বনবিভাগের ট্রলারেই সুন্দরবনের গাছ কেটে পাচারের অভিযোগ

৩:৩৪ অপরাহ্ন | বৃহস্পতিবার, মে ৭, ২০২০ খুলনা, দেশের খবর

মনিরুল ইসরাম দুলু, মংলা প্রতিনিধি- করোনা পরিস্থিথির মধ্যে সুন্দরবন থেকে দিনে দুপুরে গাছ পাচারের অভিযোগ উঠেছে পূর্ব সুন্দরবনের ঢাংমারী ষ্টেশন কর্মকর্তা আনোয়ার হোসেনের বিরুদ্ধে।

এই কর্মকর্তা দাবি পাচার নয়, অফিসের কাজের জন্য গাছ কেটে আনা হয়েছে। তবে উদ্ধতন কর্মকর্তা জানান, এমনভাবে গাছ কেটে আনার কোন সুযোগ নেই বন আইনে।

জানা গেছে, মাত্র দেড় মাস আগে পূর্ব সুন্দরবনের ঢাংমারী ষ্টেশন কর্মকর্তা হিসেবে যোগদান করেন মোঃ আনোয়ার হোসেন। এরপরই তার বিরুদ্ধে একে একে সুন্দরবনের বনের গাছ, মাছ, হরিণ পাচার আর নিরিহ মানুষদের ফাঁসিয়ে অর্থ হাতিয়ের নেয়ার অভিযোগ উঠে।

সূত্র জানায়, এসব অপকর্ম চালিয়ে যেতে এ বন কর্মকর্তা ইতিমধ্যে গড়ে তুলেছেন একটি সিন্ডিকেট চক্রও। অসাধু ওই কর্মকর্তার নেতৃত্বে সিন্ডিকেট চক্রের রোষানলে পড়ে অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছে বন সংলগ্ন স্থানীয় বাসিন্ধারা।

ঢাংমারী ষ্টেশন সংলগ্ন ভোজনখালী গ্রামের বাসিন্দা মুক্তিযোদ্ধা মুজিবর রহমান, সাবেক ইউপি মেম্বর মোঃ আফসার আলী ও সঞ্জয় কুমার বর্মন অভিযোগ করে বলেন, ঢাংমারী ষ্টেশন অফিসার আনোয়ার হোসেন এবং ঘাগরামারীর ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আব্দুর রউফ তাদের লোক (দালাল) দিয়ে সুন্দরবন থেকে প্রতিনিয়তই কর্তন নিষিদ্ধ সুন্দরী, কাকড়া ও বাইনসহ বিভিন্ন প্রজাতির মূল্যবান গাছ, হরিনের মাংস ও নদী থেকে মাছ ধরিয়ে পাচার করে থাকেন।

যারা এসব অপকর্মের প্রতিবাদ করে তাদের বিরুদ্ধে হরিণ পাচারের মিথ্যা মামলা দিয়ে ফাঁসিয়ে দেন বলেও অভিযোগ ওই গ্রামবাসীর। এই দুই কর্তার সকল অনিয়মে সহযোগী হিসেবে কাজ করছেন ভোজনখালী গ্রামের বাসিন্দা বাদল ও রহিম এর সম্মন্নয়ে একটি সিন্ডিকেট চক্র। বনকর্তা আনোয়ার ও রউফের সহযোগী বাদল এবং রহিমের অত্যাচারে অতিষ্ট গ্রামের সাধারণ খেটে খাওয়া অনেক মানুষ।

বুধবার (০৫ মে) দুপুরে ঢাংমারী আর ঘাগরামারী দুই ষ্টেশনের মাঝামাঝি এলাকার নদীতে বন বিভাগের পতাকা লাগিয়ে একটি ট্রলারে সুন্দরী আর কাকড়া গাছ নিয়ে যাচ্ছেন কয়েকজন পেশাদার গাছপাচার। তাদের কাছে জানতে চাওয়া হলে ট্রলার থাকা ব্যক্তিরা বলেন, এ গাছ ষ্টেশন অফিসার আনোয়ার সাহেব ঘাগরামারী থেকে কেটে আনার অনুমতি দিয়েছেন তাদের। তবে এসময় বনবিভাগের পতাকাবাহী ট্রলারে গাছ নেয়ার সময় ছিলনা কোনও বনরক্ষী, ছিল তিনজন পাচারকারী।

এ বিষয়ে ঢাংমারী ষ্টেশনের ষ্টেশন অফিসার (এসও) মোঃ আনোয়ার হোসেন খাঁন দাবী করে বলেন, ঘাগরামারী টহল ফাঁড়ি থেকে এ গাছ আমাদের ষ্টেশনের (ঢাংমারী) স্থাপনা তৈরীর কাজে আনা হচ্ছিল। এ ব্যাপারে তাদের উর্দ্ধতন কর্মকর্তার নির্দেশনা রয়েছে।

তবে বনবিভাগের খুলনাঞ্চল’র বন সংরক্ষক (সিএফ) মোঃ মঈন খাঁন বলেন, সুন্দরবন থেকে সদ্য গাছ কেটে ষ্টেশনের কোন স্থাপনা তৈরী করার কোন সুযোগ নেই। দীর্ঘদিনের জব্দকৃত গাছ দিয়ে এসব স্থাপনা করতে গেলেও সংশ্লিষ্ট মন্ত্রনালয়ের অনুমতির প্রয়োজন। কোন কর্মকর্তা বনের গাছ কেটে থাকলে তার বিরুদ্ধে তদন্ত করে আইনী ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও জানান তিনি।