• আজ বৃহস্পতিবার, ১২ কার্তিক, ১৪২৮ ৷ ২৮ অক্টোবর, ২০২১ ৷

‘কিট নিয়ে জাফরুল্লাহর অভিযোগ মিথ্যা, গণস্বাস্থ্যকে সর্বাত্মক সহযোগিতা করেছি’


❏ সোমবার, এপ্রিল ২৭, ২০২০ আলোচিত বাংলাদেশ

সময়ের কণ্ঠস্বর, ঢাকা- গণস্বাস্থ্য কেন্দ্র উদ্ভাবিত করোনা নির্ণায়ক কিট নিয়ে ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরীর অভিযোগ মিথ্যা বলে দাবি করেছে ঔষধ প্রশাসন অধিদপ্তর। এর স্বপক্ষে গণস্বাস্থ্যের চিঠিতেই তাদেরকে শুরু থেকে সহযোগিতা করার প্রমাণ রয়েছে বলেও জানিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি।

সেইসঙ্গে কিট নিয়ে প্রতিষ্ঠানটিকে সর্বাত্মক সহযোগিতা আগেও করা হয়েছে। এখনো তাদের সহযোগিতা করতে প্রস্তুত বলে জানিয়েছেন ওষুধ প্রশাসন অধিদফতরের মহাপরিচালক মেজর জেনারেল মাহবুবুর রহমান।

সোমবার (২৭ এপ্রিল) স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে স্বাস্থ্য মিডিয়া সেল আয়োজিত কোভিড-১৯ পরীক্ষার কিট সংক্রান্ত বিষয়াদি নিয়ে সংবাদ সম্মেলনে ওষুধ প্রশাসন অধিদফতরের মহাপরিচালক নিজের বক্তব্য তুলে ধরেন।

এর আগে রোববার এক সংবাদ সম্মেলনে ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী বলেছিলেন, ‘ওষুধ প্রশাসন অধিদফতর নানা অজুহাত দেখিয়ে গণস্বাস্থ্যের কিট গ্রহণ করেনি। আমরা জনগণের স্বার্থে শুধু সরকারের মাধ্যমে পরীক্ষা করে কিটটি কার্যকর কি না- তা দেখতে চেয়েছিলাম। কিন্তু সরকারিভাবে প্রতি পদে পদে পায়ে শিকল দেয়ার চেষ্টা হয়েছে।’

আজ ওষুধ প্রশাসন অধিদফতরের ডিজি বলেন, ‘উনারা (গণস্বাস্থ্যের কর্মকর্তারা) বলছেন সহযোগিতা করছি না, উনাদের চিঠিতেই প্রমাণ আছে সহযোগিতা করছি। তাহলে উনারা কীভাবে বলতে পারেন আমরা সহযোগিতা করছি না। উনাদের আমরা যেটা বলছি, একটা উদ্ভাবন হয়েছে সেটা আন্তর্জাতিক মানসম্পন্নভাবে যেভাবে ভ্যালিডেটেড করতে হয় সেটি করতে হবে।’

গণস্বাস্থ্যের কিট নিয়ে তিনি বলেন, ‘উনারা বলছে, শতভাগ সফল। শতভাগ হোক, ৯০ ভাগ হোক, যতভাগই হোক- সেটি আমাদের ট্রায়াল করতে হবে। এটি ১০০ অথবা ২০০ মানুষের মধ্যে দেখতে হবে যে কতজন পজিটিভকে করলে পজেটিভ হয়, কতজন নেগেটিভকে করলে নেগেটিভই হয়। কোন দিনে পজিটিভ হয়, সেগুলোর একটা নির্ধারিত প্রটোকল ডেভেলপ করতে হবে। এই বিএমআরসি থেকে অ্যাপ্রুভ করতে হবে এবং আমাদের কমিটির মাধ্যমে সেটি অ্যাপ্রুভ করতে হবে। সেই প্রটোকলের মধ্যে উনারা পারফরমেন্স ট্রায়াল করে আমাদেরকে রিপোর্ট দেবে। পরে এটা আমরা ইভাল্যুয়েশন করে রিপোর্ট দেব। কিন্তু এটি মনে হচ্ছে লম্বা একটা পরিক্রমা, অনেক জায়গায় যাওয়া। সেটি কিন্তু না। আমরা অনলাইনেও এখন অনুমোদন দিচ্ছি।’

গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের ট্রাস্টি ড. জাফরুল্লাহর করা সংবাদ সম্মেলনের বিষয়ে উল্লেখ করে মেজর জেনারেল মাহবুবুর রহমান বলেন, উনি বিভিন্ন সময়ে সংবাদ সম্মেলন করে স্বাস্থ্য অধিদফতর, স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় এবং আমাদের ওষুধ প্রশাসনকে হেয়প্রতিপন্ন করার চেষ্টা করছেন। আমি অতি বিনয়ের সঙ্গে বলতে চাই, আমাদের দেশের এই মুহূর্তে প্রত্যেক মানুষের সহযোগিতা খুব দরকার। সবার, তাদেরও দরকার। গণস্বাস্থ্যের সহযোগিতা আমাদের দরকার। সবাই মিলে আমাদের সমস্যা সমাধান করতে হবে।

তিনি বলেন, গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের সক্ষমতা নেই এটা বলছে না সরকার। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার নিয়ম মেনে কাজ করে তারা সফল হলে সরকার তাদের স্বাগত জানানো হবে।

তিনি আরও বলেন, বিশ্বের কোনো দেশেই করোনাভাইরাস পরীক্ষায় উদ্ভাবিত র‌্যাপিড কিট অনুমোদন দেয়নি বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও)। এ কারণেই গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের উদ্ভাবিত কিট গ্রহণ করেনি সরকার।

কীটের উদ্ভাবক দাবি করেছেন ঔষধ প্রশাসন কখনো ঘুষের বিষয়টি তুলেননি অথচ জাফরউল্লাহ ঘুষের কথা বলেছেন বলেও উল্লেখ করেন মেজর জেনারেল মাহবুবুর রহমান।

তিনি বলেন, যদি অযাচিতভাবে অসত্য তথ্য উপস্থাপন করে মানুষকে তথা প্রতিষ্ঠানকে হেয়প্রতিপন্ন করার প্রচেষ্টা চালানো হয়, সেটি অত্যন্ত দুঃখজনক। এটি আমি প্রত্যাখ্যান করছি। আমি অনুরোধ করব, এ ধরনের অপপ্রচার যাতে না চালানো হয়।

গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের প্রতিষ্ঠাতা জাফরুল্লাহ চৌধুরীর অভিযোগ প্রসঙ্গে ওষুধ প্রশাসন অধিদফতরের মহাপরিচালক বলেন, তিনি একজন বয়োজ্যেষ্ঠ মানুষ। তার কাছ থেকে আরও বিজ্ঞানভিত্তিক, সৌজন্যমূলক দৃষ্টিভঙ্গি এবং কথাবার্তা আশা করব।

উল্লেখ্য, গণস্বাস্থ্য কেন্দ্র আবিষ্কৃত কিটের নাম দেয়া হয়েছে ‘জিআর কোভিড-১৯ ডট ব্লট’। শনিবার (২৫ এপ্রিল) বিকেলে করোনাভাইরাস পরীক্ষার কিটটি হস্তান্তর করে প্রতিষ্ঠানটি। তবে কিট গ্রহণের জন্য আমন্ত্রণ জানানোর পরও যুক্তরাষ্ট্রের গবেষণা প্রতিষ্ঠান সেন্টার্স ফর ডিজিস কন্ট্রোল অ্যান্ড প্রিভেনশন (সিডিসি) ছাড়া গণস্বাস্থ্য কেন্দ্র উদ্ভাবিত এ কিট গ্রহণের জন্য যায়নি সরকারের কোনো প্রতিষ্ঠান। পরদিনই এ বিষয়ে কথা বলতে ফের সংবাদ সম্মেলন ডাকেন গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের প্রতিষ্ঠাতা ট্রাস্টি।