জমানো টাকা অসহায় দুস্থদের দান করে নজির স্থাপন শিশু আয়ানের

২:০৮ অপরাহ্ন | শনিবার, এপ্রিল ২৫, ২০২০ ঢাকা, দেশের খবর

রাজু আহমেদ, স্টাফ রিপোর্টার- রাজধানীর মিরপুরে নিজের টিফিনের টাকা, বছরের বিশেষ দিনগুলোতে বাবা-মা ও আত্মীয়-স্বজনদের দেয়া উপহারের জমানো অর্থ অসহায় দুস্থ মানুষের মাঝে দান করে বিশেষ নজির স্থাপণ করলো মাত্র আট বছরের শিশু আয়ান।

আকিদুল ইসলাম আয়ান। বয়স ০৮ বছর। রাজধানীর একটি স্কুলে দ্বিতীয় শ্রেণির ছাত্র। করোনা নামক অদৃশ্য ভাইরাসের করাল থাবায় সারা বিশ্বের ন্যায় স্থবির বাংলাদেশের রাজধানীতে বসবাসকারী খেটে খাওয়া মানুষের কষ্টের কথা শিশু আয়ান বিভিন্ন সংবাদ মাধ্যমের বদৌলতে জেনেছে। যা তার শিশু মনে ব্যাপকভাবে নাড়া দেয়।

শিশু আয়ানের বাবা শফিকুল ইসলাম জানান, আমরা নিজেদের সাধ্যমতো অসহায় মানুষদের বিভিন্ন খাদ্য সহায়তা করে যাচ্ছি। যা দেখে শিশু আয়ান উৎসাহিত হয়ে আমাকে বলে, ‘বাবা আমি আমার টিফিনের জমানো টাকাগুলো অসহায় মানুষদের দিতে চাই’। আর এগুলো পুলিশ আঙ্কেলদের মাধ্যমে দিতে চাই। কারন পুলিশ আঙ্কেলরা মানুষের বাড়ি-বাড়ি খাবার পৌঁছে দিচ্ছে।

ছেলের একথা শুনে মনটা তাৎক্ষণিক গর্বে ভরে উঠেছিল। মনে মনে খুব খুশি হলেও কয়েক মুহুর্তের জন্যে ভেবেছিলাম, ছেলেটা তার ‘ইলেকট্রিক ভল্ট’ টাকে কতোটা ভালো বাসে!

গত দুই বছর যাবৎ কি পরম মায়ায় সেটিকে আঁকড়ে রেখেছে। যেদিন প্রথম এই ভল্টটা হাতে পায় কি যে আনন্দ তার! সারা রাত বুকে জড়িয়ে ঘুমিয়েছিল। তার কতো পরিকল্পনা! যখনই টাকা জমানোর সুযোগ পেত, এনে ভল্টে জমা করত।

শফিকুল আরো জানান, ঈদের সালামি, টিফিনের টাকা, আত্মীয় স্বজনের নিকট হতে প্রাপ্ত উপহার যা পায় সব ভল্টে জমা করে। আর নতুন নতুন পরিকল্পনা আটে। ছেলে আজ সব পরিকল্পনা ছেড়ে তার এই ছোট্ট জীবনে সকল সঞ্চয় মানুষের কল্যানে দিয়ে দিতে চায়।

কি যে সে অনূভুতি! ছেলের প্রতি গর্বে মনের আনন্দে নিজের অজান্তেই চোখ দুটো ভিজে গেলো। সেই সুখানুভূতি হলো হৃদয় পটে, ভেসে উঠলো সে সুখস্মৃতি। পরে আয়ানের মায়ের সাথে কথা বলে আমি মিরপুর মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) সাহেবকে ফোন করে আয়ানের ইচ্ছার কথা জানালে তিনিও আনন্দের সাথে স্বাগতম জানান।

এরপর আয়ান ও তার পরিবার মিরপুর মডেল থানায় এসে আয়ানের সেই ইলেকট্রিক ভল্ট টি খুলে সমস্ত টাকা থানার অফিসার ইনচার্জের হাতে তুলে দিলেন মানবতার কল্যানে।

এ বিষয়ে মিরপুর মডেল থানার এস.আই মেহেদী হাসান তার অনুভূতি জানিয়ে বলেন, বিষয়টি আমার মনটাকেও ব্যাপক ভাবে নাড়া দিয়েছে। বেঁচে থাক বাংলাদেশ পুলিশ ও বাংলার জনগনের প্রতি আয়ানদের এই আস্থা ও ভালোবাসা। এই আয়ানদের জন্যই বারবার জিতে যায় মানবতা। আমরা পাই শক্তি ও সাহস। হয়তো আয়ানদের জন্যই আমরা (বাংলাদেশ পুলিশ) নিজের স্ত্রী-সন্তানদেরকে ঘরে ফেলে রাস্তায় থাকার সাহস পাই।

আসুন না আয়ানদের জন্য সাম্য ও ন্যায়ের ভিত্তিতে একটি নিরাপদ বাংলাদেশ গড়ে যাই। আসুন না, দয়াকরে আর কয়টা দিন একটু কষ্ট হলেও আয়ানদের জন্য ঘরে থাকি। আয়ানের এই মহানুভবতা দেখে হয়তো সমাজের অনেক বিত্তবানরাও এগিয়ে আসবে অসহায় দুস্থ মানুষের সহায়তায়।