রমজান মাস আল্লাহর কাছ থেকে চেয়ে নেয়ার সময়

১:০৮ অপরাহ্ন | বুধবার, মে ৬, ২০২০ ইসলাম

ইসলাম ডেস্ক-পবিত্র কোরআনে মহান আল্লাহ ইরশাদ করেন, ‘যখন তোমার কাছে আমার বান্দা আমার সম্পর্কে জিজ্ঞেস করে (তখন বলে দাও যে) নিশ্চয়ই আমি তাদের কাছে। প্রার্থনাকারী যখন আমাকে ডাকে, তখন আমি তার ডাকে সাড়া দিই। সুতরাং তারাও যেন আমার ডাকে সাড়া দেয় ও ঈমান আনয়ন করে, আশা করা যায় তারা সফলকাম হবে।’ (সুরা বাকারা, আয়াত : ১৮৬)।

আল্লাহ দোয়া কবুল করতে ভালোবাসেন। তার কাছে চাইলে তিনি খুশি হন। এ ব্যাপারে আল্লাহ তায়ালা বলেন, ‘তোমরা ভয় ও আশা নিয়ে আল্লাহকে ডাকো। নিশ্চয়ই আল্লাহর রহমত সৎকর্মশীলদের নিকটবর্তী।’ (সূরা আরাফ : ৫৬)।

রমজান মাস হলো আল্লাহর কাছ থেকে চেয়ে নেয়ার মাস। যে যতো বেশি চাইতে পারে, আল্লাহ তাআলা তাকে ততো বেশি দান করেন। এ মাসে আল্লাহর অফুরন্ত অনুগ্রহ লাভের অতি মূল্যবান দুটি সময় আছে। যে সময় আল্লাহর কাছে কোনো কিছু প্রার্থনা করলে আল্লাহ বান্দাকে ফেরত দেন না। মাহে রমজানে এ সময়গুরোতে দোয়া করে কাঙ্ক্ষিত জিনিস লাভের সুবর্ণ সুযোগ গ্রহণ করতে পারি আমরা।

রমজানে ইফতারের সময় দোয়া কবুল হয়। এছাড়া আছে মহিমান্বিত কদর রজনী। এ রজনী হাজার রাত থেকে উত্তম। বরকতময় এ রজনীতে ফেরেশতারা বান্দার দোয়া আল্লাহর দরবারে নিয়ে যান। এছাড়া দোয়া কবুলের কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ সময়ের কথা আপনাদেরকে জানাবো। যে সময়গুলোকে রমজানের বাকি সময় কাজে লাগাতে পারেন। মহান আল্লাহর কাছে গুনাহ মাফ ও সহ যাতীয় প্রয়োজন চেয়ে নিতে পারেন।

শেষ রাতে: শেষ রাতের দোয়া কবুলের বিশেষ মুহূর্ত। কেননা এ সময় আল্লাহ দুনিয়ার আকাশে অবতরণ করেন। আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুল (সা.) বলেন, মহান আল্লাহ প্রতি রাতের শেষ প্রহরে (যখন রাতের এক-তৃতীয়াংশ বাকি থাকে) দুনিয়ার আকাশে অবতরণ করেন। তিনি তখন বলেন, ‘আছ কি কোনো আহ্বানকারী? আমি তোমার ডাকে সাড়া দেব। কোনো প্রার্থনাকারী কি আছো, আমি তোমাকে যা চাও তা দেব? কেউ কি ক্ষমা প্রার্থনা করবে, আমি তোমাকে ক্ষমা করে দেব।’ (মুসলিম, হাদিস : ৭৫৮)।

যদি সে শেষ রাতে দোয়া করে, তবে তার দোয়া কবুল হবে। যদি সে উঠে অজু করে নামাজ পড়ে, তবে তার নামাজ কবুল করা হবে। (বুখারী : ফাতহুল বারী : ১১৫৪। সহিহ ইবন মাজাহ্ : ২/৩৩৫)।

জুমার দিন: শুক্রবার দোয়া কবুলের দিন। জুমার দিন ইমাম খুতবা দেয়ার জন্য মিম্বরে বসা থেকে নিয়ে নামাজ আদায় পর্যন্ত সময়ে দোয়া কবুল হয়। এভাবে আসরের পর থেকে সূর্যাস্ত পর্যন্ত সময়টি গুরুত্বপূর্ণ। এ সময় দোয়া কবুল হয়। রাসুল (সা.) বলেন, ‘জুমার দিন এমন একটি মুহূর্ত আছে, যেই মুহূর্তে বান্দা যা প্রার্থনা করবে তিনি তাই দেবেন।’ (বুখারি, হাদিস : ৬৪০০, মুসলিম, হাদিস : ১৪০৭) ওলামায়ে কেরাম এ হাদিসের ব্যাখ্যায় বলেছেন, এই বিশেষ মুহূর্ত থেকে উপকৃত হতে মুমিন ব্যক্তির উচিত মাগরিবের আগে বেশি বেশি দোয়া ও ইস্তেগফার করা।

