• আজ ১৯শে ফাল্গুন, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ

বাংলাদেশে এসে আটকা: দেশে ফিরিয়ে নিতে ভারতীয় ট্রাক চালকদের আকুতি

৩:৩০ অপরাহ্ন | বৃহস্পতিবার, এপ্রিল ৩০, ২০২০ ফিচার

সময়ের কণ্ঠস্বর ডেস্ক- লালমনিরহাটের পাটগ্রাম উপজেলার বুড়িমারী স্থল বন্দর দিয়ে বিশেষ ব্যবস্থায় পাট বীজ নিয়ে বাংলাদেশে এসে আটকে পড়েছেন ভারতীয় ৬১ ট্রাকচালক।

বাংলাদেশ থেকে তাদের ভারতে নিয়ে যাওয়ার জন্য ভারতীয় দূতাবাসকে চিঠি পাঠালেও তারা সাড়া দেয়নি। ফলে এসব ট্রাক চালকরা করোনাভাইরাসের কারণে পরিবার-পরিজনের চিন্তায় দিশোহারা হয়ে পড়েছেন। খবর- ইউএনবি’র

বৃহস্পতিবার সরেজমিনে দেখা যায়, একটি ট্রাকের কেবিনে বসে নামাজ শেষে দুই হাত তুলে অঝোরে কেঁদে কেঁদে প্রার্থনা করছেন এক ব্যক্তি। তার নাম ইজাহার আলী। বাড়ি ভারতের বিহার রাজ্যের মতিহার জেলার পশ্চিম চম্পারণ।

অশ্রুসিক্ত চোখে তিনি জানান, স্ত্রীকে একদিনের কথা বলে মহাজনের গাড়িতে পাট বীজ নিয়ে বাংলাদেশে এসেছেন। ট্রাক খালি করে চেকপোস্টে গেলেই গাড়িগুলো আটকে দেয়। লকডাউনের কারণে ভারতে ঢুকতে দেয়া হয়নি। বাড়িতে তার একমাত্র ছেলে ও স্ত্রী থাকে। সেদিন রাতেই খবর এলো স্ত্রীর কোমর ভেঙে গেছে। হাসপাতালে ভর্তি করেন তার ছেলে। চিকিৎসার জন্য ধার-দেনা করে মায়ের ওষুধ কিনে দিয়েছে। কিন্তু ঘরে খাবার নেই।

ইজাহার আলী বলেন, ‘আমরা মুসলিম, রমজান মাসে তারাবিহর নামাজ না হলে রোজা রাখা হয় না। তাহলে আমরা কি নামাজ-রোজা সব বন্ধ করে দিবো। না খেয়ে মরে যাবো।’

তার মতো আরও ৬০ জন ট্রাকচালক এখন আটকে আছেন লালমনিরহাটের বুড়িমারী স্থলবন্দরে। গত ৪ এপ্রিল বিশেষ অবস্থায় পাটবীজ নিয়ে এ দেশে এসেছিলেন। স্থলবন্দর কর্তৃপক্ষ ও জেলা প্রশাসন সরকারের উচ্চপর্যায়ে বিষয়টি জানিয়েও কিছুই হচ্ছে না। ফলে বুড়িমারী স্থলবন্দর চত্বরে ২৬ দিন ধরে ট্রাকে খাচ্ছেন, আর মশার কামড়ে ঘুমিয়ে দিন পার করছেন তারা।

সংশ্লিষ্টরা জানায়, করোনাভাইরাস সংক্রমণ ঠেকাতে চ্যাংড়াবান্ধা স্থলবন্দর গত ২২ মার্চ থেকে ৩১ মার্চ পর্যন্ত বন্ধ ঘোষণা করা হয়। এতে আমদানিকৃত ৬১টি পাট বীজের ট্রাক আটকা পড়ে ভারতে। এরপর অজ্ঞাত কারণে আরও তিন দিন বন্ধ থাকার পর বুড়িমারী স্থলবন্দর দিয়ে ৪ এপ্রিল ট্রাকগুলো বাংলাদেশে প্রবেশ করে। বাংলাদেশি সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট ও স্থলবন্দর কর্তৃপক্ষ ওই দিনই ট্রাক খালি করে সেগুলো ফেরত পাঠানোর ব্যবস্থা করে। ফেরার সময় বাঁধা দেয় ভারতের চ্যাংড়াবান্ধা স্থলবন্দর ও ভারতীয় কর্তৃপক্ষ। তখন থেকে ৬১টি ভারতীয় ট্রাক আটকে আছে বুড়িমারী স্থলবন্দরে।

ট্রাকচালক আলতাফ হোসেন বলেন, ‘বাংলাদেশে সরকার অনেক চেষ্টা করছে আমাদের দেশে পাঠানোর জন্য। কিন্তু ভারত সরকার আমাদের দিকে দেখছেন না। আমাদের পরিবারের কথা ভাবছে না। মমতা দিদি আমাদের দিকে তাকালে আমরা দেশে ফিরতে পারি। এভাবে থাকলে আমরাসহ আমাদের পরিবার মরে যাবে। দ্রুত আমাদের দেশে ফিরিয়ে নিন।’

লালমনিরহাটের জেলা প্রশাসক আবু জাফর বলেন, ভারতীয় দূতাবাস ও কোচবিহারের ডিএমের সাথে একাধিকবার যোগযোগ করার চেষ্টা করা হয়েছে। কিন্তু তাদের কোনো সাড়া নেই। তাই করোনা পরিস্থিতির কারণে তাদের রাখা হয়েছে স্থলবন্দরের ইয়ার্ডে। তাদের দেশে পাঠানোর জন্য দ্রুত ব্যবস্থা করা হবে।