গাজীপুর মহানগরীতে মসজিদ খুলে দেয়ার ঘোষণা দিলেন মেয়র

৮:৩৩ অপরাহ্ন | মঙ্গলবার, এপ্রিল ২৮, ২০২০ ঢাকা, দেশের খবর

সময়ের কণ্ঠস্বর, গাজীপুর- গাজীপুর সিটি করপোরেশনের যেসব এলাকায় করোনা সংক্রমণ নেই, সেসব এলাকায় আগামী শুক্রবার থেকে সব মসজিদ মুসল্লিদের স্বাভাবিক প্রবেশের জন্য খুলে দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন মেয়র জাহাঙ্গীর আলম।

মঙ্গলবার (২৪ এপ্রিল) দুপুরে গাজীপুর সিটি করপোরেশনের বোর্ড বাজার আঞ্চলিক অফিস থেকে এক ভিডিও বার্তায় এ ঘোষণা দেন মেয়র।

করোনা সংক্রমণের কারণে গত ৬ এপ্রিল দেশের সকল মসজিদ গুলোতে পাঁচজন করে মুসল্লি নামাজ আদায় করার নির্দেশ রয়েছে। সেই সঙ্গে ২৪ এপ্রিল তারাবির নামাজ মসজিদে ১২ জন আদায়ের নির্দেশ বলবৎ থাকা সত্ত্বেও গাজীপুরের মেয়র এই ঘোষণা দিলেন।

ভিডিওতে তিনি বলেন, ‘গাজীপুর সিটি করপোরেশন এবং গাজীপুর জেলা এই দুটি এলাকাকে নিয়েই গাজীপুর বলা হয়। সেজন্য আমরা বলছি, গাজীপুর সিটি করপোরেশনের ৫৭টি ওয়ার্ডে করোনা পজিটিভের সংখ্যা অনেক এলাকার চেয়ে কম বলে আমরা মনে করি। এটা আমরা নথিপত্র ঘেঁটে দেখেছি। সেজন্য আমরা মনে করি যেহেতু গার্মেন্ট চালু করে দিয়েছে বিজিএমইএ, সেহেতু আমাদের যেসব ওয়ার্ডে কোনও করোনাভাইরাস আক্রান্ত রোগী নেই সেগুলোতে আগামী শুক্রবার থেকে মসজিদভিত্তিক মানুষ তারাবিসহ জুমার নামাজ পড়তে পারবেন।

যেহুতো গার্মেন্টস চালু হয়েছে। সেহুতো আল্লাহ্‌র ঘর মসজিদ চালু থাকা দরকার। ঈমানদার মানুষ যারা আছেন তারা সকলেই নামাজ পড়েন। আল্লাহ্‌র কাছে দোয়া করা আমাদের প্রয়োজন, আল্লাহ্‌ই আমাদের হেফাজত করবেন।

এখন রমজান মাস। তাই এসব এলাকায় মুসল্লিরা যাতে মসজিদে নামাজ পড়তে পারেন সেজন্য আমরা সিটি করপোরেশন থেকে তাদের সার্বিকভাবে সহযোগিতা করব। সবাই যেন আল্লাহ্‌র কাছে চাই করোনা ভাইরাস থেকে গাজীপুরসহ সারাদেশ এবং বিশ্ববাসী যেন নিরাপদে থাকে।’

পরে তিনি ফোনেও বিষয়টি নিশ্চিত করে গণমাধ্যমকে বলেন, ‘গাজীপুর জেলা ও সিটি করপোরেশন এলাকায় গার্মেন্ট কারখানা খুলে দেওয়া হয়েছে। কৃষিকাজও চলছে। এছাড়া গাজীপুরের আটটি থানা ও ৫৭ ওয়ার্ডের কোথাও তেমনভাবে করোনা ছড়িয়ে পড়ার ঘটনা ঘটেনি। তাই সামাজিক দূরত্ব মেনে, সামনে চার ফুট ও পাশে দুই ফুট জায়গা রেখে মসজিদে নামাজের সুযোগ দেওয়া হবে। এটা রোজার মাস, মসজিদে প্রার্থনার সুযোগ দেওয়া উচিত। যেসব এলাকায় করোনা সংক্রমণ নেই, সেসব এলাকায় মসজিদগুলোতে মুসল্লিরা নামাজ পড়তে পারবেন।’

মসজিদে মুসল্লি প্রবেশ নিয়ন্ত্রণ সংক্রান্ত সরকারের নির্বাহী আদেশ থাকার পর কীভাবে এই আদেশ দিলেন সে ব্যাপারে গাজীপুরের মেয়র বলেন, ‘সরকারের আদেশের ব্যত্যয় ঘটবে না। নির্দেশনা হচ্ছে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার। সব স্বাস্থ্যবিধি মানলে, পাঁচবার স্যাভলন দিয়ে মসজিদ ধুয়ে নিলে, সামাজিক দূরত্ব বজায় রেখে যত জন ধরবে ঠিক তত জনই নামাজ পড়তে এলে কারও আপত্তি থাকার কথা না। সরকারের নির্দেশের ব্যত্যয় ঘটবে না।’

তিনি বলেন, ‘মসজিদে স্বাস্থ্যবিধি অনুসরণের জন্য আমি ওয়ার্ডে ওয়ার্ডে কমিটি করে দিয়েছি। যার যার এলাকার মসজিদে নামাজ পড়বেন, কেউ এলাকার বাইরে যাবেন না।’