• আজ বৃহস্পতিবার, ১২ কার্তিক, ১৪২৮ ৷ ২৮ অক্টোবর, ২০২১ ৷

রংপুরে চাঁদা না দেয়ায় ডিশ ব্যবসায়ীকে কুপিয়ে আহত

rang
❏ শুক্রবার, মে ১, ২০২০ রংপুর

সাইফুল ইসলাম মুকুল, রংপুরঃ চাঁদা না দেয়ায় রংপুর নগরীর মুলাটোল পাকার মাথা এলাকায় ডিশ ব্যবসায়ী নাহিদ চৌধুরীকে কুপিয়ে আহত করেছে রংপুর মহানগর ছাত্রলীগের দুই নেতার নেতৃত্বে তার সহযোগীরা। আশংকাজনক অবস্থায় তাকে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে। কর্তব্যরত চিকিৎসক ডা, সৌমিক জানান নাহিদের এখনও জ্ঞান ফেরেনি তাকে রক্ত দেয়া হচ্ছে। ঘটনাটি ঘটেছে বুধবার রাতে।

এ দিকে এ ঘটনাকে কেন্দ্র ঐ দিন রাতে আবারো ছাত্রলীগের নেতা কর্মীরা আসবাবপত্র ব্যবসায়ী মোতালেবের বাড়িতে হামলা চালিয়ে মালামাল লুট ও আগুন ধরিয়ে দিয়েছে। গভীর রাত পর্যন্ত দফায় দফায় হামলা চালিয়েছে তারা অভিযোগ ডিশ ব্যবসায়ী নাহিদ চৌধুরীর স্বজনদের।

পুলিশ এলাকাবাসি জানিয়েছে নগরীর মুলাটোল পাকার মাথা এলাকার বাসিন্দা নাহিদ চৌধুরী ডিশ ব্যবসা করে। পার্শ্ববর্তী বাবুখাঁ এলাকার ছাত্রলীগ রংপুর মহানগর শাখার যুগ্ন সম্পাদক তুষার, সাংগঠনিক সম্পাদক দিদার ছাত্র লীগ নেতা নয়ন ও কালু ডিশ ব্যবসায়ীর কাছে ৫০ হাজার টাকা চাঁদা দাবি করে টাকা না দিলে ডিশের ব্যবসা করতে দেয়া হবেনা বলে হুমকি দেয়। কিন্তু নাহিদ টাকা দেবেনা বলে জানালে তাকে দেখে নেবার হুমকি দেয়। এরই জের ধরে বুধবার সন্ধায় ডিশ ব্যবসায়ী নাহিদ চৌধুরীকে মোবাইল ফোনে বাবু খাাঁ এলাকায় ডেকে নেয় ছাত্র লীগ নেতা তুষার। নাহিদ সেখানে গেলে ছাত্রলীগ নেতা তুণার ও দিদারের নেতৃত্বে অন্যান্য সহযোগীরা রাম দা দিয়ে নাহিদের মাথায় ও শরীরের বিভিন্ন স্থানে কুপিয়ে আহত করেতাকে রাস্তার পার্শ্বে ড্রেনে ফেলে রেখে চলে যায়। পরে এলাকাবাসি ও নাহিদের স্বজনরা খবর পেয়ে সেখানে গিয়ে তাকে মুমুষ অবস্থায় উদ্ধার করে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করে। বর্তমানে সে হাসপাতালের সার্জারী বিভাগের ১৯নম্বর ওয়ার্ডের ২৩ নম্বর বেডে চিকিৎসাধিন আছে। বুধবার বিকেলে থেকে বৃহসপতিবার দুপুর ১২ টা পর্যন্ত তার জ্ঞান ফেরেনি বলে তার স্বজন ও চিকিৎসকরা জানিয়েছেন।

এদিকে ডিশ ব্যবসায়ীকে কুপিয়ে আহত করার পরেও দফায় দফায় তাদের বাড়ি সহ আশে পার্শ্বের এলাকায় হামলা চালায় ছাত্রলীগ নেতা তুষার ও দিদাদের নেতৃত্বে তার সহযোগীরা। তারা মোতালেব নামে এক আসবাব পত্র ব্যবসায়ীর বাড়িতে হামলা চালিয়ে মালামাল লুট ও বাড়িতে আগুন ধরিয়ে দেয়। এলাকাবাসি এসে আগুন নিভিয়ে ফেলে। এ ভাবে গভীর রাত পর্যন্ত চলে তাদের তান্ডব বলে অভিযোগ নাহিদ চৌধুরীর বড় ভাই সেলিম চৌধুরী সহ তাদের স্বজনদের।

এ ব্যাপারে আহত নাহিদের বড় ভাই সেলিম চৌধুরী জানান ছাত্রলীগের নাম ভাঙ্গিয়ে তুষার, দিদার, নয়ন, কালু সহ তাদের স্বজনরা মুলাটোল পাকার মাথা থেকে শুরু করে বাবু খাঁর বিভিন্ন এলাকায় ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করেছে। ওই এলাকার ব্যবসায়ী দোকানদার এবং প্রায় বাড়িতেই তারা নিয়মিত চাঁদা আদায় করে আসছে তাদের অত্যাচারে অতীষ্ঠ এলাকার মানুষ। তিনি তার ভাইয়ের উপর হামলাকারীদের গ্রেফতার ও বিচার দাবি করেন।

এ ব্যাপারে রংপুর মহানগর ছাত্রলীগের সাধারন সম্পাদক শেখ আসিফের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, তুষার ও দিদার ছাত্রলীগ করে বাকীদের আমি চিনি না তাদের বিরুদ্ধে এর আগেও অনেক অভিযোগ আমরা শুনেছি এ বিষয়টি আমরা দেখছি।

অপরদিকে মহানগর ছাত্র লীগের সভাপতি শফিউর রহমান স্বাধীনের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন তুষার মহানগর ছাত্র লীগের যুগ্ন সম্পাদক এবং দিদার সাংগঠনিক সম্পাদক। তাদের বিরুদ্ধে ব্যবসায়ীকে কুপিয়ে আহত করা সহ তান্ডবের অভিযোগ সত্যি হলে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেয়া হবে বলে জানান।

এ ব্যাপারে কোতয়ালী থানার ওসি আব্দুর রশীদের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, ওই ঘটনায় আহত ব্যবসায়ী নাহিদ চৌধুরীর স্ত্রী ফেন্সি বেগম বাদী হয়ে থানায় মামলা দায়ের করেছেন। আসামীদের গ্রেফতার করা হয়েছে কিনা হয়েছে কিনা জানতে চাইলে তিনি বলেন তাদের গ্রেফতার করা হয়নি কেন হয়নি তার কোন সদুত্তোর তিনি দেননি।

আরও পড়ুন :