ফরজ নামাজের পর: আবু উমামা (রা.) থেকে বর্ণিত, একবার রাসুল (সা.) কে জিজ্ঞেস করা হলো, হে আল্লাহর রাসুল! কোন সময়ের দোয়া দ্রুত কবুল হয়? তিনি উত্তর দিলেন, রাতের শেষ সময়ে ও ফরজ নামাজের পর। (তিরমিজি, হাদিস : ৩৪৯৮)। বান্দা নামাজে সিজদা অবস্থায় স্বীয় প্রভুর সর্বাধিক নিকটবর্তী হয়। অতএব, তোমরা অধিক মাত্রায় (ওই অবস্থায়) দোয়া করো। (মুসলিম :৪৮২, নাসায়ী : ১১৩৭, আবু দাউদ : ৮৭৫, আহমাদ : ৯১৬৫)।

অন্য আরেকটি হাদীসে রাসূল (সা.) বলেছেন, রুকুতে তোমরা রবের বড়াই বর্ণনা কর (অর্থাৎ ‘সুবহানা রাবিবয়্যাল আযীম’ পড়)। আর সিজদায় দোয়া করতে সচেষ্ট হও। কারণ তোমাদের জন্য সে দোয়া কবুল হওয়ার উপযুক্ত। (মুসলিম ৪৭৯, নাসায়ী ১০৪৫, ১১২০, আবূ দাউদ ৮৭৬, ইবনু মাজাহ ৩৮৯৯, আহমাদ ১৯০৩, দারেমী ১৩২৫, ১৩২৬)

আজান-ইকামতের মধ্যবর্তী সময়ে: আজান-ইকামতের মধ্যবর্তী সময়ে দোয়া কবুল হয়। কেননা রাসুলু (সা.) বলেছেন, আজান ও ইকামতের মধ্যবর্তী দোয়া ফিরিয়ে দেয়া হয় না। (তিরমিজি, হাদিস : ২১২)

হজের মৌসুমে: হজের মৌসুম তথা জিলহজের প্রথম দশকে ও আরাফার দিবসে দোয়া কবুল হয়। কারণ আরাফা ও জিলহজের প্রথম দশকের মাহাত্ম্য ও শ্রেষ্ঠত্ব অনেক বেশি। রাসূল (সা.) বলেন, ‘জিলহজের এ দশকে সম্পাদিত আমল থেকে আল্লাহর কাছে উত্তম কোনো আমল নেই। সাহাবায়ে কেরাম প্রশ্ন করেন, তাহলে আল্লাহর রাস্তায় জিহাদও কি নয়? তিনি বলেন, না, আল্লাহর রাস্তায় জিহাদও নয়। তবে কোনো ব্যক্তি যদি জান-মাল নিয়ে আল্লাহর পথে বের হয় অতঃপর জিহাদের ময়দান থেকে কিছুই নিয়ে না ফিরে।’ (অর্থাৎ শহীদ হয়ে যায়, তাহলে সে ব্যক্তি ব্যতিক্রম) (মুসনাদে আবি ইয়ালা, হাদিস : ২০৯০)

অন্য আরেকটি হাদীসে রাসূল (সা.) বলেছেন, জিলহজ মাসের প্রথম দশদিন ছাড়া আর এমন কোনো দিন নেই, যে সময়ের সৎকাজ আল্লাহর কাছে তার চেয়ে বেশী প্রিয়। (সহীহ বুখারী ৯৬৯)

বৃষ্টির সময়ে দোয়া: রাসূল (সা.) বলেছেন, দু’টি বিষয় আছে এমন যেগুলো ফিরিয়ে দেয়া হয় না, আজানের সময় দোয়া ও বৃষ্টির সময়ে দোয়া। (আবু দাউদ, সহীহুল জামি : ৩০৭৮)।

যেকোনো প্রয়োজনে দোয়া ইউনুস: রাসুল (সা.) বলেছেন, যেকোনো প্রয়োজনে কোনো মুসলিম যদি দোয়া ইউনুস পড়ে আল্লাহর কাছে দোয়া করেন তার দোয়া কবুল হয়। (সুনানে আত-তিরমিযী, শায়খ আলবানী হাদীসটিকে সহীহ বলেছেন, সহীহুল জামিঃ ৩৩

আজানের সময়: আনাস (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসূল (সা.) বলেছেন, যখন মুয়াজ্জিন আজান দেয় আসমানের দরোজা খুলে যায় ও দোয়া কবুল হয়। (মাজমাউল জাওয়াদ :১৮৮৪)

যুদ্ধের সময়: রাসূল (সা.) বলেছেন, যখন যুদ্ধের জন্য মুজাহিদগণ শত্রুর মুখোমুখি হয় তখন দোয়া কবুল হয় (আবু দাউদ, সহীহুল জামি : ৩০৭৯)।

জমজমের পানি পান করার সময়: রাসূল (সা.) বলেছেন, জমজম পানি যে নিয়তে পান করবে তা পূরণ হবে। (ইবনে মাজহা : ৩০৫)

যে হবেন জান্নাতে সর্বশেষ প্রবেশকারী

⊡ রবিবার, ফেব্রুয়ারী ২৮, ২০২১

ইন্দোনেশিয়ায় রমজানের তারিখ ঘোষণা

⊡ শুক্রবার, ফেব্রুয়ারী ২৬, ২০২১

কাবা শরীফের গিলাফে ৬৭০ কেজি রেশম, ১২০ কেজি সোনা!

⊡ বৃহস্পতিবার, ফেব্রুয়ারী ২৫, ২০২১

ঘরে বসেই পুরো কুরআন মুখস্থ করল শিশু মুয়াজ

⊡ সোমবার, ফেব্রুয়ারী ২২, ২০২১