সংবাদ শিরোনাম

সিরিয়ার প্রেসিডেন্ট বাশার আল-আসাদ সস্ত্রীক করোনায় আক্রান্তরোহিঙ্গা শিশু অপহরণের পর হত্যার ঘটনায় নারীসহ দু’জন গ্রেপ্তারবেলকুচিতে দূর্বৃত্তদের আগুনে পুড়ে গেল শিক্ষা প্রতিষ্ঠান !জামালপুরে মাদ্রাসা ছাত্রীকে রাতভর ধর্ষণ, গ্রেফতার মাদ্রাসার শিক্ষক‘করোনাকালের নারী নেতৃত্ব: গড়বে নতুন সমতার বিশ্ব’বগুড়ায় শিক্ষা প্রনোদনা পেতে প্রত্যয়নের নামে টাকা নেয়ার অভিযোগজামালপুরে ধর্ষণ মামলায় ধর্ষকের যাবজ্জীবনপাবনায় অবৈধ অস্ত্র তৈরির কারখানায় অভিযান, চারটি আগ্নেয়াস্ত্রসহ গ্রেফতার-২উপজেলা আ.লীগের সভাপতিকে ‘পেটালেন’ কাদের মির্জা!কে কত বড় নেতা, সবাইকে আমি চিনি: কাদের মির্জা

  • আজ ২৪শে ফাল্গুন, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ

সাটুরিয়ায় পানির দরে বিক্রি হচ্ছে দুধ, ক্ষতির মুখে খামারীরা

১২:৪৫ পূর্বাহ্ন | শুক্রবার, মে ৮, ২০২০ ঢাকা
dhd

দেওয়ান আবুল বাশার, স্টাফ রিপোর্টার: করোনা ভাইরাসের কারণে ব্যাপক ক্ষতির মধ্যে পড়েছে মানিকগঞ্জের সাটুরিয়া উপজেলার দুধের খামারিরা। যেখানে এক লিটার পানি বিক্রি হয় ৩০ টাকায় সেখানে খামারিরা এখন প্রতি লিটার দুধ বিক্রি করছে মাত্র ২০ থেকে ২৫ টাকায়। অথচ প্রতি লিটার দুধ উৎপাদনে খামারিদের খরচ পড়ছে ৪৫ থেকে ৪৭টাকা। বর্তমানে দেশের সব মিষ্টিজাতীয় দোকান বন্ধ হয়ে যাওয়ায় প্রান্তিক পর্যায়ের খামারিরা দুধ বিক্রিতে বেশ অসুবিধার সম্মুখীন হচ্ছেন। বাধ্য হয়ে পানির দরে দুধ বিক্রি করতে হচ্ছে তাঁদের।

প্রতিদিন ৫০ লিটারের বেশি দুধ হয় এমন একটি খামারের মালিক গোপালপুর গ্রামের মোঃ জসিম উদ্দিন জানালেন, এখন তাঁর দৈনিক ক্ষতি প্রায় দেড় হাজার টাকা। এই পরিস্থিতিতে এখানকার দুধ উৎপাদনকারীরা বাস্তবিকই চোখে সরষে ফুল দেখছেন। সরবরাহ কম, অন্যদিকে বেড়ে চলেছে গরুর খাদ্যের দাম। তার ওপর নেই দুধের দাম, সব মিলিয়ে উপজেলার ডেইরি খামারিরা চরম বিপাকে পড়েছেন। পরিস্থিতির শিকার হয়ে ছোট ছোট খামারিরা এখন গরুকে খাবার কমিয়ে অর্ধেক করে দিচ্ছেন।

খামারীরা বলছেন, গো-খাদ্যের চড়া দামের মধ্যে সরবরাহও কমে চলেছে। করোনা ভাইরাসের কারণে অঘোষিত লকডাউনের ফলে গো-খাদ্যবাহী ট্রাক বা অন্য যানবাহন চলাচল করতে পারছে না। গরুর খাদ্যবোঝাই ট্রাক দেখেও আটকে দেয়া হচ্ছে। এক্ষেত্রে কড়াকড়ি কিছুটা শিথিল না করলে খামারিদের টিকে থাকা কঠিন হয়ে দাঁড়াবে বলে জানিয়েছে তারা।

গোপালপুর এলকার হাফেজ মোশাররফ, আবুল হোসেন, রৌহা এলাকার নাসির, অপু, নাঈম, বেংরোয়ার রবিন, হানিফ রবিউল, তেবারিয়া এলাকার মিজান সহ মধ্যে আয়ের খামারিরা জানালেন, বিভিন্ন শহরে দুধের দাম ৭০ থেকে ৮০ টাকা লিটার হলেও তারা দাম পান অর্ধেকেরও কম। দুধ বিক্রি করে শুধু গরুর খাবারের দামটাই ওঠে এতে লাভ হয়না। বছরশেষে গরুর বাছুরটা বিক্রি হয় সেটাই মূলত লাভ। এর মধ্যে করোনাভাইরাস পরিস্থিতি খামারিদের আরও বিপাকে ফেলেছে। এখন দুধ এলাকাভেদে প্রতি লিটার ২০ থেকে ২৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

খামারীরা বলছেন, গো-খাদ্যের দাম প্রতিদিনই বাড়ছে। এদিকে সরকারের নজর দেয়া উচিৎ। গো-খাদ্য পরিবহনের ট্রাকগুলো আসতে পারলেও সংকট কিছুটা কমবে বলে আশা করছে তার।

উত্তর রৌহা এলাকার বুলবুল আহমেদ বলেন, ভূষির দাম দিন দিন রেড়ে ৩৫ টাকা কেজি হতে ৪২ টাকা পর্যন্ত ক্রয় করতে হচ্ছে। কিন্তু দুধের দাম দিন দিন কমে যাচ্ছে। অনেকেই ঋণ নিয়ে গড়ে তুলেছেন দুগ্ধ খামার। সেই ঋণ এখন খামারিদের মাথার বোঝা হয়ে দাঁড়াচ্ছে। দুধ বিক্রিতে লোকসানের মুখে দিশেহারা হয়ে পড়েছেন উপজেলার ছোট-বড় এসব খামারিরা।

এ বিষয়ে উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. মো. মনির হোসেন বলেন, কাঁচা ঘাস থাকলে গাভীর জন্য ভুষি বা দানাদার খাবারের কোনো প্রয়োজন হয় না। কাঁচা ঘাসেও দুধের ঘনত্ব বাড়ে। এখন আমাদের জন্য সবচেয়ে বড় সমস্যা হচ্ছে লকডাউন। কেউ কোথাও মুভ করতে পারছে না। উৎপাদনের তুলনায় চাহিদা কম হওয়ায় এ সমস্যা তৈরি হয়েছে, সামনে খামারিদের জন্য ভালো কিছু করতে পারবেন বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি।