৭ দিন পর ঝুপড়ি ঘর থেকে সেই নারী স্বাস্থ্যকর্মীকে উদ্ধার করল পুলিশ

১২:২৮ পূর্বাহ্ন | মঙ্গলবার, এপ্রিল ২৮, ২০২০ ঢাকা
na

এইচ এম মেহেদী হাসানাত, স্টাফ রিপোর্টার, গোপালগঞ্জঃ গোপালগঞ্জের কোটালীপাড়ায় আওয়ামী লীগ নেতার নির্দেশে নির্জন পুকুর পাড়ের ঝুপড়ি ঘরে কোয়ারেন্টাইনে রাখা এক নারী স্বাস্থ্যকর্মীকে (২১) সাত দিন পর উদ্ধার করেছে পুলিশ।

সোমবার বিকেলে কোটালীপাড়া থানা পুলিশ তাকে সেখান থেকে উদ্ধার করে তাদের বাড়ি নিয়ে যায়। পরে তাদের ঘরের পাশে একটি ছাপড়া ঘর তুলে সেখানে তার থাকার ব্যবস্থা করে। এছাড়া পুলিশ ওই ঝুপড়িঘরটি ভেঙ্গে গুড়িয়ে দিয়েছে।

ওই স্বাস্থ্য কর্মী ঢাকা ঢাকার ইমপালস হাসপাতালের চিকিৎসকের এ্যাটেনডেন্ট পদে ওই নারী চাকরি করেন। করোনা সংক্রমনের কারণে হাসপাতাল বন্ধ হয়ে যায়। গত মঙ্গলবার (২১ এপ্রিল) ওই স্বাস্থ্য কর্মী কোটালীপাড়া উপজেলার সাদুল্লাহপুর ইউনিয়নের লখন্ডা গ্রামের বাড়িতে আসেন। বাড়িতে আসার পর সাদুল্লাপুর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক প্রশান্ত বাড়ৈর নির্দেশে এই নারী স্বাস্থ্যকর্মীকে এলাকাবাসী একটি নির্জনস্থানে পুকুরের মধ্যে তালপাতা দিয়ে ঝুপড়ি ঘর তৈরী করে তার মধ্যে কোয়ারেন্টিনে রাখেন। প্রায় ১ সপ্তাহ ধরে রোদে পুড়ে বৃষ্টিতে ভিজে এই নারী স্বাস্থ্যকমী ওখানে অবস্থান করতে থাকেন। এটি সামাজিক যোগযোগ মাধ্যম ফেসবুকে ভাইরাল হওয়ার পর গোটা কোটালীপাড়া উপজেলাব্যাপী আলোচনার ঝড় ওঠে।

ওই স্বাস্থ্য কর্মী জানান, ঢাকার ইমপালস হাসপাতালে তিনি চাকুরি করেন। করোনাভাইরান সংক্রমন বৃদ্ধি পাওয়ায় হাসপাতাল কতৃপক্ষ হাসাপাতাল বন্ধ করে তাকে ছুটি দিয়ে দেয়। ছুটিতে তিনি বাড়িতে আসেন। বাড়িতে আসার খবর এলাকায় ছড়িয়ে পড়লে এলাকাবাসী এই নারী স্বাস্থ্যকর্মীকে তার বাড়ির প্রায় ৪০০মিটার দূরে একটি নির্জনস্থানে পুকুরের ভিতর তালপাতা দিয়ে ঝুপড়ি ঘর তৈরী করে তাকে কোয়ারেন্টিনে রাখেন।

ভুক্তভোগী ওই নারী স্বাস্থ্যকর্মী আরো বলেন, আজ প্রায় এক সপ্তাহ ধরে আমি এখানে রোদে পুড়ে বৃষ্টিতে ভিজে মানবেতর জীবন যাপন করেছি। খুব কষ্ট হয়েছে। একজন স্বাস্থ্যকর্মী হিসেবে আমি অনেক মানুষকে স্বাস্থসেবা দিয়েছি। আর আজ এখানে থেকে আমার স্বাস্থ্য হুমকির মুখে পড়েছে। মানুষ যে এতোটা নিষ্ঠুর হতে পারে তা আমার আগে জানাছিল না। ৭ দিন পর আজ সোমবার পুলিশ আমাকে সেখান থেকে উদ্ধার করে।

কান্না জনিত কন্ঠে ওই স্বাস্থ্যকর্মীর মা বলেন, আমার স্বামী নেই। আমার এই মেয়েটাই একমাত্র উপার্জন ক্ষম। তার আয়ে আমার সংসার চলে। আমার মেয়ের এখনো বিয়ে হয়নি। তাকে এভাবে একটি পুকুরের মধ্যে ঝুপড়ি ঘরে রাখা হয়েছিলো। এলাকার আওয়ামী লীগ নেতা প্রশান্ত বাড়ৈ চাপ সৃষ্টি করে আমার মেয়েকে এখানে রেখেছিলো। আমি ওই আওয়ামীলীগ নেতার শাস্তি চাই।

এ ব্যাপারে আওয়ামী লীগ নেতা প্রশান্ত বাড়ৈর কাছে জানতে চাওয়া হলে তিনি বলেন, এলাকাবাসীর সিন্ধান্তেই ওই নারী স্বাস্থ্যকর্মীকে পুকুরের মধ্যে ঝুপড়ি ঘর তৈরী করে সেখানে রাখা হয়েছে। আমি একা কোন সিদ্ধান্ত দেইনি। এখন অপরাধ হলে সবার হবে। এখানে আমার একার দায় নেই।

কোটালীপাড়া থানার ওসি শেখ লুৎফর রহমান বলেন, ঝুপড়ি ঘর থেকে ওই নারীকে উদ্ধার করে তাদের ঘরের পাশে নতুন একটি ছাপড়া ঘর তুলে সেখানে তাকে রাখা হয়েছে। এছাড়া ওই ঝুপড়িঘর ভেঙ্গে গুড়িয়ে দেয়া হয়েছে। এ ব্যাপারে ওই নারী স্বাস্থ্য কর্মীর পক্ষ থেকে অভিযোগ দিলে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে।

কোটালীপাড়া উপজেলা নির্বাহী অফিসার এস এম মাহফুজুর রহমান বলেন, বিকেলে আমি ওই নারী স্বাস্থ্য কর্মীর বাড়িতে গিয়েছিলাম। তাকে আমরা কিছু খাদ্য সহায়তা দিয়েছি। তার কোন সমস্যা হলে আমাদের জানাতে বলেছি। তার নমুনা সংগ্রহ করে পরীক্ষার জন্য ফরিদপুর পাঠানো হব। ওই নারী স্বাস্থ্যকর্মীকে যারা অমানবিকভাবে ঝুপড়ি ঘরের ভিতর রেখেছে তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে।