দু’মাস পর নদীতে ইলিশ শিকারে নেমেছে চরফ্যাশনের জেলেরা

৭:৫০ অপরাহ্ন | শুক্রবার, মে ১, ২০২০ বরিশাল
ilish

এস আই মুকুল, নিজস্ব প্রতিবেদকঃ মার্চ-এপ্রিল টানা দু’মাস অবরোধের পর মধ্য রাত থেকেই মেঘনা ও তেতুলিয়া নদীতে নেমেছেন ভোলা উপকূলের চরফ্যাশনের জেলেরা। এতে শুক্রবার সরগরম হয়ে উঠেছে ইলিশের মৎস ঘাট।

মাছ ধরাকে কেন্দ্র করে ব্যস্ততা বেড়েছে জেলেদের। নদী থেকে মাছ আসছে আড়তে। সেখানেই চলছে কেনা-বেচা। তবে নদীতে এখন এই সময়ে ইলিশের সরবরাহ অনেক কম হওয়ায় দাম অনেক বেশি বলে জানিয়েছেন আড়ৎদাররা।

এক আড়ৎ মালিক জানান, মাছের সরবরাহ কম হওয়ায় স্থানীয় বাজারেই এসব মাছ বিক্রি হয়ে যাচ্ছে। তাই ভোলার বাইরের জেলায় ইলিশ বিক্রি নিয়ে চিন্তিত তারা।

জেলেদের আহরণকৃত এসব মাছ আড়ৎদার, পাইকার ও ব্যাপারীদের হাত ঘুরে স্থানীয় বাজারে চলে যাচ্ছে। সেখান থেকেই ইলিশ পাচ্ছেন ভোক্তারা। অন্যদিকে বরফকলগুলোতেও বরফ উৎপাদন শুরু হয়েছে বাড়ছে অর্ডার।

এদিকে করোনা ভাইরাসের কারণে সামাজিক দূরত্ব ও স্বাস্থ্যবিধি মেনেই ইলিশের কেনা-বেচা করছেন বলেও জানান আড়ৎদাররা। তারা বলেন, সবাই নিরাপদ দূরত্ব নিশ্চিত করে মাছ কেনা-বেঁচা করছেন।

ভোলার চরফ্যাসন সামরাজ মৎসঘাট এলাকার এক আড়ৎদার জানান, মাছের তেমন সরবরাহ নেই আড়তে। নদিতেে মাছের পরিমাণ খুবই কম।

করোনার কারণে দূরের পাইকার ও ব্যাপারীরা আসতে পারছেন না, তাই যে কয়জন স্থানীয় ব্যবসায়ী আছেন তারাই ঘাট জমিয়েছেন। স্থানীয় বাজারে কিছু এবং বরিশালে পরিমানে মাছ রপ্তানি করা হচ্ছে। আগামি দু’একদিনের মধ্যে মাছের উৎপাদন বাড়লে জেলে আড়তের লোকসান পুষিয়ে নেওয়া যাবে।

এদিকে চরফ্যাসনের মৎস্যঘাটগুলোতে মাছের সরবরাহ কম হওয়ায় দামও অনেক বেশি। বড় সাইজের এক হালি ইলিশ বিক্রি হচ্ছে ৪০০০ হাজার থেকে ৪৮০০ টাকা দরে, মাঝারি সাইজের ইলিশ ২২০০-২৫০০ টাকা, ভেল্কা সাইজের মাছ ১২ টাকা এবং ঝাটকা বিক্রি হচ্ছে ২০০ থেকে ৪০০ টাকা দরে। মাছের চাহিদা বেশি থাকায় দামও বেশি বলে মনে করছেন আড়ৎদাররা।

বরফকল মালিক এ হশেম বলেন এখন মাছ ধরা শুরু হওয়ার সাথে সাথে চাহিদা বেড়েছে বরফের। আজ শুক্রবার ভোর থেকে অনেক অর্ডারও পাচ্ছেন। করোনা ভাইরাসের কারণে চরফ্যাসন উপজেলা প্রশাসন নিরাপদ দূরত্ব নিশ্চিত করে বরফ বিক্রি করতে বলা হয়েছে। তারা সেভাবেই বরফ কেনা-বেঁচা করছেন।

চরফ্যাসন মৎস্য বিভাগ বলছেন ভোলার অভয়াশ্রমে মেঘনা ও তেঁতুলিয়ার ১৯০ কিলোমিটার এলাকায় ইলিশের পোনা বিচরণ করে এবং ছোট থেকে বড় হয়। মৌসুমে মাছ রক্ষা করা সম্ভব হয়েছে তাই মৌসুুুুমে লক্ষ্যমাত্রা অর্জিত হবে।

চরফ্যাসন মৎস্য কর্মকর্তা মারুফ হোসেন মিনার জানান, দু মাসে নদিতে মাছের অভিযান আমাদের সফল হয়েছে, আমরা মনে করছি, ইলিশের উৎপাদনের যে লক্ষ্যমাত্রা ছিলো তার চেয়ে বেশি অর্জিত হবে। এ বছর আমাদের ভোলা জেলায় ইলিশের লক্ষ্যমাত্র ছিলো এক লাখ ৬০ হাজার মেট্রিক টন।

এদিকে ২ মাসের নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে মাছ শিকারের দায়ে জেলায় ৩৪৯ জন জেলেকে বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। এছাড়াও ৮ লাখ টাকা জরিমানা ও ১৫ মেট্রিক টন ইলিশ জব্দ হয়েছে। মোট অভিযান হয়েছে ১৯৩টি এবং মোবাইল কোট হয়েছে ৮২টি। কারেন্ট জাল জব্দ হয়েছে ১২ লাখ মিটার এবং চরঘেরাসহ অন্যান্য জাল জব্দ হয়েছে ২শ’২২টি।