ঈদের আগে বসুন্ধরা সিটি খুলছে না

৪:১১ অপরাহ্ন | বুধবার, মে ৬, ২০২০ ফিচার

সময়ের কণ্ঠস্বর, ঢাকা- চারটি শর্ত মেনে আগামী ১০ মে থেকে দোকান ও শপিংমল সীমিত আকারে খুলে দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে সরকার। তবে করোনাভাইরাসের বিস্তার রোধে ঈদের কেনাকাটায় খুলবে না বসুন্ধরা সিটি শপিং কমপ্লেক্স। বসুন্ধরা গ্রুপের চেয়ারম্যান আহমেদ আকবর সোবহান এই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।

বিশেষজ্ঞরা ধারণা করছেন, ঈদ বাজারে শপিং মলে ভিড়ে ব্যাপকভাবে করোনাভাইরাস সংক্রমিত হতে পারে। এই আশঙ্কা থেকেই ঈদকে ঘিরে শপিং মল না খোলার নির্দেশ দিয়েছেন তিনি।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে বসুন্ধরা গ্রুপের গণমাধ্যম উপদেষ্টা মোহম্মদ আবু তৈয়ব গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন, ‘বসুন্ধরা গ্রুপের চেয়ারম্যান আহমেদ আকবর সোবহানের নির্দেশেই এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। বসুন্ধরা গ্রুপের এমন সিদ্ধান্তের সঙ্গে একমত পোষণ করে মার্কেটের ব্যবসায়ীরাও ঈদের সময় মার্কেট না খোলার পক্ষে অভিমত ব্যক্ত করেছেন। তাদের সঙ্গে আমাদের আলাপ-আলোচনা হয়েছে। বসুন্ধরা গ্রুপের সব সিদ্ধান্ত মেনেই ব্যবসা পরিচালনা করবেন, এমন শর্তেই চুক্তিবদ্ধ হয়েছেন তারা।’

ঈদের সময় বসুন্ধরা সুপার মল না খোলার সিদ্ধান্তে সরকারের কোনও আদেশ বা নির্দেশ অমান্য করা হবে না জানিয়ে মোহম্মদ আবু তৈয়ব জানান, ‘শুধু বাংলাদেশ নয়, এটি এই অঞ্চলের বৃহৎ শপিং মল। এখানে সীমিত পরিসরে ব্যবসা পরিচালনা করা বা দোকান খোলার কোনও সুযোগ নাই। ঈদের সময় এ মার্কেট খুললে প্রতিদিন কয়েক লাখ মানুষের সমাগম হবে। তা কোনওভাবেই রোধ করা যাবে না। আর এমনটি যদি হয়, তাহলে সেখানে স্বাস্থ্যঝুঁকি দেখা দেবেই। এতে কোনও সন্দেহ নাই। তাই সাধারণ মানুষের জীবনের কথা চিন্তা করেই বসুন্ধরা গ্রুপের চেয়ারম্যান এমন সিদ্ধান্ত দিয়েছেন।’

এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে বসুন্ধরা সুপার মার্কেটের ব্যবসায়ী ও চিতা ডিজাইনের পরিচালক আবদুল আলীম জানিয়েছেন, ‘ঈদের সময় মার্কেট যে খুলবে না তা আমরা এখনও জানি না। তবে সরকারি সিদ্ধান্ত অনুযায়ী আগামী ১০ মে রবিবার থেকে মার্কেট খুলছে জেনে আমরা মোটামুটি প্রস্তুতি নিচ্ছিলাম। তবে মার্কেট খোলা না খোলার বিষয়টি নির্ভর করছে মালিক সমিতির সিদ্ধান্তের ওপর। সমিতি যে সিদ্ধান্ত দেবে আমরা সেই সিদ্ধান্তই মেনে নেবো।’

বসুন্ধরা সিটির দোকান মালিক সমিতির সভাপতি এম এ হান্নান আজাদ বলেন, ‘করোনাভাইরাস ছড়িয়ে পড়া ঠেকাতে বসুন্ধরা সিটি কর্তৃপক্ষ ও দোকান মালিক সমিতি যৌথভাবে আমরা এ সিদ্ধান্ত নিয়েছি। ঈদের আগে বসুন্ধরা সিটি খুলছে না।’

করোনাভাইরাসের কারণে গত ২৬ মার্চ থেকে শুরু হওয়া সাধারণ ছুটিতে দোকানপাট ও বিপণিবিতান বন্ধ রয়েছে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা গত সোমবার ঈদের কেনাকাটার জন্য স্বাস্থ্যবিধি মেনে সীমিতভাবে দোকানপাট খোলা হবে বলে জানান।

এরপর ১০ মে থেকে বিপণিবিতান খুলে দেওয়ার আনুষ্ঠানিক নির্দেশনা দেওয়া হয়। এ নিয়ে বিতর্কও হচ্ছিল।

এম এ হান্নান আজাদ জানান, বসুন্ধরা সিটিতে ১ হাজার ৬০০ দোকান ব্যবসায় সক্রিয় রয়েছে। এসব দোকানের সঙ্গে ২৫ হাজার মালিক ও কর্মচারী যুক্ত, যাঁরা প্রতিদিন বসুন্ধরায় প্রবেশ করেন। এ ছাড়া রোজায় দৈনিক কয়েক লাখ লোক কেনাকাটা করতে বসুন্ধরায় যান।

উল্লেখ্য, সোমবার (৪ মে) মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, বাণিজ্য মন্ত্রণালয়, বিভাগীয় কমিশনার ও জেলা প্রশাসকদের কাছে পাঠানো চিঠি দিয়ে করোনাভাইরাস সংক্রমণ পরিস্থিতির মধ্যে স্বাস্থ্যবিধি মেনে সীমিত পরিসরে দোকান ও শপিংমল আগামী ১০ মে থেকে খোলার কথা জানায়। তবে তা বিকেল ৪টার মধ্যে বন্ধ করার কথা বলা হয়।

এতে বলা হয়, কোভিড-১৯ রোগের বিস্তাররোধ এবং পরিস্থিতির উন্নয়নের লক্ষ্যে সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনায় সরকার আগামী ৭ থেকে ১৬ মে পর্যন্ত সাধারণ ছুটি/জনসাধারণের চলাচলে নিষেধাজ্ঞা/সীমিত করার বিষয়ে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে। এই পরিপ্রেক্ষিতে শর্তাদি বিবেচনা করে বিভিন্ন জেলা ও উপজেলায় অভ্যন্তরীণভাবে ব্যবসা-বাণিজ্য, দোকানপাট, শপিংমলসহ অন্যান্য কার্যাবলি ১০ মে থেকে সীমিত আকারে খুলে দেয়ার ব্যবস্থার অনুরোধ জানানো হলো। তবে এ ক্ষেত্রে আন্তঃজেলা ও আন্তঃউপজেলা যোগাযোগ/চলাচল কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রণ করতে হবে।