এতিমখানা ও বৃদ্ধাশ্রমটি এখনও নানা সমস্যায়, ঈদে নতুন জামা চায় এতিম শিশুরা!

◷ ২:০০ অপরাহ্ন ৷ শনিবার, মে ২, ২০২০ দেশের খবর

ফয়সাল শামীম, স্টাফ রিপোর্টার:তিব্র রোদ! টিনের নিচে সিলিং না থাকায় টিন ভেদ করে সে রোদ যেন পুড়ছে এতিম ও বৃদ্ধদের! পবিত্র কোরআন পড়তে গিয়ে ঘেমে নাস্তানাবুদ প্রতিটি বাচ্চা ও বৃদ্ধা। টিনের নিচে সিলিংয়ের জরুরী প্রয়োজন। চাহিদার তুলনায় ফ্যানও নেই! বারান্দার কাজ এখনও করা হয়নি! রুমগুলো রং করাও অতি জরুরি। একটা ওজুখানারও জরুরী প্রয়োজন।

যেখানে এতসব সমস্যায় ডুবে আছে এতিমখানা ও বৃদ্ধাশ্রমটি ঠিক তখনই এতিমদের সামনে ঈদুল ফিতর এসে হাজির। করোনার কারণে গোটা বিশ্ব স্থবির। কিন্তু সে বুঝ কি আর মানবে এতিম শিশুরা? তারা ছোট মানুষ, তারা জানে বছরে একবার মানে ঈদুল ফিতরেই তারা নতুন জামা ও পায়জামা পাবে।

বলছি কুড়িগ্রামের নাগেশ্বরী উপজেলার নওদাবস মাদ্রাসা, এতিমখানা ও বৃদ্ধাশ্রমের কথা। এই এতিমখানায় ১১৭ জন বাচ্চা কোরআনে হাফেজ হতে এসছেন। এদের প্রায় বেশির ভাগই এতিম। এই এতিমখানায় থেকে খেয়ে তারা পবিত্র কোরআনের শিক্ষা নিচ্ছে। এই বাচ্চাগুলোর ১ টি পাঞ্জাবী হলেই প্রায় ১ বছর কেটে যায়। এই এতিমখানায় থাকা বাচ্চারা ঈদে নতুন জামার জন্য সমাজের হৃদয়বান ও বিত্তবানদের দারস্থ হয়েছেন। তারা সমাজের হৃদয়বান ও বিত্তবানদের কাছে ১ টি করে পাঞ্জাবী ও ১টি করে পায়জামা চান। এছাড়া বৃদ্ধাশ্রমের ৬ জন বৃদ্ধারও নতুন কাপড় দেয়া প্রয়োজন।

এ প্রতিবেদকের সাথে কথা বলে এই এতিমখানার এতিম শিশু মো:আতিকুর রহমান বলেন, আমাদের মা বাবা দুনিয়াতে নেই তাই বলে কি আমাদের ঈদ নেই! তাই বলে কি ঈদে আমরা নতুন জামা পরবো না? ঈদে তো সবাই নতুন জামা পরবে আমরা এতিম বলে কি নতুন জামা পরতে পারবো না? কথা গুলো বলতে বলতে চোখের দু কোনা বেয়ে টপ টপ করে পানি পড়ছিল তার।

এই এতিমখানার ছোট এক শিশু মো: সাজিদুল ইসলাম প্রতিবেদকে ক্ষোভের সাথে বলেন, আমরা করোনা টরোনা বুঝিনা আমরা ঈদে নতুর পাঞ্জাবী পায়জামা চাই। একই আক্ষেপ এই এতিমখানায় পড়তে আসা অন্য বাচ্চাদেরও। ঈদ যত কাছে আসছে ততই যেনো নতুন জামা না পাওয়ার ব্যাপারটা তত সামনে আসছে। এই এতিমখানায় গত রমজানে দেয়া পাঞ্জাবী এখনও পড়ছেন প্রায় অনেক বাচ্চাই।

এতিমখানা ও বৃদ্ধাশ্রমের মহতামিম হাফেজ শেখ সাদী বলেন, অনেক বাপ মা হারা ছোট ছোট বাচ্চা প্রতি ঈদে একটি করে নতুন পাঞ্জাবী পেয়ে ওই পাঞ্জাবী দিয়ে টানা ১ বছর চালায়। আর তাদের পাঞ্জাবীগুলোও বেশ পুরোনো হয়ে গেছে। তাই তিনি সকলের সাছে সহযোগিতা চেয়ে জোড় অনুরোধ করেন।

প্রতিবেদকের বক্তব্য: আমি নিজে এতিমখানা ও বৃদ্ধাশ্রমটির প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি এবং আমি নিজে দেখাশুনা করি ও সব ব্যাবস্থাপনা করি। এছাড়া এতিমদের জন্য কিছু করার চেষ্টা করি। বর্তমানে এতিমখানায় ১১৭ জন বাচ্চা আছে। এই ১১৭ জন বাচ্চা এতিমখানায় থেকে পবিত্র কোরআনের আলোয় আলোকিত হচ্ছেন। এদের তেমন কোন চাওয়া পাওয়া নেই। এদের বছরে ১ টি পাঞ্জাবী ও ১টি পায়জামা হলেই চলে।

এই এতিম বাচ্চারা ইতিমধ্যে সকলে টেইলার্সে গিয়ে পাঞ্জাবী ও পায়জামার মাপ দিয়ে এসেছে। এবং আমি টেইলার্সে কথা বলেছি, তারা বলেছে তারা ঈদের আগেই সব পাঞ্জাবী পায়জামা দিতে পারবে। আমি আরও খোঁজ নিয়ে দেখেছি ১ টি মোটামুটি ভালো মানের পাঞ্জাবী ও পায়জামা এবং মেয়েদের বোরখা তৈরি করতে কাপড় ও কাটা খরচ মিলে ৮৫০ টাকার প্রয়োজন।

তাই আমি সকলের কাছে বিনীত অনরোধ করবো ” আসুন এই এতিমদের অভিভাবকহীন না ভেবে নিজের সন্তানের মতো মনে করে এই ঈদে একটি করে নতুন পাঞ্জাবী ও পায়জামার ব্যাবস্থা করে দেই। আপনার দেয়া পাঞ্জাবী ও পায়জামা পড়ে শুধু ঈদের নামায নয় ঈদের পরেও সারা বছর প্রতিদিন ৫ ওয়াক্ত নামাযেই এই এতিমরা আপনার জন্য কোমলমতী দুটো হাত তুলে আপনার জন্য মহান আল্লাহপাকের দরবারে দোয়া করবে ইনশাআল্লাহ।

সহযোগিতা পাঠাতে এতিখানা ও বৃদ্ধাশ্রমের একাউন্ট নম্বর: ২০৫০১৯৫০২০২৫৫১৫০২ হিসাবের নাম: নওদাবস মাদ্রাসা, এতিমখানা ও বৃদ্ধাশ্রম। ব্যাংকের নাম: ইসলামি ব্যাংক লি: শাখার নাম কুড়িগ্রাম শাখা,কুড়িগ্রাম।

আরও তথ্যের জন্য অথবা ভিডিও কলে এতিম ও বৃদ্ধদের সাথে কথা বলতে এতিমখানা ও বৃদ্ধাশ্রমের সভাপতি ও পরিচালক, প্রভাষক ফয়সাল শামীম-০১৭১৩২০০০৯১।