রানা প্লাজা ধসের ৭ বছর

১২:৫৬ পূর্বাহ্ন | শুক্রবার, এপ্রিল ২৪, ২০২০ ফিচার
rana

মোঃমনির মন্ডল, নিজস্ব প্রতিবেকদ, সাভারঃ রানা প্লাজা ধসে ১ হাজার ১৩৬ জনের মৃত্যুর ঘটনার ৭ বছর পূর্ণ হচ্ছে শুক্রবার। এ উপলক্ষে প্রতি বছর ধসে পড়া রানা প্লাজার সামনে বর্ষপূর্তি পালন করতো বিভিন্ন শ্রমিক সংগঠন। কিন্তু বর্তমান করোনা পরিস্থিতির কারণে সকল কর্মসূচী স্থগিত ও নিহত শ্রমিকদের প্রতি শ্রদ্ধা ঘরে বসে জানানোর আহবান করেছে সাভার-আশুলিয়া ২৫টি শ্রমিক সংগঠনের নেতাকর্মীরা।

এ বিষয়ে গার্মেন্টস শ্রমিক ট্রেড ইউনিয়নের সাংগঠনিক সম্পাদক খায়রুল মামুন মিন্টু জানান, বিশ্বজুড়ে মহামারি করোনার প্রভাবে দেশ, জাতি ও শ্রমিকদের কল্যানে রানা প্লাজার সকল কর্মসূচী স্থগিত ঘোষনা করেছি। যাতে করে সামাজিক দুরুত্ব বজায় থাকে।

বস্ত্র ও পোশাক শিল্প শ্রমিকলীগের কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক সারোয়ার হোসেন শ্রমিকদের অনুরোধ করে জানান, বিশ্বব্যাপী করেনায় ফলে ঘরে বসে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে হতহাত শ্রমিকদের প্রতি আপনাদের সমবেদনা প্রকাশ করবেন। তিনি রানা প্লাজার স্মৃতিসম্ভ না যাওয়া অনুরোধ করেন শ্রমিকদের।

পাশাপাশি রানা প্লাজার বর্ষপূর্তির সব ধরনের কর্মসূচী বাতিল করাও ঘোষণা দেন তিনি। জনপ্রতিনিধি ও প্রশাসনের আহবানের পাশাপাশি নিজেদের নৈতিক অবস্থান থেকে এই সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে বলে জানান।

সাত বছর আগে ২০১৩ সালের ২৪ এপ্রিল সাভারের রানা প্লাজা ধসে নিহত হন ১ হাজার ১৩৬ জন। গুরুতর আহত হয়ে পঙ্গুত্ব বরণ করেন আরও ১ হাজার ১৬৯ জন। এ ঘটনায় মোট তিনটি মামলা হয়। এর মধ্যে অবহেলাজনিত মৃত্যু চিহ্নিত হত্যা মামলাটি করে পুলিশ। ইমারত নির্মাণ আইন লঙ্ঘন করে ভবন নির্মাণের অভিযোগে অপর মামলাটি করে রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (রাজউক)। আর দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) ভবন নির্মাণসংক্রান্ত দুর্নীতি নিয়ে আরেকটি মামলা করে।

প্রায় চার বছর আগে ২০১৬ সালের ১৮ জুলাই হত্যার অভিযোগে রানা প্লাজার মালিক সোহেল রানাসহ ৪১ জনের বিরুদ্ধে ঢাকার জেলা ও দায়রা জজ আদালত অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরুর আদেশ দেন।

ঢাকা জেলার পিপির দপ্তর সূত্র বলছে, বিচারিক আদালতের অভিযোগ গঠনের আদেশের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে আট আসামি হাইকোর্টে আবেদন করেন।

শুনানি নিয়ে এই আটজনের পক্ষে হাইকোর্টের স্থগিতাদেশ আসে। ইতিমধ্যে ছয় আসামির স্থগিতাদেশ প্রত্যাহার করা হয়েছে। কেবল সাভার পৌরসভার তৎকালীন মেয়র রেফায়েত উল্লাহ এবং তৎকালীন কাউন্সিলর মোহাম্মদ আলী খানের পক্ষে স্থগিতাদেশ বহাল আছে।

রানা প্লাজা ধসের জন্য ছয়জন সরকারি কর্মকর্তাকে অভিযোগপত্রভুক্ত আসামি করার অনুমতি না পাওয়ার কারণে তিন বছর ঝুলে ছিল এই মামলা। সে সময় জনপ্রশাসন ও শ্রম মন্ত্রণালয়ের যুক্তি ছিল, যাঁরা বড় অপরাধ করেননি, তাঁদের অভিযোগপত্রভুক্ত আসামি করার অনুমতি দিতে পারবে না তারা। শেষ পর্যন্ত সরকারের অনুমোদন না পাওয়া গেলেও তাঁদের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দেয় পুলিশ।

আদালত সূত্র বলছে, রানা প্লাজা ধস হত্যা মামলায় ৪১ আসামির মধ্যে বর্তমানে কারাগারে আছেন একজন। তিনি হলেন রানা প্লাজা ভবনের মালিক সোহেল রানা। জামিনে আছেন ৩২ আসামি। পলাতক ছয়জন। মারা গেছেন দুই আসামি।