কিট আসুক বা না আসুক গণস্বাস্থ্য কাউকে ঘুষ দেবে না: জাফরুল্লাহ

৭:৫৭ অপরাহ্ন | রবিবার, এপ্রিল ২৬, ২০২০ জাতীয়

সময়ের কণ্ঠস্বর, ঢাকা- সরাসরি ঘুষ চাওয়া না হলেও করোনা পরীক্ষার কিট নিয়ে গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রকে নানা অজুহাতে হয়রানি করা হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন প্রতিষ্ঠানটির প্রতিষ্ঠাতা ট্রাস্ট্রি ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী।

বলেছেন, ‘গত ৪৮ বছরে গণস্বাস্থ্য কাউকে ঘুষ দেয়নি, দেবে না। গণস্বাস্থ্যের উদ্ভাবিত কিট (ব্যবহারযোগ্য হয়ে) আসুক আর না আসুক, কাউকে ঘুষ দেব না।’

রোববার (২৬ এপ্রিল) বিকেল ৪টায় রাজধানীর ধানমন্ডির গণস্বাস্থ্য নগর হাসপাতালে এক সংবাদ সম্মেলনে ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী এসব কথা বলেন।  এ সময় উপস্থিত সাংবাদিকদের তিনি বলেন, ‘প্রয়োজনে আন্দোলন করব, আপনাদের কাছে ‍দুঃখ প্রকাশ করব।’

এর আগে শনিবার (২৫ এপ্রিল) বিকেলে একই জায়গায় করোনাভাইরাস পরীক্ষার কিট ‘জিআর কোভিড-১৯ ডট ব্লট’ হস্তান্তর করে গণস্বাস্থ্য কেন্দ্র। আমন্ত্রণ জানানোর পরও যুক্তরাষ্ট্রের গবেষণা প্রতিষ্ঠান সেন্টার্স ফর ডিজিস কন্ট্রোল অ্যান্ড প্রিভেনশন (সিডিসি) ছাড়া গণস্বাস্থ্য কেন্দ্র উদ্ভাবিত এ কিট গ্রহণের জন্য যায়নি সরকারের কোনো প্রতিষ্ঠান। পরদিনই এ বিষয়ে বক্তব্য দিতে সংবাদ সম্মেলন ডাকেন গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের প্রতিষ্ঠাতা ট্রাস্টি।

ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী বলেন, ‘আমরা দেশের একটা উপকার করেছি। গতকাল ছিল আনন্দের দিন। সেজন্য সবার সামনে কিট পরীক্ষার জন্য সরকারের কাছে হস্তান্তর করতে চেয়েছিলাম। কিন্তু নানা অজুহাত দেখিয়ে গণস্বাস্থ্যের কিট গ্রহণ করেনি সরকার। আমরা জনগণের স্বার্থে শুধু সরকারের মাধ্যমে পরীক্ষা করে কিট কার্যকর কি না, তা দেখতে চেয়েছিলাম।’

তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশের এত বড় একটা জাতীয় দুর্যোগ, বাংলাদেশের কিছু সরকারি আমলা সেই দুর্যোগটাই বুঝতে পারছেন না। তারা জনগণের স্বার্থের চেয়ে ব্যবসায়ী স্বার্থ প্রাধান্য দিয়েছেন। গতকাল আমরা এখানে হস্তান্তরের একটা উদ্যোগ নিয়েছিলাম, এটা অনুমোদনের জন্য। এটা অনুমোদন করার দায়িত্ব হলো ঔষধ প্রশাসনের। দুর্ভাগ্যবশত ঔষধ প্রশাসন এমন লোকের দ্বারা নিয়ন্ত্রিত হচ্ছে যারা না ফার্মাসিস্ট, না ফার্মাকোলজিস্ট। ফলে এই জিনিসগুলোর গুরুত্ব তারা ওইভাবে উপলব্ধি করতেই সক্ষম হচ্ছেন না। উনারা সম্পূর্ণ ব্যবসায়িক স্বার্থ দ্বারা নিয়ন্ত্রিত হচ্ছে।’

‘উনারা যেটা করছেন, আমাদেরকে বলেছেন এটার অনুমোদন নাই বলে আমরা আসতে পারব না। আমরা তো আপনাদের দিতে চাই, যাতে আপনারা পরীক্ষা করে দেখতে পারেন। আমাদেরকে কালকে বলা হলো-আমরা আসব না। ঠিক আছে আজকে আমরা গেলাম। আজকে গণস্বাস্থ্য থেকে ড. মহিবুল্লাহ, বিজন এবং আরেকজন গেলেন। তাও তাদের কেমন আমলাতান্ত্রিকতা। আমার তিনজন লোক গেছে- দুজনকে ঢুকতে দেবে, আরেকজনকে দেবে না। অথচ বাইরের তিনজন লোককে ভেতরে বসিয়ে রেখেছেন’, বলেন গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের প্রতিষ্ঠাতা।

তিনি বলেন, ‘আমরা গিয়েছিলাম তারা জমা নেননি। বলছে সিআরও দিয়ে আসেন। সিআরও তো বন্ধ। এখন উনারা বাজেট তৈরি করবেন। দেবেন। লেনদেন ঠিক হবে। তারপরে উনারা রিপোর্ট দেবেন। আর কি করবেন।’

ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী বলেন, ‘জনগণের স্বার্থের বিপরীতে তারা যে কাজগুলো করছে, এটা অত্যন্ত অনৈতিক। তারা এইভাবে দেশের ক্ষতি করছে। তারা পাবলিক ইন্টারেস্টের চেয়ে প্রাইভেট ইন্টারেস্ট বেশি করে দেখছে।’

তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশের একটা প্রতিষ্ঠান তৈরি করেছে। এটা ভালোমন্দ দেখার দায়িত্ব তাদের। কিন্তু কেন যে তারা এটা করছে, আমরা সত্যিই জানি না। এটার একটাই এক্সপ্লেনেশন (ব্যাখ্যা) হতে পারে সিআরও’র মাধ্যমে হলে টাকা-পয়সার লেনদেন করা যায়। সিআরও না হলে টাকা পয়সা লেনদেন করা যায় না। আমরা সরকারি যত রকম ফি আছে, দিতে বাধ্য, দেব। কিন্তু চালাকি করে জনগণের স্বাস্থ্যহানিকর কোনো কাজের সাথে আমরা যুক্ত হতে রাজি নাই। আমাদের বিজ্ঞানীরা এটা বের করেছেন জনস্বার্থে। দেরি হওয়া মানে হচ্ছে, প্রতিদিন কয়েক হাজার লোক ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।’

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পক্ষ থেকে ঘুষ চাওয়া হয়েছে কি না- এমন প্রশ্নে জাফরুল্লাহ বলেন, ‘না ঘুষ চাওয়া হয়নি। সেই সাহস তাদের নেই। গবেষণার দুর্নীতি এটা নতুন নয়। আপনাকে হয়রানি বারবার করা হলে একসময় নিজে থেকে খোঁজ নেবেন বড় কর্মকর্তার বাসার বাজার আছে কি না। ঘুষ তো নানাভাবে নেয়া হতে পারে। কিন্তু আমরা কাউকে টাকা দিতে পারবো না।’