• আজ ২১শে ফাল্গুন, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ

তবে কি ঈদে নতুন জামা পাবে না এতিম শিশুরা?

১২:১২ অপরাহ্ন | মঙ্গলবার, মে ৫, ২০২০ দেশের খবর

ফয়সাল শামীম,স্টাফ রিপোর্টার: তবে কি সত্যিই ঈদে নতুন জামা পাচ্ছে না এতিম বাচ্চারা! নতুন জামার জন্য বেশ কয়েকদিন থেকে কান্নাকাটি করছে এতিমখানায় থাকা প্রায় সব বাচ্চাই। ২/১ জন এতিমখানা ছেড়ে নতুন জামার জন্য নানু,দাদু বা চাচা ফুপুর কাছে গেলেও কোন সাড়া না মেলায় এতিমখানায় এসে চুপ করে মাথায় হাত দিয়ে ঘরের এক কোনে বসে থাকছে।

এতিমখানায় কেউ কারও সাথে ঠিকমতো কথা বলছেন না। ইফতার সেহেরিতে ঠিকমতো খাচ্চে না। সারাদিন কেউ ঘরের কোনে কেউবা গাছের ছায়ায় গিয়ে একা একা বসে থাকছেন।

এ যেন এক হৃদয়স্পর্শী দৃশ্য। যা দেখলে যে কোন হৃদয়ের মানুষের চোখের কোনা বেয়ে পানি আসবে। এই হৃদয়স্পর্শী দৃশ্যগুলি ঘটছে কুড়িগ্রামের নাগেশ্বরী উপজেলার নওদাবস মাদরাসা,এতিমখান ও বৃদ্ধাশ্রমে। এই এতিমখানায় ১১৭ জন বাচ্চা থেকে খেয়ে পবিত্র কোরআনে হাফেজ হচ্ছেন। আসন্ন ঈদে সকল বাচ্চার চাওয়া ছিল মাত্র ১টি করে নতুন পাঞ্জাবী। কিন্তু পাঞ্জাবীর কোন ব্যাবস্থা না হওয়ায় সকল বাচ্চার মন ভেঙ্গে গেছে।

এই এতিমখানার ছাত্র ছোট্ট ফরহাদ বলেন ’যার বাবা মা নেই তার কিসের ঈদ! কিসের জামা? একই এতিমখানার ছাত্র মাসুদ রানা বলেন, গত ঈদে একটা নতুন জামা কিনছি সেই জামাই ১ বছর শেষ। এ প্রতিবেদককে একই মাদ্রাসার এতিম রাজু মিয়া ও আকাশ বলেন, ’অনেক আশা করে ছিলাম ঈদে নতুন জামা পাবো। কিন্তু পেলাম না। কি আর করা যাবে আল্লাহ ভরসা।

এই এতিমখানার বৃদ্ধাশ্রমে থাকা বৃদ্ধা সাহেরা বেগম(৭৫) বলেন আমরা কিছুই চাইনা। আপনারা দয়া করে বাচ্চাগুলোকে একটা করে নতুন জামা দেন।

এতিমখানা ও বৃদ্ধাশ্রমের মহতামিম হাফেজ শেখ সাদী বলেন, বাপ মা হারা ছোট ছোট বাচ্চা প্রতি ঈদে একটি করে নতুন পাঞ্জাবী পেয়ে ওই পাঞ্জাবী দিয়ে টানা ১ বছর চালায়। আর এখন তাদের পাঞ্জাবীগুলোও বেশ পুরোনো হয়ে গেছে। তাই তিনি সকলের কাছে বাচ্চাদেরকে একটি করে পাঞ্জাবী দেয়ার বিণীত অনুরোধ করেন।

উল্লেখ্য গত ২রা মে শনিবার জনপ্রিয় অনলাইন ’সময়ের কন্ঠস্বরে ’ এতিমখানা ও বৃদ্ধাশ্রমটি এখনও নানা সমস্যায়, ঈদে নতুন জামা চায় এতিম শিশুরা! শিরোনামে খবর প্রকাশ হয়। খবর প্রকাশের পরে কোন প্রকার সাহায্য সহযোগিতা পাওয়া যায় না।

প্রতিবেদকের বক্তব্য: আমি নিজে এতিমখানা ও বৃদ্ধাশ্রমটির প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি এবং আমি নিজে দেখাশুনা করি ও সব ব্যাবস্থাপনা করি। বর্তমানে এতিমখানায় ১১৭ জন বাচ্চা আছে। এই ১১৭ জন বাচ্চা এতিমখানায় থেকে পবিত্র কোরআনের আলোয় আলোকিত হচ্ছেন। এদের বছরে ১ টি পাঞ্জাবী ও ১টি পায়জামা হলেই চলে।

এই এতিম বাচ্চারা ইতিমধ্যে সকলে টেইলার্সে গিয়ে পাঞ্জাবী ও পায়জামার মাপ দিয়ে এসেছে। এবং আমি টেইলার্সে কথা বলেছি, তারা বলেছে তারা ঈদের আগেই সব পাঞ্জাবী পায়জামা দিতে পারবে। আমি আরও খোঁজ নিয়ে দেখেছি ১ টি মোটামুটি ভালো মানের পাঞ্জাবী ও পায়জামা তৈরি করতে কাপড় ও কাটা খরচ মিলে ৮৫০ টাকার প্রয়োজন।

তাই আমি সকলের কাছে বিনীত আহŸান করবো ” আসুন এই এতিমদের অভিভাবকহীন না ভেবে নিজের সন্তানের মতো মনে করে এই ঈদে একটি করে নতুন পাঞ্জাবী ও পায়জামার ব্যাবস্থা করে দেই। আপনার দেয়া পাঞ্জাবী ও পায়জামা পড়ে শুধু ঈদের নামায নয় ঈদের পরেও সারা বছর প্রতিদিন ৫ ওয়াক্ত নামাযেই এই এতিমরা আপনার জন্য কোমলমতী দুটো হাত তুলে আপনার জন্য মহান আল্লাহপাকের দরবারে দোয়া করবে ইনশাআল্লাহ।

সহযোগিতা পাঠাতে এতিখানা ও বৃদ্ধাশ্রমের একাউন্ট নম্বর: ২০৫০১৯৫০২০২৫৫১৫০২ হিসাবের নাম: নওদাবস মাদ্রাসা, এতিমখানা ও বৃদ্ধাশ্রম। ব্যাংকের নাম: ইসলামি ব্যাংক লি: শাখার নাম কুড়িগ্রাম শাখা,কুড়িগ্রাম।

আরও তথ্যের জন্য অথবা ভিডিও কলে এতিম ও বৃদ্ধদের সাথে কথা বলতে এতিমখানা ও বৃদ্ধাশ্রমের সভাপতি ও পরিচালক, প্রভাষক ফয়সাল শামীম-০১৭১৩২০০০৯১।