• আজ ২২শে ফাল্গুন, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ

ধারণক্ষমতার দ্বিগুণের বেশি বন্দি, করোনা ঝুঁকিতে টাঙ্গাইল কারাগার

৩:৩২ অপরাহ্ন | শুক্রবার, মে ১, ২০২০ ঢাকা, দেশের খবর

অন্তু দাস হৃদয়, স্টাফ রিপোটার- টাঙ্গাইল জেলা কারাগারে ধারণ ক্ষমতার দ্বিগুণেরও বেশি বন্দি রয়েছে। ৪৭৬ জন ধারণ ক্ষমতার এ কারাগারে বর্তমানে বন্দি রয়েছেন এক হাজার ৮৪ জন।

ধারণ ক্ষমতার অধিক বন্দি থাকায় করোনা ভাইরাসের ঝুঁকিতে রয়েছে এ কারাগার। তারপরও বন্দিদের নিরাপত্তায় প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে কারা কর্তৃপক্ষ।

করোনার কারণে স্বল্পমেয়াদের সাজাপ্রাপ্ত বেশকিছু বন্দিকে মুক্তি দেয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে কারা অধিদপ্তর। এ লক্ষ্যে কারা কর্তৃপক্ষ স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে ২৪০ জন বন্দির তালিকা পাঠিয়েছে।

টাঙ্গাইল জেল সুপার মোহাম্মদ আবদুল্লাহ আল মামুন এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

সূত্র জানায়, কারাগারটিতে জেল অফিস, স্টাফ কোয়ার্টার ছাড়াও তিনটি বন্দিশালা রয়েছে। প্রতিদিনই এখানে নতুন বন্দি আসেন, আবার অনেকেও অন্য কারাগারে স্থানান্তরিত হন। এই বন্দির বিপরীতে কারাগারে বিভিন্ন পদে কর্মকর্তা-কর্মচারী রয়েছে ১৫৭ জন। ভেতরে বন্দিদের চিকিৎসার জন্য রয়েছে একটি কারা হাসপাতাল। এর শয্যা সংখ্যা মাত্র ২৪টি। নারী বন্দিদের জন্য মাত্র একটি ওয়ার্ড। সেখানে বন্দি আছেন ৪০ জন। অন্যান্য ওয়ার্ড ছাড়াও কন্ডেম সেল রয়েছে চারটি।

এ বিষয়ে টাঙ্গাইল জেল সুপার মোহাম্মদ আবদুল্লাহ আল মামুন সময়ের কন্ঠস্বর’কে বলেন, ‘সারা বিশ্বের জন্যই করোনা এখন হুমকি। এটি মোকাবিলায় প্রথম প্রয়োজন সামাজিক দূরত্বের। কিন্তু যেহেতু এমনিতেই আমাদের ধারণক্ষমতার অনেক বেশি বন্দি রয়েছে। আর তাদের বন্দিশালাতে অনেকটাই গাদাগাদি করে থাকতে হয়, সেই হিসেবে তারা করোনা ঝুঁকিতে রয়েছেন। তারপরও আমরা আমাদের সাধ্যমতো তাদের নিরাপদ রাখার চেষ্টা করছি।

তিনি আরও বলেন, ‘কারাগারের ভিতরে থাকা ছোট হাসপাতালটিতেই আমরা চিকিৎসা দেয়ার ব্যবস্থা করেছি। সেখানে আইসোলেশনও রাখা হয়েছে। যদি বন্দিদের মধ্যে কোনোভাবে করোনা ছড়িয়ে পড়ে, তবে যে কয়জনকে আইসোলেশনে রাখা সম্ভব হবে আমরা তাদের রাখব। তারপরও স্থান সঙ্কুলান না হলে বাধ্য হয়ে অন্য জায়গায় স্থানান্তরিত করতে হবে। তারপরও স্থান সঙ্কুলানের জন্য তারা ঝুঁকিতে থাকছেন। তবে নতুন একটি পাঁচ তলা ভবন নির্মাণের কাজ চলছে। সেটি শেষ হলে ধারণক্ষমতার সমস্যা কেটে যাবে।