• আজ ১২ই ফাল্গুন, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ

করোনাঃ যুক্তরাষ্ট্রে চাকরি হারালেন ৩ কোটি ৩৩ লাখ মানুষ

NY-LABOR-2

আন্তর্জাতিক ডেস্কঃ করোনা মহামারীতে সবচেয়ে বেশি আক্রান্ত ও প্রাণহানি ঘটেছে যুক্তরাষ্ট্রে। প্রাণঘাতী এই ভাইরাসের কারণে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে মানুষের জীবনযাপন। লকডাউনের কারণে বন্ধ হয়ে গেছে কাজকর্ম, ব্যবসাবাণিজ্য। এতে দেশটিতে এখন বেকার হয়ে পড়েছেন প্রায় সাড়ে ৩ কোটি মানুষ।

বর্তমানে দেশটির কর্মক্ষম গোষ্ঠীর ২০ শতাংশ মানুষই বেকার হয়ে পড়েছেন। দেশটির শ্রম অধিদপ্তর জানিয়েছে, মার্চ থেকেই প্রতি সপ্তাহে বেকার হচ্ছেন প্রায় ৬০ থেকে ৭০ লাখ মানুষ। গত এক সপ্তাহেই বেকার সুবিধার আবেদন পড়েছে ৩২ লাখ। আবেদনকারীদের বেশির ভাগই নারী।

যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক অলাভজনক জার্নালিম অর্গানাইজেশন ফুলার প্রজেক্টে জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের ১৭ রাজ্যে চাকরি হারানো প্রতি তিনজনের মধ্যে দুইজনই নারী।

শ্রম মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, মার্চের শেষ সপ্তাহ পর্যন্ত দেশে বেকার ছিলেন ৬৯ লাখ মানুষ। করোনার প্রাদুর্ভাব শুরুর পরই অর্থাৎ গত ছয় সপ্তাহে বেকার হয়েছেন ৩ কোটিরও বেশি। সব মিলিয়ে এখন বেকার সুবিধা পাওয়ার আবেদন দাঁড়িয়েছে ৩ কোটি ৩৩ লাখে।

৩৭ বছর বয়সী ক্লওডিয়া, পূর্ণকালীন কর্মজীবী থেকে বেকার হয়েছেন মার্চেই। সে সময় থেকে এখন পর্যন্ত চেষ্টা করে যাচ্ছেন নিজের বেকার ভাতা নিশ্চিতের। আবেদন করছেন অনলাইনে, চেষ্টা করছেন ফোনে কথা বলার। কিন্তু কোনোভাবেই বেকারভাতা এজেন্সি পর্যন্ত পৌঁছাচ্ছে না তার আবেদন। দুই সপ্তাহ পর আবেদন গ্রহণ করা হলেও এখনো পাননি কোনো ভাতাই। করোনাভাইরাসের লকডাউনে তার মতো বেহাল দশায় আছেন লাখ লাখ মানুষ।

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যাপিটাল ইকনোমিকমের প্রধান অর্থনীতিবিদ পল অ্যাসওয়ার্থ বলেন, দেশটির কিছু অংশ চালু হতে শুরু করলেও সুবিধা ভোগীর সংখ্যা বাড়ছেই। এর মানে খুব কম সংখ্যক মানুষই কাজে ফিরছে। এতে হতাশাও বাড়বে।

ভ্রমণ বন্ধ থাকায় উবার, লিফট ও এয়ারবিএনবির মতো প্রতিষ্ঠানগুলো কয়েক সপ্তাহ আগে থেকেই কর্মী ছাটাই করছে। মেডিকেল, রেস্তোরাঁ ও প্রশাসনিক কার্যক্রম বন্ধ থাকায় এর প্রভাব পড়েছে অর্থনীতিতে।

অর্থনীতিবিদরা মনে করেন, এপ্রিলের তুলনায় বেকারত্ব ১৫ শতাংশ বা এর চেয়ে বেশি বাড়তে পারে। দুই মাস আগে বেকারত্বের হার ছিলো ৩.৫ শতাংশ; যা গত ৫০ বছরের মধ্যে সর্ব নিম্ন।

২০০৮ সালে বৈশ্বিক মন্দার সময় যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনীতিতেও সংকট তৈরি হয়েছিলো। এখন করোনা আঘাত হানার পর তার চেয়েও চেয়ে বাজে অবস্থা বিরাজ করছে যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনীতিতে।

প্রিন্সটন বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক সমাজ বিজ্ঞানী ম্যাথিউ ডেসমন্ড বলেন, এভাবে চলতে থাকলে স্বাস্থ্য সমস্যা গৃহহীন সমস্যায় পরিণত হবে। তবে অর্থনীতিবিদরা মনে করেন, ব্যবসা বাণিজ্য শুরু হলে ধীরে ধীরে অর্থ সংকট কেটে যাবে।

উল্লেখ্য, যুক্তরাষ্ট্রে করোনায় এ পর্যন্ত আক্রান্ত হয়েছেন প্রায় ১৩ লাখ মানুষ আর প্রাণ হারিয়েছেন ৭৬ হাজার ৫১৩ জন।

◷ ১:৪৪ অপরাহ্ন ৷ শুক্রবার, মে ৮, ২০২০ আন্তর্জাতিক