হওয়ার খবরও পাওয়া গেছে। আহতদের স্থানীয় হাসপাতালে ভর্তি করে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। তবে তাৎক্ষণিকভাবে আহতদের নাম পরিচয় জানা যায়নি।

সরেজমিনে দেখা যায়, সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে উপজেলার বাংড়া ইউনিয়নে। এখানে অনেক বাড়িঘর ভেঙে চুরমার হয়েছে। ইছাপুর গ্রামে ধানক্ষেতে ঘরের অনেক টিন পড়ে রয়েছে। এছাড়া ক্ষতিগ্রস্থ কৃষকরা ধান ক্ষেতের পাশে মাথায় হাত দিয়ে বসে থাকতেও দেখা গেছে।

উপজেলা ঘড়িয়া গ্রামের ক্ষতিগ্রস্থ কৃষক আফাজ আলী, ওয়াজেদ আলী, আনোয়ার হোসেনসহ আরো অনেকে বলেন, এমনিতেই করোনাভাইরাসের কারণে আমরা খুবই কষ্টে জীবনযাপন করছি। এরমধ্যে ঝড়ে আমাদের পাকা ধান শেষ করে দিলো। এখন আমাদের আর কষ্টের শেষ নাই। না খেয়ে মরতে হবে।

ইছাপুর গ্রামের আব্দুল খালেক বলেন, এক মিনিটের ঝড়ে দোকানপাটসহ প্রায় ৫০টি ঘর-বাড়ি বিধ্বস্ত হয়ে গেছে। ঝড়ে এই এলাকার ফসলেরও ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। অনেকের বাড়ির চাল উড়ে গেছে।

এছাড়া টাঙ্গাইল-ময়মনসিংহ সড়কের উপর গাছ ও বিদ্যুতের খঁটি ভেঙ্গে পড়ে বিদুৎ সংযোগ ও সড়ক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে। ক্ষতিগ্রস্তদের ক্ষয়-ক্ষতি লাঘবের জন্য সরকারি সহায়তার দাবিও জানান তিনি।

কালিহাতী উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা সাজ্জাত হোসেন তালুকদার বলেন, বুধবার বিকালের হঠাৎ ঝড়ে উপজেলার নারান্দিয়া ইউনিয়নের ঘড়িয়া, দুর্গাপুর ইউনিয়নের পটল, সল্লা ও বাংড়া ইউনিয়নের ঝড়ের সাথে শিলাবৃষ্টিতে বৃধান ২৮ ও ৮৬ পাকা ধানের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। আমরা অচিরেই ক্ষতির পরিমান নির্ধারণ করবো।