‘ভিক্ষুক নাজিম উদ্দিন সারাবিশ্বকে দেখিয়ে দিল মানবিকতা কিঃ

◷ ১১:৪১ পূর্বাহ্ন ৷ সোমবার, এপ্রিল ২৭, ২০২০ জাতীয়

সময়ের কণ্ঠস্বর, ঢাকা- মহামারি করোনা ভাইরাস মোকাবিলায় অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়াতে ভিক্ষা করে সংগ্রহ করা ১০ হাজার টাকা সরকারি কোষাগারে জমা দেওয়ায় শেরপুরের ভিক্ষুক নাজিম উদ্দিনের প্রশংসা করলেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

আজ সোমবার (২৭ এপ্রিল) সকালে প্রধানমন্ত্রীর সরকারি বাসভবন গণভবন থেকে করোনা ভাইরাস পরিস্থিতি নিয়ে রাজশাহী বিভাগের আট জেলার প্রশাসন, জনপ্রতিনিধি, চিকিৎসকসহ অন্যান্য প্রতিনিধিদের সঙ্গে ভিডিও কনফারেন্সে মতবিনিময় করেন প্রধানমন্ত্রী। এ সময় তিনি সূচনা বক্তব্যে এ প্রশংসা করেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশের মানুষের প্রতি নাজিম উদ্দিনের এ ভালোবাসা সত্যিই বিরল। যখন কেউ কেউ নিজের আখের গোছানো নিয়ে ব্যস্ত। কিভাবে নিজের ধন-সম্পদ বাড়ানো যায় এই চিন্তায় ব্যস্ত। তখন একজন ভিক্ষুক দেখিয়ে দিল মানবিকতা কি! ভিক্ষা করে সংগ্রহ করা তার নিজের ১০ হাজার টাকা মানুষের জন্য দান করেছেন। এখান থেকে অনেক শিক্ষা নেওয়া উচিত।

নাজিমুদ্দিনের প্রসংশা করে প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, ‘একজন ভিক্ষুক। সে কষ্ট করে ১০ হাজার টাকা জমা করেছিল। তার গায়ে ছেড়া কাপড়। তারপরও সেই মানুষ জমানো ১০ হাজার টাকা তুলে দিয়েছি করোনায় ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের জন্য। সারা বিশ্বে এটা মহৎ দৃষ্টান্ত সৃষ্টি করেছেন তিনি। এতো বড় মানবিক গুণ অনেক বিত্তশালীদের মধ্যেও দেখা যায়নি।’

শেখ হাসিনা বলেন, ‘এই অবস্থার মধ্যেও শেষ সম্বল সে দান করেছেন। বাংলাদেশের মানুষের মাঝে এটা এখনো আছে। এটা বিত্তশালীদের মাঝেও পায় না। শেরপুরের ঝিনাইগাতির নাজিমুদ্দীন যে দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন তা থেকে অনেক কিছু শেখার আছে।’

প্রসঙ্গত, প্রাণঘাতি করোনাভাইরাস সংক্রমণ রোধে ঘরবন্দি হয়ে পড়া কর্মহীন হতদরিদ্র মানুষদের সরকারি ও বেসরকারিভাবে খাদ্য সহায়তা দেওয়া হচ্ছে। সম্প্রতি ঝিনাইগাতীর ইউএনও রুবেল মামুদের নির্দেশে খাদ্য সহায়তার জন্য স্থানীয় স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন দি প্যাসিফিক ক্লাবের সদস্য ও স্থানীয় ইউপি সদস্যরা কর্মহীন অসহায় দরিদ্র মানুষদের তালিকা প্রণয়নে গান্ধীগাঁও গ্রামে যান।

এ সময় ভিক্ষুক নাজিমুদ্দিনের বাড়িতে গিয়ে তাকে ইউএনরর পক্ষ থেকে খাদ্যসামগ্রী দেয়া হবে বলে জানানো হয়। পরে তার জাতীয় পরিচয়পত্র দেখতে চান তারা। ভিক্ষুক নাজিমুদ্দিন ওই তালিকায় তার নাম না ওঠানোর জন্য অনুরোধ করেন। বলেন, নিজের বসতঘর মেরামত করার জন্য গত দুই বছরে ভিক্ষা করে জমিয়েছেন ১০ হাজার টাকা। এ টাকা স্বেচ্ছায় বর্তমান পরিস্থিতিতে অসহায়দের খাদ্য সহায়তার জন্য উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার ত্রাণ তহবিলে দান করতে চান তিনি।

পরে ২১ এপ্রিল মঙ্গলবার ওই ক্লাবের সদস্য ও স্থানীয় ইউপি সদস্যদের উপস্থিতিতে ইউএনওর হাতে ১০ হাজার টাকা তুলে দেন নাজিমুদ্দিন। নাজিমুদ্দিনের বাড়ি উপজেলার কাংশা ইউনিয়নের গান্ধীগাঁও গ্রামে। সে ওই গ্রামের ইয়ার আলীর ছেলে।

এনিয়ে দেশের বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রচারিত সংবাদ প্রধানমন্ত্রীর নজরে আসে। এরপরই নাজিমুদ্দিনকে উপহার হিসেবে বাড়ি দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। আর জেলা প্রশাসনের পক্ষ একটি মুদি দোকান দেওয়া হবে বলে জানানো হয়। সেই সাথে একদিন পর জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষ রজণীগন্ধায় তাকে (নজিমুদ্দিন) দেয়া হয়েছে সংবর্ধনা।