টাঙ্গাইলে করোনার আতংক ঢাকা, গাজীপুর, নারায়ণগঞ্জ ফেরতরা

১২:২৮ পূর্বাহ্ন | শুক্রবার, মে ১, ২০২০ ঢাকা
tan

মোল্লা তোফাজ্জল, টাঙ্গাইল প্রতিনিধিঃ করোনা ভাইরাসে জেলা ভিত্তিক আক্রান্তের তালিকায় টাঙ্গাইল প্রথম দিকেই। যারা আক্রান্ত হয়েছেন তারা প্রায় সবাই ঢাকা, নারায়ণগঞ্জ ও গাজীপুর থেকে সংক্রমিত হয়ে এসেছেন। ফলে এই তিন জেলা ফেরতরা বর্তমানে টাঙ্গাইলবাসীর নিকট আতংক হয়ে দাড়িয়েছেন। এদিকে আক্রান্তের খবর পাওয়া মাত্রই পুলিশ প্রশাসন করোনা প্রতিরোধে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করছেন। আবার অনেকে গোপনে রাতে রাতে ঢুকছেন টাঙ্গাইলে।

বৃস্পতিবার ১২০ জনের নমুনা সংগ্রহ করে জেলা থেকে ঢাকায় পাঠানো হয়েছে। এ পর্যন্ত মোট ১৫২৩ জনের নমুনার রিপোর্ট পেয়েছে জেলা স্বাস্থ্য বিভাগ। ২৪ জন আক্রান্ত হয়েছেন। এরমধ্যে জেলার সখিপুরের ৬ জন, ভূঞাপুরের ৬ জন, নাগপুরের ৪ জন, মির্জাপুরের ৩ জন, ঘাটাইলের ১ জন, মধুপুরের ১ জন, গোপালপুরের ১ জন, টাঙ্গাইল সদরে ১ ও দেলদুয়ারের ১ জন। এই ২৪ জনের মধ্যে ঘাটাইলের মহির উদ্দিন মারা ও মির্জাপুরের রেনু বেগম গেছেন। মির্জাপুরের ১, নাগরপুরের ও ভূঞাপুরের ২ মোট ৪ জন সুস্থ্য হয়েছেন।

টাঙ্গাইল জেলা সিভিল সার্জন অফিস থেকে জানানো হয় ২৪ জনের মধ্যে ঢাকা ফেরত থেকে সংক্রমিত ১৭ জন, নারায়ণগঞ্জ ফেরত ২, গাজীপুর ফেরত ৩, রাজবাড়ি ফেরিঘাট থেকে ১ জন এবং টাঙ্গাইল সদরের ১ চিকিৎসক সংক্রমিত হয়েছেন।

জেলার প্রথম আক্রান্ত ব্যক্তি মির্জাপুরের অখিল সরকার নারায়ণগঞ্জে একটি বেসরকারি ক্লিনিকে চাকরি করতেন। পরে আক্রান্ত হয়ে চিকিৎসা নিয়ে সুস্থ্য হয়েছেন। এছাড়া ভূঞাপুরের হেলাল নারায়ণগঞ্জে একটি গার্মেন্টসে কাজ করতেন।

এদিকে করোনায় জেলার প্রথম মারা যাওয়া ঘাটাইলের মহির উদ্দিন ঢাকার একটি হাসপাতালে কিডনি রোগে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আক্রান্ত হন। পরে মারা গেলে তাকে ঢাকায়ই দাফন করা হয়। ভূঞাপুরের শফিকুল ইসলাম, খন্দকার সোহাগ, আবু সাইদ (সুস্থ), জগলুর এবং নাগরপুরের লিটন, সেলিম রেজা, সাহিনুর ঢাকায় একটি ঔষধ কোম্পানী চাকরিরত অবস্থায় সংক্রমিত হন। এরমধ্যে খন্দকার সোহাগ সুস্থ্য হয়েছেন, বাকিরা চিকিৎসাধীন। নাগরপুরের মোহাম্মদ আলী (সুস্থ) ঢাকার সদরঘাটে শ্রমিকের কাজ করেন।

এদিকে সখিপুরের একই পরিবারের ৫ জন আক্রান্ত হয়েছেন। পরিবারের কর্তা রিপন ঢাকার কারওয়ান বাজারে সবজি বিক্রি করেন। তিনি আক্রান্ত হয়ে বাড়ি এসে স্ত্রী রহিতন নেসা, ছেলে ইমরান, লিমু ও মিল্টনকে সংক্রমতি করেন। সখিপুরের আ্যাম্বুলেন্স চালক সোনা মিয়া ঢাকায় রোগী আনা নেওয়া করে আক্রান্ত হয়েছেন।

মির্জাপুরের নতুন আক্রান্ত ২ জন ঢাকা ফেরত। এরমধ্যে এক যুবক ঢাকার একটি স্বর্ণের গহনার দোকানে কাজ করতেন। আর একজন নারী (মৃত) তার বোনের বাসায় বেড়াতে গিয়ে আক্রান্ত হন। তাদের দুজনের মধ্যেই হালকা কাশি ছাড়া করোনা ভাইরাসের তেমন কোন লক্ষণ ছিলো না।

এছাড়া মধুপুরের নাছির উদ্দিন এবং গোপালপুরের জ্যোতি খাতুন গাজীপুরের গার্মেন্টেস শ্রমিক। ভ‚ঞাপুরের এক ওয়ার্কশপ কর্মী গাজীপুর থেকে করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন। তিনি উপজেলার অলোয়া ইউনিয়নের চরনিকলা গ্রামের বাসিন্দা।

এখন এই তিন জেলা থেকে থেকে কেউ এলাকায় ঢুকলে সাধারণ মানুষ আতংকিত হয়ে যান। অনেকে সচেতনতার জন্যে তাদের সাথে দেখা পর্যন্ত করেন না। ফেরতরা বাড়ি আসার পর কেউ হোম কোয়ারেন্টাইনে থাকেন। আবার অনেকে স্বাভাবিকভাবেই চলা ফেরা করার চেষ্টা করেন।

টাঙ্গাইল সিভিল সার্জন অফিসের করোনা সংক্রান্ত ফোকাল পার্সন মেডিকেল অফিসার ডাঃ আজিজুল হক বলেন, আমাদের প্রায় রোগীই এই ৩ জেলা ফেরত। তাই এই তিন জেলা থেকে যারা আসছেন তাদের প্রতি বিশেষ নজর দেওয়া হচ্ছে। করোন টেস্ট করে আক্রান্তদের সাথে সাথে হাসপাতালে পাঠানো এবং বাড়ি লকডাউন করে দেওয়া হচ্ছে।

এ বিষয়ে টাঙ্গাইলের জেলা প্রশাসক শহীদুল ইসলাম বলেন, টাঙ্গাইল জেলাকে আগেই লকডাউন করা হয়েছে। যেহেতু আমাদের প্রায় আক্রান্তই ঢাকা, নারায়নগঞ্জ এবং গাজীপুর ফেরত ব্যক্তি। তাই এই ৩ জেলার লোক যেন টাঙ্গাইলে ঢুকতে না পারে সেজন্য চেকপেষ্ট বসানো হয়েছে। তবু তারা গোপনে রাতে রাতে বিভিন্নভাবে চলে আসছে। এদের ব্যাপারে আমরা সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বন করেছি। সেইসাথে জনগনকে আতংকিত না হয়ে আরো সচেতন হতে হবে।