• আজ ১৬ই ফাল্গুন, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ

মির্জাপুরে করোনা আক্রান্ত ২ জনকে ঢাকায় পাঠাতে লাগলো দীর্ঘ ১৪ ঘন্টা!

৮:১৫ অপরাহ্ন | মঙ্গলবার, এপ্রিল ২৮, ২০২০ ঢাকা, দেশের খবর

মো. সানোয়ার হোসেন, মির্জাপুর (টাঙ্গাইল) প্রতিনিধি- সোমবার করোনা টেস্টে পজিটিভ আসে টাঙ্গাইলের মির্জাপুর উপজেলার জামুর্কী ইউনিয়নের সাটিয়াচড়া গ্রামের এক যুবক ও ভাওড়া ইউনিয়নের কামারপাড়া গ্রামের এক বৃদ্ধার।

রাত সোয়া ১১টার দিকে সিভিল সার্জন টাঙ্গাইল ডা. ওয়াহেদুজ্জামান বিষয়টি নিশ্চিত করেন। কিন্তু করোনা টেস্টের রিপোর্ট পাওয়ার দীর্ঘ ১৪ ঘন্টা পর আক্রান্ত দুজনকে ঢাকার কুয়েত বাংলাদেশ মৈত্রী সরকারি হাসপাতালে প্রেরণ করতে সক্ষম হয় মির্জাপুর উপজেলা প্রশাসন ও স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স কর্তৃপক্ষ। এ ঘটনার পর উক্ত দুই ইউনিয়নের আক্রান্তদের আশপাশের ১১০ টি বাড়ি লকডাউন করা হয়েছে।

সুত্র মতে, সোমবার রাত পেরিয়ে পরদিন মঙ্গলবার বেলা ১১.২০ মিনিটের দিকে ভাওড়া ইউনিয়নের কামারপাড়া এলাকার করোনা আক্রান্ত বৃদ্ধাকে উদ্ধার করতে যায় স্বাস্থ্য বিভাগ। কিন্তু বৃদ্ধাকে উদ্ধারে নারী স্বাস্থ্যকর্মী না থাকায় তিন (পুরুষ) স্বাস্থ্যকর্মীর সহযোগিতায় আরও ২ ঘন্টা পর বেলা ১ টার দিকে স্ট্রেচার দিয়ে ঐ বৃদ্ধাকে এ্যাম্বুলেন্সে উঠানো হয়।

এ সময় সেখানে উপস্থিত ভাওড়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. আমজাদ হোসেন বলেন, বৃদ্ধার শারীরিক অবস্থা এমনিতে খারাপ ছিলো এর মধ্যে তাকে ঘর থেকে এ্যাম্বুলেন্সে নেওয়ার জন্যে যে সময় ক্ষেপন করা হয়েছে তা দুঃখজনক।

ভাওড়া ইউনিয়ন যুবলীগের আহ্বায়ক বিপ্লব ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, গত (২৫এপ্রিল) ঢাকা ফেরত বৃদ্ধার বাড়িতে নমুনা সংগ্রহের জন্য দুজন স্বাস্থ্যকর্মী যায়। তখন ঘর থেকে বের হওয়ার পর হঠাৎ বৃদ্ধা লোকটি অসুস্থাবস্থায় জ্ঞান হারিয়ে ফেলে। ভয় পেয়ে নমুনা সংগ্রহ করতে তড়িঘড়িও করে কর্মীরা। একপর্যায়ে জ্ঞান ফিরে আসার পর তারা নমুনা সংগ্রহ করে ঘটনাস্থল ত্যাগ করে।

তিনি আরও বলেন, ঐ স্বাস্থ্যকর্মীরা যদি বৃদ্ধার অসুস্থ্য হওয়ার বিষয়টি নিয়ে পরামর্শ করে তার চিকিৎসা করা হলে হয়তো এতোটা মূমুর্ষ অবস্থা হতো না।

সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মাকসুদা খানম বৃদ্ধার অসুস্থ্য হওয়ার বিষয়ে তিনি কিছুই জানেন না এবং ঐ বৃদ্ধার অজ্ঞান হওয়ার মতো কোনো ঘটনা ঘটেনি বলে দাবি করেন।

এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আবদুল মালেক জানান, করোনা মোকাবেলায় উপজেলা প্রশাসন সর্বাত্মকভাবে প্রস্তুত আছে। করোনা আক্রান্ত বৃদ্ধাকে ঢাকায় প্রেরণে বিলম্ব হওয়ার ক্ষেত্রে স্থানীয় স্বাস্থ্য কর্মীদের গাফিলতি থাকতে পারে। ভবিষ্যতে তাদের সতর্ক করা হবে।