ঘরে খাবার নেই, হতদরিদ্ররা ছুটছেন পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে

১১:০১ পূর্বাহ্ন | বুধবার, এপ্রিল ২৯, ২০২০ ঢাকা, দেশের খবর

হারুন-অর-রশীদ, ফরিদপুর প্রতিনিধি- ঘরে খাবার নেই, পাচ্ছেন না কোন সাহায্য তাই ছুটে এসেছেন ফরিদপুরের পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে ত্রাণের জন্য।

অফিসটির সামনে কথা হলো শহরের পৌর এলাকার আদর্শ নগর ২নং হাবেলী গোপালপুর এলাকার এরকম কয়েকজন হতদরিদ্রদের সাথে। তারা বললেন, বাবা বুঝেনতো পেট, সেতো কোন কথায় মানছেনা। আমরা তো আর এখন পারছিনা বাবা। কি করবো কোন সহায়তা না পেয়ে ছুটে এসেছি পুলিশের কাছে যদি কোন ত্রাণ পাই। গত কয়েকদিন এক বেলা কোন সময়ে না খেয়ে সময় কাটছে আমাদের।

বর্তমান বিশ্বের আলোচিত নোভেল করোনা ভাইরাসের সংক্রমণের হাত থেকে রা পেতে সারা দেশে জরুরী সার্ভিস ছাড়া সকল কিছু বন্ধ রয়েছে। তেমনিভাবে ফরিদপুরেও বন্ধ রয়েছে জরুরী সেবা ও নিত্য প্রয়োজনীয় দোকান ছাড়া সকল কিছু। এ ব্যাপারে ফরিদপুর প্রশাসনের রয়েছে করা হুঁশিয়ারি।

এমন অবস্থায় সাধারণ মানুষের কাজ কর্ম বন্ধ থাকায় তাদের যেন না খেয়ে থাকতে হয় সে জন্য সরকারিভাবে মানবিক সহায়তা দিয়ে যাচ্ছে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এছাড়াও বিভিন্ন মহল ও বেসরকারী প্রতিষ্ঠান থেকে মানবিক সহায়তা দেয়া হচ্ছে। সহায়তা কালিন সময়ে দল মত জাতি সব কিছুর উর্দ্ধে উঠে মানবিক সহায়তা দিতে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা রয়েছে।

তবে এই নির্দেশনা অনেকে না মানার কারণে হত দরিদ্ররা বিভিন্ন জায়গায় গিয়ে সাহায্যের জন্য লাইন দিচ্ছে। এতে অনেকে অভিযোগ করে বলেছেন মুখ চিনে চিনে দেয়ার কারণে এমনটা হচ্ছে। জনপ্রতিনিধিরা প্রকৃত হতদরিদ্রদের নাম দিলে এমনটা হতো না।

জানা যায়, শহরের পৌর এলাকার আদর্শ নগর ২নং হাবেলী গোপালপুর এলাকার হতদরিদ্ররা আপেক্ষ করে বলেছেন, আমরা কোন ত্রাণ সহায়তা পাচ্ছি না। স্থানীয় নেতারা মুখ চিনে চিনে বিতরণ করে যাচ্ছে। আর এ কারণেই আমরা এসপি স্যারের এখানে এসেছি সাহায্যর জন্য।

এসপি অফিসের সামনে মমো বেগম স্বামী- লাভলু খাঁন, নূরজাহান বেগম স্বামী- আঃ রব ব্যাপারী, রুপা বেগম স্বামী- লুৎফর মোল্লা তাহারা জানান, ভোটার আইডি কার্ড ফটোকপি নিয়েছে তবে এখনো কোন সহযোগীতা পাই নাই বাবা।

ফরিদপুর জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ডিএসবি) মোঃ সাইফুজ্জামান এর কাছে দিনমুজুর, নারী-পুরুষ স্ব-শরীরে গিয়ে মানাবিক সহায়তা পেতে আবেদন জানাচ্ছেন। দরিদ্র ব্যক্তিরা জানান, স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরাসহ স্থানীয় নেতারা মুখ চিনে চিনে মানবিক সহায়তা দিচ্ছে। জনপ্রতিনিধিরা আমাদেরকে পাত্তা দিচ্ছে না।

এ ব্যাপারে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ডিএসবি) মোঃ সাইফুজ্জামান গণমাধ্যমকে বলেন, আমাদের কাছে তো কোন সরকারি মানবিক সহায়তা আসে না। তবে আমাদের পুলিশ সদস্যরা মাসের বেতন থেকে অর্থ সংগ্রহ করে কিছু কিছু করে সহযোগিতা করেছি।

তিনি বলেন, একটি ফান্ড তৈরী করে এ পর্যন্ত প্রায় ৭০০ লোকের মানবিক সহায়তা প্রদান করা হয়েছে। তিনি আরোও বলেন, আমাদের সরকারি নম্বরে অনেকে এসএমএস দিয়েছে নাম ঠিকানাসহ মানবিক সহায়তার জন্য।

ফরিদপুর জেলার কোতয়ালী থানা এলাকার মাচ্চর, শিবরামপুর, পৌর এলাকার ভাটি লীপুর, কোর্টপাড় এরকম বিভিন্ন এলাকার মানুষ এসএমএস করে আসছে মানাবিক সহায়তার পেতে। এদের মধ্যে অনেকেই আছে মধ্যবিত্ত পরিবারের। বিভিন্ন পেশার মানুষও রয়েছে, শিকতা পেশার মানুষ আছে। অনেকেই এলাকায় চক্ষু লজ্জার কারণে বলতে পারছে না স্থানীয়দের কাছে। বর্তমানে ফরিদপুর পুলিশ প্রশাসন মানুষের বিপদেও বন্ধু হিসেবে কাজ করে যাচ্ছে বিধায় সাধারণ মানুষ তাদের আর্থিক কষ্টের কথা আমাদের কাছে জানাচ্ছে।

তিনি বলেন, পুলিশ প্রশাসনের কাছে ত্রাণের কোন ফান্ড না থাকলেও হতদরিদ্ররা অফিসে এসে ভিড় করে যাচ্ছে। আমাদের সাধ্য অনুযায়ী মানাবিক সহায়তার ফান্ড তৈরী করে সহযোগীতা করতে জোর প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি। তবে এটা তো আর ব্যাপক পরিসরে করা আমাদের পক্ষে সম্ভব না।

রিজার্ভ অফিসার উপপরিদর্শক মোঃ আনোয়ার হোসেন বলেন, আমাদের এখানে কেউ আসলে প্রথমে তার নাম পরিচয় লিখে রাখি তারপর খোঁজ খবর নিয়ে মানবিক সহায়তা হিসেবে কিছু ত্রাণ সামগ্রী পৌঁছে দিয়ে আসা হয়। তবে সেটা তো আর আমাদের ব্যাপক পর্যায়ে করা সম্ভব হয় না।