রংপুরে করোনা প্রতিরোধের নামে যত্রতত্র ব্যবহার হচ্ছে পিপিই

৫:৩৮ অপরাহ্ন | শুক্রবার, মে ১, ২০২০ রংপুর
ppe

সাইফুল ইসলাম মুকুল,রংপুরঃ করোনা ভাইরাস প্রতিরোধের নামে রংপুরে যত্রতত্র ব্যবহার হচ্ছে পার্সোনাল প্রটেকটিভ ইকুইপমেন্ট (পিপিই)। নগরীর রাস্তায় একটু দাঁড়ালেই দেখা যাচ্ছে কেউ মোটরসাইকেলে, কেউ পিপিই পরে হেঁটে বেড়াচ্ছেন।

পিপিই অবাধ ব্যবহারের ফলে একদিকে যেমন বুঝা যাচ্ছে না পিপিই’র পরিধান করা ব্যক্তিটি কতটুকু গুরুত্বপূর্ণ। অনেকে মনে করছেন এটি অপাত্রে ঘি ঢালার মত অবস্থা হয়েছে। এছাড়া অনেক দোকানে বিক্রি হচ্ছে পিপিই। ফলে এর মান নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে খোদ স্বাস্থ্য বিভাগে।

জানা গেছে, ডাক্তার, নার্সসহ স্বাস্থ্য সেবার সাথে জড়িত এবং করোনা মোকাবেলা যারা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছেন তারাই শুধু পিপিই ব্যবহার করতে পারবেন। এছাড়া সাধারণ মানুষকে করোনা প্রতিরোধে নিরাপদ দূরত্ব বজায় রেখে হ্যান্ড গ্লোভস ও মাস্ক ব্যবহার নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। কিন্তু এই নির্দেশনা না মেনে অনেকেই পিপিই ব্যবহার করছে। এসব পোশাক দেখে অনেক সময় শিশুদের মনে ভীতি সঞ্চার হচ্ছে।

সরেজমিনে রংপুর নগরীর বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, অনেকেই মোটরসাইকেলে পিপিই পরে ঘুরে বেড়াচ্ছে। আবার কেউ পিপিই পরে নগরীর প্রধান সড়কে হেঁটে বেড়াচ্ছেন। এসব মানুষের পরিচয় খুঁজতে গিয়ে দেখা গেছে এদের কেউ হয়তো ব্যবসায়ী অথবা কেউ বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে চাকরি করেন আবার কেউ হয়তো বেকার যুবক। শুধুমাত্র প্রদর্শনের জন্য এ ধরনের পোশাক পরছেন তারা।

স্বাস্থ্য বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, করোনাভাইরাস প্রতিরোধ যুদ্ধে সন্মুখ যোদ্ধা ডাক্তার নার্সসহ চিকিৎসা সেবার সাথে যারা জড়িত প্রথমেই তাদেরই পিপিই পরার অধিকার। এরপর পুলিশ, স্থানীয় প্রশাসন, সাংবাদিকসহ যারা করোনা প্রতিরোধে সচেনতামূলক কাজ করছেন তারা পিপিই ব্যবহার করতে পারবেন। এছাড়া করোনা হাত থেকে রক্ষা পেতে সাধারণ মানুষকে সামাজিক দূরত্ব বজায় রেখে হ্যান্ড গ্লোভস ও মাস্ক পরার নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। কিন্তু অনেকেই বেশি সুরাক্ষা পেতে গিয়ে মাস্ক, গ্লোভস ছাড়াও পিপিই পরে ঘুরে বেড়াচ্ছেন। এছাড়া নগরীর বেশ কয়েকটি ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে বিক্রি হচ্ছে পিপিই। এসব পিপিই’র মান নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে খোদ স্বাস্থ্য বিভাগের।

বিশেষজ্ঞদের মতে, এসব মানুষের পিপিএ’র কোনো প্রয়োজন নেই। তার পরেও তারা পিপিই পরে ঘুরে বেড়াচ্ছেন। এতে সাধারণ মানুষ বিভ্রান্ত হচ্ছেন।

এ বিষয়ে রংপুর জেলা সিভিল সার্জন ডা. হিরন্ব কুমার রায় বলেন, সাধরণ মানুষের পিপিই পরার কোনো প্রয়োজন নেই। তাদের দূরত্ব বজায় রেখে গ্লোভস ও মাস্ক পরলেই চলবে। তিনি আরও জানান, বাজারে যেসব পিপিই বিক্রি হচ্ছে এসবের মান নিয়েও সন্দেহ রয়েছে।