• আজ বুধবার, ২৯ বৈশাখ, ১৪২৮ ৷ ১২ মে, ২০২১ ৷

ভাড়ার জন্য তাড়িয়ে দেয়া অসহায় পরিবারকে ঘরে পৌঁছে দিল র‌্যাব

❏ শনিবার, এপ্রিল ২৫, ২০২০ দেশের খবর, সিলেট

সময়ের কণ্ঠস্বর ডেস্ক- ঢাকায় ঝড়ের রাতে ভাড়াটিয়া তাড়িয়ে দিয়ে বাড়িওয়ালি গ্রেফতারের সপ্তাহ না পেরুতেই এবার মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গলেও ঘটল একই অমানবিক ঘটনা।

বাসাভাড়া পরিশোধ করতে ব্যর্থ হওয়ায় এক ভাড়াটিয়া পরিবারকে ঘর থেকে বের করে দিয়ে তালা লাগিয়ে দেন এক বাড়িওয়ালা। পরবর্তীতে র‍্যাব-৯ শ্রীমঙ্গল ক্যাম্প কমান্ডার এএসপি মো. আনোয়ার হোসেন শামীমের হস্তক্ষেপে মধ্যরাতে ফের বাসায় উঠতে সক্ষম হয় পরিবারটি।

ঘটনাটি ঘটেছে বৃহস্পতিবার দিবাগত রাতে উপজেলার পূর্ব শ্রীমঙ্গল সুরমাভ্যালি ওয়ার্কশপের পাশে।

জানা যায়, সিএনজি চালক নুরুল হক (৪৫) সদর ইউনিয়নের ওই এলাকায় বাচ্চু মিয়ার (৫৫) বাসায় ভাড়া থাকেন। করোনার কারণে লকডাউনের মধ্যে আয়-রোজগার না থাকায় স্ত্রী ও তিন সন্তান নিয়ে কষ্টে দিন পার করছিলেন নুরুল।

বাড়ির মালিক বাসাভাড়ার জন্য তাগাদা দিতে থাকেন। এক পর্যায়ে বৃহস্পতিবার রাতে ওই বাড়িওয়ালা নুরুল হককে বাসা থেকে বের করে বাসায় তালা ঝুলিয়ে দেন।

এ বিষয়ে এএসপি আনোয়ার হোসেন শামীম শুক্রবার রাতে ফেসবুকে নিজের ওয়ালে এ বিষয়ে একটি পোস্ট দিয়েছেন। তিনি লিখেছেন, ‘আলহামদুলিল্লাহ, আমি পেরেছি, আমরা শ্রীমঙ্গল র‍্যাব ক্যাম্প পরিবার পেরেছি।’

মোহাম্মদ নুরুল হক, পেশায় সিএনজি চালক। বাসাভাড়া পরিশোধ করতে না পারায় বাড়িওয়ালা তাকে সপরিবারে বাসা থেকে বের করে ঘরে তালা ঝুলিয়ে দিয়েছিলেন। এই করোনা পরিস্থিতিতে আয়-উপার্জন না থাকায় বাচ্চাদের মুখেই যেখানে নিয়মিত দুমুঠো ডালভাত তুলে দিতে পারছিলেন না অসহায় নুরুল, সেখানে বাসাভাড়া কোথায় থেকে দিবেন! এক মাসের ভাড়া বকেয়া হয়ে যায়। কিন্তু বাড়িওয়ালা তা মানবেন কেন!! কয়েকদিন ভাড়ার জন্য তাগাদা দিয়েও কাজ না হওয়ায় ঘরে সোজা তালা।

নিরুপায় হয়ে স্ত্রী এবং সকাল থেকে উপোস শিশুসন্তানদের নিয়ে রাস্তায় রাস্তায় ঘুরছিলেন নুরুল হক। আমি ছিলাম রাত্রিকালীন চেকপোস্টে। সেখানেই এই ‘বাস্তুচ্যুত’ পরিবারটির সঙ্গে সাক্ষাৎ এবং তাদের মুখ হতে এই মর্মান্তিক ঘটনা শ্রবণ। আমার নিজের মধ্যে এক ধরনের অপরাধবোধ তৈরি হলো। তবে কি আমার দায়িত্বাধীন এলাকার লোকদের বিপদে আমি যথাযথভাবে সাড়া দিতে পারছি না!!

তাদেরকে আমার সরকারি গাড়িতে তুলে সোজা ক্যাম্পে নিয়ে এলাম। সেখানে বিস্তারিত শুনে, স্থানীয় জনপ্রতিনিধিকে ডেকে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা গ্রহণ করে নুরুল হককে তার বাসায় তুলে দিয়ে এসেছি। বাড়িওয়ালা আমার কাছে প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন, করোনা পরিস্থিতি যতদিন থাকবে, ভাড়ার জন্য তিনি আর কোনো ভাড়াটিয়াকে চাপ সৃষ্টি করবেন না।

এ ব্যাপারে ভাড়াটিয়া নুরুল হক বলেন, বাড়ির মালিক গত বেশ কয়েকদিন ধরেই ভাড়ার জন্য চাপ দিয়ে আসছিলেন। কিন্তু ঘরে বাচ্চাদের জন্য ভাতের চালই নাই, ভাড়া কিভাবে দিবো৷

তিনি আরও বলেন, বৃহস্পতিবার দুপুরে আমার স্ত্রী পাশের বাসা থেকে চাল ধার করে এনে ভাত রান্না করেছিলো। কিন্তু বাড়ির মালিক সেই ভাতের পাতিল লাথি মেরে ফেলে দিয়েছে। পরে র‍্যাব কমান্ডার স্যার চেয়ারম্যান সাহেবকে নিয়া আইসা আমাদেরকে বাসায় তুইলা দিয়া গেছেন। তা না হলে আজ হয়তো পরিবার-পরিজন নিয়া ঝড়-বৃষ্টিতে রাস্তায়ই ঘুমাতে হইতো।

এদিকে, শুত্রুবার সকালে র‌্যাব কমান্ডার এএসপি আনোয়ার হোসেনের নেতৃত্বে র‌্যাব সদস্যরা ভাড়াটিয়া নুরুল হক ও বাড়ির মালিকের পরিবারের জন্য খাদ্যসামগ্রী নিয়ে ছুটে যান ওই এলাকায়। র‌্যাব কমান্ডারের এমন মানবিক কাজে এলাকাবাসী বেশ প্রশংসা করেছেন।