‘শপিং মল খুলে দেওয়া সরকারের অদূরদর্শিতা’- ফখরুল

৮:১০ অপরাহ্ন | মঙ্গলবার, মে ৫, ২০২০ জাতীয়
fakhrul

সময়ের কণ্ঠস্বর ডেস্কঃ বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, সরকার যে শাটডাউন তুলে নিচ্ছে, এতে করে দেশ আরো ভয়ংকর পরিস্থিতির দিকে যাচ্ছে। এটা তারা কেন করছে? আমাদের মনে হয়, জনগণের কাছে জবাবদিহিতা না থাকার কারণেই এটা করছে তারা। আজকে দেশে সত্যিকার অর্থে জনগণের নির্বাচিত সরকার থাকলে কিন্তু এটা করা সম্ভব হতো না।

মঙ্গলবার দুপুরে এক সংবাদ সম্মেলনে বিএনপি মহাসচিব এই মন্তব্য করেন। গুলশানে বিএনপি চেয়ারপারসনের কার্যালয়ে করোনা পরিস্থিতি নিয়ে এই সংবাদ সম্মেলন হয়। এতে বিএনপির তথ্য ও গবেষণা সম্পাদক রিয়াজ উদ্দিন নসু, চেয়ারপারসনের প্রেস উইংয়ের সদস্য শায়রুল কবির খান ও শামসুদ্দিন দিদার উপস্থিত ছিলেন।

তিনি বলেন, “শপিং মল খুলে দিচ্ছেন খুব ভালো কথা। ঈদে যারা কাজ করে, কাপড় তৈরি করে, কেনাবেচা করে, ছোট-বড় ব্যবসায়ী তাদের জন্য দরকার প্রয়োজন আছে। সেটা কী আমার মানুষের জীবনের বিনিময়ে? একটা মাস কি সেটা নিয়ন্ত্রণ করা যেত না? আসলে সরকার ব্যর্থ হয়েছে, সামাজিক দূরত্ব নিশ্চিতে ব্যর্থতার কারণে দেশকে এক ভয়াবহ পরিণতির দিকে ঠেলে দিয়েছে।”

তিনি বলেন, “মানুষের জীবন-জীবিকা দুইটাই যেমন রাখতে হবে ঠিক, সংক্রমণ যেহেতু এখনও ঊর্ধ্বমুখী, সেহেতু আরো কিছুদিন অবরুদ্ধ সমাজিক দূরত্ব নীতিমালা কঠোরভাবে পালন করা উচিত ছিল। কারখানাগুলো এমনভাবে খোলা যেতে পারত যে, ধীরে ধীরে একটা কারখানায় সকল ব্যবস্থাকে নিশ্চিত করে, শ্রমিকদের যে স্বাস্থ্য নিরাপত্তা সেটা নিশ্চিত করে। সেটা তো করা হয়নি। বলা যেতে পারে কোনো রকমের কোনো দূরদর্শিতার প্রমাণ সরকারের দেখতে পাইনি। প্রতিটি ক্ষেত্রে তাদের অদূরদর্শিতা, সমন্বয়হীনতা এবং চরম উদাসীনতা এখানে প্রমাণ হচ্ছে।”

ফখরুল বলেন, সরকার কোথায়? আমি তো এখন দেখছি যে, সরকার এখন রাস্তাতেও নেই। অর্থাৎ গোড়ায়-আগায়, মনে-গোপনে, কার্যালয়ে নেই।

তিনি আরো বলেন, সরকার এক জায়গায় আছে, সেটা শুধু টেলিভিশনে। আর কিন্তু তারা কোথাও নেই। আপনি খেয়াল করে দেখবেন- এভরি বডি ইজ ইন দি টেলিভিশন, নো বডি ইজ এ্যানি হোয়ার।

সংকট মোকাবিলায় বিরোধী দলকে নিয়ে ঐক্যবদ্ধ উদ্যোগ এবং স্বনামধন্য অর্থনীতিবিদদের নিয়ে ট্রাস্ক ফোর্স গঠন করার দাবি কর্ণপাত না করায় সরকারের সমালোচনা করেন মির্জা ফখরুল।

কৃষিখাত প্রসঙ্গে ফখরুল বলেন, “সরকার বলছে, ২২ লক্ষ মেট্রিক টন চাল কিনবে। এখন পর্যন্ত বোরো ধান কেনার কাজ শুরু হয়নি। যার ফলে কৃষকেরা ক্ষেতের মধ্যে অত্যন্ত কম মূল্যে ৬০০ টাকায় ধান বিক্রি করছে। ময়মনসিংহ হাওর অঞ্চলে এই দামে ধান কৃষকরা বিক্রি করছে বলে আমার কাছে খবর এসেছে।”

দলের ত্রাণ কার্য্ক্রম তুলে ধরে ফখরুল বলেন, “বিএনপি রাজধানীসহ সারাদেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলে কর্মহীন মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছে জরুরি সহযোগিতা নিয়ে। যুক্তরাজ্যেও বিএনপির পক্ষ থেকে দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নির্দেশে সেখানে খাদ্য বিতরণ করা হচ্ছে হাসপাতালগুলোতে।”

স্বাস্থ্য ব্যবস্থার সমালোচনা করে তিনি বলেন, “এটা সম্পূর্ণভাবে ভেঙে পড়েছে।আপনি খবরের কাগজে দেখেছেন কতগুলো ছবি যে, টেস্ট করতে গিয়ে তিন ঘণ্টা দাঁড়িয়ে থাকতে গিয়ে ওখানে পড়ে মারা গেছেন, এটা মর্মান্তিক। আমাদের মতো সভ্য দেশে এরকম স্বাস্থ্য ব্যবস্থা দেখতে হবে আমরা ভাবতে পারি না। বাচ্চাদের জ্বর হলে তাদের হাসপাতালে ভর্তি করে না এবং প্রকৃত ব্যাপার হচ্ছে করোনা না হলেও চিকিৎসা হাসপাতালে আপনি পাবেন না। আর করোনা হয়েছে কী হয় নাই তার টেস্টও তো সহজে পাওয়া যায় না।”