ভারতে করোনা আক্রান্তের সংখ্যা ৫০ হাজার ছাড়াল

১১:৩১ অপরাহ্ন | বুধবার, মে ৬, ২০২০ আন্তর্জাতিক
indian-cov

আন্তর্জাতিক ডেস্কঃ প্রথম শনাক্তের চার মাস পরে ভারতে করোনাভাইরাসে আক্রান্তের সংখ্যা ৫০ হাজার ছাড়িয়েছে। এর মধ্যে গত ৩ দিনেই ১০ হাজার জন শনাক্ত হয়।

বুধবার রাতে আন্তর্জাতিক জরিপ সংস্থা ওয়ার্ল্ডও মিটারসের তথ্যে দেখা যায়, ভারতে এখন পর্যন্ত মোট আক্রান্তের সংখ্যা ৫২ হাজার ৩৪০ জন। আর এতে আক্রান্ত হয়ে এ পর্যন্ত মারা গেছেন ১৭৬৮ জন। আর সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরে গেছেন ১৪ হাজার ৯৯১ জন।

শুধুমাত্র মহারাষ্ট্রেই করোনা রোগী শনাক্ত হয়েছেন ১৬ হাজার ৭৫৮ জন; যার মধ্যে বুধবারই শনাক্ত হয়েছেন এক হাজার ২৩৩ জন। ভারতের বাণিজ্যিক রাজধানীখ্যাত মহারাষ্ট্রের মুম্বাইয়ে পাওয়া গেছে ১০ হাজার ৭১৪ রােগী।

দেশটিতে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ সংক্রমণ ঘটেছে গুজরাটে; এই প্রদেশে সংক্রমিত হয়েছেন ৬ হাজার ২০০ জনের বেশি। এরপরই আছে রাজধানী নয়াদিল্লি; সেখানে আক্রান্ত হয়েছেন ৫ হাজারের বেশি। সংক্রমণে দিল্লির পর আছে তামিলনাডু; দেশটির দক্ষিণাঞ্চলীয় এই প্রদেশে করোনা আক্রান্ত হয়েছেন ৪ হাজারের বশি মানুষ।

চীনের হুবেই প্রদেশের উহানে গত বছরের ডিসেম্বর প্রাণঘাতী এই ভাইরাসের উৎপত্তি হওয়ার পর ছড়িয়েছে দুই শতাধিক দেশে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা এই ভাইরাস সংক্রমণ বাড়তে থাকতে থাকায় মার্চে মহামারি ঘোষণা করে।

ভারতে প্রথম করোনা রোগী শনাক্ত হয় ৩০ জানুয়ারি; এই রোগী পাওয়া যায় কেরালা প্রদেশে। ভারতের প্রথম এই রোগী চীনের উহানের একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী। দেশে ফেরার পর করোনায় আক্রান্ত হন তিনি।

মার্চে দেশটিতে করোনায় সংক্রমণ লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়তে থাকে। পরে ২৫ মার্চ দেশটির প্রধানমন্ত্রী করোনার বিস্তার নিয়ন্ত্রণে দেশজুড়ে লকডাউন জারি করেন; যা এখন পর্যন্ত দুই দফায় বৃদ্ধি করা হয়েছে। আগামী ১৭ মে লকডাউনের মেয়াদ শেষ হবে; তার আগেই সোমবার থেকে দেশটির কম সংক্রমিত এবং যেসব এলাকায় সংক্রমণ নেই সেসব এলাকায় লকডাউন শিথিল করা হয়েছে।

করোনা পরিস্থিতি নিয়ে মহারাষ্ট্রের ধরাবির বাঙালি বাসিন্দা আহমেদ হাসান ইমরান আজ (বুধবার) রেডিও তেহরানকে বলেন, এখানেই এশিয়ার বৃহত্তম বস্তি এবং বেশিরভাগ লোকজন দরিদ্র হওয়ায় সমস্যা প্রকট হয়েছে। অনেক মানুষের বাসায় নিজস্ব পায়খানা, বাথরুম নেই। তাদের সরকারি বাথরুমে যেতে হয় যেখানে ঠিকমত পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখা সম্ভব হয় না। ফলে এখানে সংক্রমণের হার বেশি।

তিনি আরও বলেন, বর্তমান লকডাউন পরিস্থিতিতে বহু মানুষ কাজ হারিয়ে বেকার হয়ে পড়েছেন। বিভিন্ন রাজ্যের বাসিন্দারা এখানে সেলাই কাজ থেকে শুরু করে নানারকম কাজ করেন। ভাড়া বাড়িতে থাকেন। কিন্তু কাজকর্ম সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় তারা অর্থনৈতিকভাবে গভীর সঙ্কটের মধ্যে পড়েছেন।

সূত্র : এনডিটিভি