ডাস্টবিনের আবর্জনা খেয়ে দিন কাটাচ্ছেন মানসিক ভারসাম্যহীনরা!

১২:২৩ পূর্বাহ্ন | বৃহস্পতিবার, মে ৭, ২০২০ ফিচার
hobis

মঈনুল হাসান রতন, হবিগঞ্জ প্রতিনিধিঃ করোনা পরিস্থিতিতে উন্নত দেশগুলোতে মৃত্যুর মিছিল, বাংলাদেশেও বাড়ছে আক্রান্তদের সংখ্যা। টানা লকডাউনে বিপাকে আছেন হতদরিদ্র পরিবারের মানুষজন। এদের সাথে আরও বিপাকে পড়েছেন শায়েস্তাগঞ্জ এলাকার মানসিক ভারসাম্যহীনরা। তাই ডাস্টবিনের ময়লা আবর্জনা থেকে খাবার খোঁজে তা খেয়ে দিনযাপন করছেন তারা।

সরজমিনে দেখা যায়, অনেকেই ডাস্টবিনের ময়লা আবর্জনা গিয়ে খাবার খোঁজেন। সেখানে কোনো উচ্ছিষ্ট খাবার থাকলে তা তুলে খেয়ে দিনযাপন করছেন। ব্যস্ততম সড়কে নেই যানচলাচল, নেই মানুষের কোলাহল, প্রতিদিনের ভিক্ষার টাকা ও কপালে জুটেনা এখন মানুষিক ভারসাম্যহীন মানুষদের। ফলে শায়েস্তাগঞ্জের দাউদনগর বাজারে এক মানুষিক ভারসাম্যহীন মেয়ে পেটের ক্ষুধা নিবারণ করার জন্য ডাস্টবিনের ময়লা খেতে দেখা যায়। এভাবে উপজেলার বিভিন্ন স্থানে এরকম চিত্র চোখে পড়ে হরহামেশা।

এই মানুষগুলোর সরকারি ত্রাণ জুটে না কপালে, কারণ তারা লাইনে দাঁড়াতে পারেন না। আবার রান্না করে ও খাওয়ার মত সুস্থ মস্তিষ্ক নেই তাদের। দেশের স্বাভাবিক অবস্থায় তাদেরকে বিভিন্ন হোটেল, দোকান থেকে অবশিষ্ট খাবার দেয়া হত। এখন হোটেলগুলো বন্ধ থাকায় তাদের অনাহারেই দিন কাটাতে হচ্ছে।

এ বিষয়ে শায়েস্তাগঞ্জ উপজেলার ক্রীড়া সংগঠক ও তরুণ লেখক আনম আজমল আলী শিহাব জানান, অনেকেই ব্যক্তিগত উদ্যোগে মাঝে মাঝে এদের মুখে খাবার দেন, কিন্তু সবসময় তো আর সবাই দিতে পারেন না। সবাইকে এই চলমান সংকটে এদের পাশে এসে দাঁড়ানো উচিত।

এ ব্যাপারে শায়েস্তাগঞ্জ জেনন ফ্রেন্ডসের সদস্য শেখ ই আর ইকবাল বলেন, লকডাউন শুরু হওয়ার পর থেকে মানসিক ভারসাম্যহীনরা মারাত্মক বেকায়দায় পড়েছে। তারা কোথাও খাবার পাচ্ছে না। এসব দেখে আমি টানা এক সপ্তাহ নিজে রান্না করে তাদের মুখে খাবার তুলে দিয়েছি। আমার মতো আরও কয়েকজন এগিয়ে এলে তাদের কে না খেয়ে থাকতে হতো না।

এ বিষয়ে শায়েস্তাগঞ্জ উপজেলার ভাইস চেয়ারম্যান গাজীউর রহমান ইমরান বলেন, মানুষিক ভারসাম্যহীনদের মুখে খাবার তুলে দিতে হবে। যেহেতু সরকারিভাবে তাদের ত্রাণ দেয়া যাচ্ছে না, তাই ব্যক্তিগতভাবে তাদের কে সহযোগিতা করবো।