• আজ বৃহস্পতিবার, ১২ কার্তিক, ১৪২৮ ৷ ২৮ অক্টোবর, ২০২১ ৷

‘করোনার কারণে একাধিক দুর্ভিক্ষ সৃষ্টি হতে পারে’- জাতিসংঘ

jati
❏ বৃহস্পতিবার, মে ৭, ২০২০ আন্তর্জাতিক

আন্তর্জাতিক ডেস্কঃ করোনাভাইরাস মহামারীর কারণে বিশ্বে একাধিক দুর্ভিক্ষ দেখা দিতে পারে বলে সতর্কবার্তা দিয়েছেন জাতিসংঘের মানবাধিকার বিষয়ক আন্ডার সেক্রেটারি জেনারেল। লাখ লাখ মানুষের জীবন রক্ষা ও ভঙ্গুর দেশগুলোতে করোনাভাইরাসের বিস্তার নিয়ন্ত্রণে আরো ৪.৭ বিলিয়ন মার্কিন ডলার তহবিলের আবেদন জানিয়েছে জাতিসংঘ।

এর আগে মার্চে বৈশ্বিক মানবিক প্রতিক্রিয়া পরিকল্পনা করার সময়ে জাতিসংঘ ২ বিলিয়ন ডলারের অনুরোধ জানিয়েছিলো। যার অর্ধেকটা পাওয়া গেছিল। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য গার্ডিয়ান এ খবর জানিয়েছে।

এ সময় মার্ক লোকক বলেন, মহামারীতে বিশ্বের দরিদ্র দেশগুলো সবচেয়ে বেশি ক্ষতির মুখে পড়বে। আমরা যদি এখনই পদক্ষেপ না নেই তাহলে আমাদের বড় ধরনের সংঘাত, ক্ষুধা ও দরিদ্র বৃদ্ধির জন্য প্রস্তুত থাকতে হবে। একাধিক দুর্ভিক্ষের অপচ্ছায়া তাঁতিয়ে উঠছে।

জাতিসংঘের তহবিল থেকে ৫০টিরও বেশি ঝুঁকিপূর্ণ দেশ চিকিৎসা সরঞ্জাম, পরীক্ষার কিট ও অসুস্থদের সহযোগিতা এবং হাত ধোয়ার কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে। এর আগে মার্চ মাসে জাতিসংঘ প্রাথমিকভাবে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনার জন্য ২০০ কোটি ডলার তহবিল আহ্বান করেছিল। এর মধ্যে সংস্থাটি ৯০ কোটি ডলার সংগ্রহ করেছে।

জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদকে তিনি বলেন, কোভিড-১৯ মহামারী মোকাবিলার সময় আমরা দুর্ভিক্ষ মহামারীর কিনারায় রয়েছে। ভাইরাসের চেয়ে কোভিড-১৯ এর অর্থনৈতিক প্রভাবে আরও বেশি মানুষের মৃত্যু হওয়ার মতো বিপজ্জনক পরিস্থিতি সৃষ্টি হতে পারে।

মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএন’র এক প্রতিবেদন অনুসারে, বিশ্ব খাদ্য সংস্থা আশঙ্কা করছে, মহামারি বিশ্বের ১৩০ মিলিয়ন মানুষকে অভুক্তের দিকে ঠেলে দেবে। আগামী কয়েক মাসের মধ্যে একাধিক দুর্ভিক্ষ দেখা দিতে পারে। সংস্থাটির নির্বাহী পরিচালক ডেভিড বিসলি মঙ্গলবার বলেছেন, সবচেয়ে খারাপ পরিস্থিতি তৈরি হলে প্রায় ৩৬টি দেশে দুর্ভিক্ষ দেখা দিতে পারে। এই দেশগুলোর মধ্যে অন্তত দশটিতে এখনই ১০ লাখের বেশি মানুষের অনাহারে দিন কাটাচ্ছেন।

উল্লেখ্য গত বছরের ডিসেম্বরে চীনের উহান শহর থেকে ছড়িয়ে পরে করোনাভাইরাস। পরে বিশ্বব্যাপী তা মহামারী রূপ ধারণ করে। এ পর্যন্ত সারাবিশ্বে ৩৮ লাখ ২২ হাজার মানুষ ভাইরাসটিতে আক্রান্ত হয়েছেন। মারা গেছেন ২ লাখ ৬৫ হাজার মানুষ। আর চিকিৎসা শেষে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন প্রায় ১৩ লাখের বেশি মানুষ।