শরীয়তপুরে বোরোর বাম্পার ফলন, তবুও বিপাকে কৃষক


❏ শুক্রবার, মে ১, ২০২০ ঢাকা, দেশের খবর

নয়ন দাস, স্টাফ রিপোর্টার: শরীয়তপু‌রে এ বছর বোরো ধানের বাম্পার ফলন হয়েছে। কিন্তু করোনা সংকটে বোরো ধান নিয়ে বিপাকে পড়েছে চাষিরা। শ্রমিক সংকটের কারণে ধান ঘরে তোলা নিয়ে শঙ্কা দেখা দিয়েছে তাদের।

এ‌দি‌কে ফলন ভা‌লো হ‌লেও গত কয়েক দিনের টানা বৃষ্টিতে বে‌শিরভাগ জমিতে পানি জমে গেছে। শিলা বৃষ্টিতে নষ্ট হয়ে যাচ্ছে ক্ষে‌তের পাকা ধান। আবার অ‌নেক জ‌মি‌তে ধান পাকতে শুরু করলেও কাটার জন্য শ্রমিক সংকটে ফসল ঘরে তোলা নিয়েও দুশ্চিন্তা বাড়‌ছে কৃষকের।

সরেজমিনে বৃহস্পতিবার জেলার নড়িয়া উপজেলার সুরেশ্বর, ইছাপাশা, নন্দনসার, রাহাপাড়া ও গোড়াগাও এলাকার চারটি ইরি ব্লকের জমিতে বৃষ্টির পানি জমে গেছে। কৃষকরা জানিয়েছে ওই ইরি ব্লক গুলোর ২৮০ হেক্টর জমিতে বোরো ধানের আবাদ করা হয়েছে। তা এখন বৃষ্টির পানিতে তলিয়ে যাওয়ার উপক্রম হয়েছে। ইরি ব্লকের পাশ দিয়ে স্থানীয় প্রভাবশালীরা মাছের ঘের তৈরি করে জমির পানি সরানো যা‌চ্ছে না।

এছাড়াও উপজেলা ধামারন, চামটা, ভুমখারার ইরি ব্লক গুলোতে অনেক জমির বিস্তীর্ণ মাঠ জুড়ে সবুজের সমারোহ। বাতাসে দোল খাচ্ছে কাঁচা-পাকা ধানের ছড়া। যা কয়েকদিনের মধ্যেই সোনালি ধানে ভরে যাবে। এমন দৃশ্য কৃষক মনে প্রশান্তি যোগালেও শ্রমিক সংকটে ধান ঘরে তোলা নিয়ে সংকট দেখা দিয়েছে। করোনার সংক্রমণের ভয় ও সারাদেশে লকডাউনের কারণে বেশি মজুরি দিয়েও কোন শ্রমিক পাচ্ছেন না তারা।

রাহাপারা ইরিব্লকের কৃষক এমদাদুল আকন (৫০) বলেন, আমাদের জমিগুলোর পাশে কয়েকটি মাছের প্রোজেক্ট হয়েছে। এখন পানি নামানোর পথ বন্ধ হয়েগেছে। আমাগো জমিনের ধান তলিয়ে যাচ্ছে। জমি থেকে পানি সরাতে না পারলে ধান গুলো সব পচে যাবে। আমরা কোন উপায় অন্ত খুজে পাচ্ছিনা।

নড়িয়া উপজেলার ধামারন গ্রামের ইরিব্লক এর মালিক হিরন সরদার (৪৫) বলেন, এ বছর জমিনে ফলন খুবই ভাল হয়েছে। ব্লকে অনেক জমিনের ধান পেকে রয়েছে। ধান কাটার শ্রমিক নাই তাই আমরা ধান কাটতে পারিছনা।

বোরোর এই বাম্পার ফলনে কৃষকের মুখে হাসি ফুটলে দেখা দিচ্ছে শ্রমিক সংকট। আকাশে একটু মেঘ দেখলেই চাষিদের চিন্তা বেড়ে যাচ্ছে। কিভাবে তারা সোনার ফসল ঘরে তুলবে। এ‌নি‌য়ে জব্বর সরদার (৫০) নামে আরেক কৃষক বলেন, আমি এক কানি জমিনে ধান চাষ করেছি। আমাদের আসে পাশের প্রায় ১০টি ইরি ব্লক রয়েছে যেগুলি নিচু জমি। আমারা আগের ভাগেই ওই জমিনে ধান চাষ করি। আবার আগের ভাগেই ধান গুলো তুলে নেই। এ বছর বৈশাখের শুরুতেই বৃষ্টি ও ঝ‌ড় শুরু হয়ে গেছে। জমিতে পানিও জমে গেছে। এখন আমরা ধান কাটার লোক খুজে পাচ্ছিনা।

শরীয়তপুর জেলা কৃষি সম্প্রসারন কার্যালয় থেকে জানানো হয়েছে, এ বছর শরীয়তপুরে বোরো আবাদের লক্ষমাত্রা ধরা হয়েছিল ২৫ হাজার ৯৮০ হেক্টর জমিতে। আবাদ হয়েছে ২৬ হাজার ৪শ হেক্টর জমি। আর ধান উৎপাদনের লক্ষ মাত্রা ধরা হয়েছে ১লক্ষ ৬৩ হাজার ২৩৮ মেট্রিকটন।

নড়িয়া উপজেলা কৃষিকর্মকর্তা রোকনুজ্জামান বলেন, ঘড়িষার এলাকায় বাঁধের কারণে কয়েকটি ব্লকে পানি জমেছে এমন খবর আমরা আপনাদের মাধ্যমে জানতে পারলাম। মাঠকর্মী‌দের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে খোজ নিয়ে ওই ইরি ব্লকের পানি অপসারনের ব্যাবস্থা করা জন্য।

জেলা প্রশাসক কাজী আবু তাহের বলেন, ঝিনাইদাহ, নড়াইল ও মুন্সিগঞ্জ থেকে ইতিমধ্যেই কৃষি শ্রমিক আসতে শুরু করেছে। যে সকল কৃষক ভাইদের শ্রমিক প্রয়োজন তারা যেসব এলাকা থেকে শ্রমিক আনতে চায় ওই এলাকায় যোগাযোগ করলে ওই জেলার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ওই শ্রমিকদের প্রত্যায়ন পত্র দিলেই শ্রমিকরা এসে কাজ করতে পারবে।

আপনার জেলার সর্বশেষ সংবাদ জানুন