একের পর এক ধর্ষণ, বাক্সের মধ্যে লুকিয়েও রক্ষা হলো না ধর্ষকের!

১২:১৭ পূর্বাহ্ন | বৃহস্পতিবার, মে ৭, ২০২০ অপরাধ
raj

তানোর (রাজশাহী) সংবাদদাতা: তুমুল বৃষ্টি। বইছিল ঝড়ো বাতাস। এর ভেতরেই এক নারীর ঘরে ঢুকে তাকে ধর্ষণ করেন হাসান আলী (২৮) নামে এক সিরিয়াল ধর্ষক। ধর্ষণের পর ঘটনাটি জানাজানি হলে তিনি এক আত্মীয়ের বাড়িতে গিয়ে বড় বাক্সের ভেতর লুকান। তবে তাতেও শেষ রক্ষা হয়নি। বাক্সের ভেতর থেকেই তাকে ধরে এনেছে পুলিশ।

ঘটনাটি ঘটেছে রাজশাহীর তানোর উপজেলায়। অভিযুক্ত ব্যক্তির বাড়ি উপজেলার নড়িয়াল গ্রামে। তার বাবার নাম নূর নবী। অভিযোগ রয়েছে, এর আগেও কয়েকজন নারীকে ধর্ষণ করেছেন হাসান। একবার তো এক নারী ধর্ষণের সময় তার গোপনাঙ্গে ব্লেড চালিয়েছিলেন। চিকিৎসার মাধ্যমে পরে সুস্থ হয়েছেন তিনি।

তানোর থানা পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, এবার হাসান আলীর হালসার শিকার হয়েছেন এক সন্তানের মা। তার স্বামী ইটভাটার শ্রমিক। দুই মাস ধরে আছেন সিরাজগঞ্জে। মঙ্গলবার বেলা আড়াইটার দিকে প্রচন্ড ঝড় ও বৃষ্টির সময় বাড়িতে একাই ছিলেন ওই গৃহবধূ। এ সুযোগে বাড়িতে ঢুকে তাকে ধর্ষণ করেন হাসান। ঝড় ও বৃষ্টির কারণে কেউ ওই নারীর চিৎকার শুনতে পাননি। ধর্ষণের পর হাসান পালিয়ে যান।

পরে ওই গৃহবধূ বিষয়টি গ্রামবাসীকে জানান। খবর পেয়ে পুরো গ্রামের লোক খুঁজতে থাকেন হাসানকে। পরে বিষয়টি জানানো হয় ৯৯৯ নম্বরে। পুলিশ আসে। এরপর হাসানের এক আত্মীয়ের বাড়ির একটি বাক্সের ভেতর থেকে তাকে আটক করা হয়। এরপর ওই নারী তার বিরুদ্ধে মামলা করেন।

এলাকাবাসী জানিয়েছেন, প্রায় ৮মাস আগে একই গ্রামের আরেক গৃহবধূকে ধর্ষণের চেষ্টা চালালে হাসানের গোপনাঙ্গে ব্লেড চালান তিনি। এর আগে গ্রামের আরও চার গৃহবধূ তার লালশার শিকার হয়েছেন। কিন্তু গ্রামের প্রভাবশালীদের ছত্রছায়ায় ঘটনাগুলো ধামাচাপা পড়েছে। হাসানের কারণে গ্রামের আরও দুই নারীর সংসার ভেঙ্গেছে।
মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা তানোর মুÐুমালা পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের ইনচার্জ সাইফুল ইসলাম বলেন, ঘটনার পর লুকিয়ে থাকা বাড়িটি গ্রামবাসী ঘিরে রেখেছিলেন। পরে সে বাড়ির একটি বাক্সের ভেতর থেকে আটক করা হয়।

তানোর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রাকিবুল হাসান বলেন, এ ঘটনায় গৃহবধূ থানায় ধর্ষণের মামলা করেছেন। এ মামলায় হাসানকে গ্রেফতার দেখিয়ে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। আর রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ওই গৃহবধূর শারীরিক পরীক্ষা করা হয়েছে।